বর্তমানে স্মার্টফোন ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে, ব্যবহৃত বা পুরনো ফোনটি বৈধ কিনা তা যাচাই করা কতটা জরুরি।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) অবৈধ ও নিবন্ধনবিহীন মোবাইল ফোনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাওয়ায় বিষয়টি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যদি আপনার ব্যবহৃত ফোনটি অবৈধ প্রমাণ হয়, তাহলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সঠিক নিয়ম অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই ফোনটি বৈধ করা সম্ভব।
এই পোস্টে আমরা সহজ ভাষায় জানবো ব্যবহৃত ফোনটি অবৈধ প্রমাণ হলে করণীয় কি এবং কীভাবে সমস্যার সমাধান করবেন।
ব্যবহৃত ফোনটি বৈধ কিনা যাচাই করার নিয়ম
ফোন ব্যবহারের আগে প্রথম কাজ হওয়া উচিত এর বৈধতা যাচাই করা। বিটিআরসি নির্ধারিত পদ্ধতিতে এটি করা খুবই সহজ।
ধাপসমূহ:
- ফোন থেকে *16161# ডায়াল করুন
- নির্দেশনা অনুযায়ী ফোনের ১৫ ডিজিটের IMEI নম্বর দিন
- কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরতি মেসেজে জানানো হবে ফোনটি বৈধ নাকি অবৈধ
IMEI নম্বর জানতে চাইলে *#06# ডায়াল করলেই স্ক্রিনে দেখা যাবে।
আরও পড়ুনঃ এনআইডি দিয়ে কয়টি মোবাইল নিবন্ধিত হয়েছে চেক করার নিয়ম
ব্যবহৃত ফোনটি অবৈধ প্রমাণ হলে করণীয় কি
যদি যাচাইয়ের পর দেখা যায় আপনার ব্যবহৃত ফোনটি অবৈধ বা নিবন্ধিত নয়, তাহলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।
১. IMEI নম্বর নিশ্চিত করুন
ফোনের IMEI নম্বর ঠিকভাবে মিলিয়ে নিন। একাধিক সিম থাকলে সব IMEI সংরক্ষণ করুন।
২. NEIR পোর্টালে আবেদন করুন
NEIR (National Equipment Identity Register) পোর্টালে গিয়ে ডিভাইস রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করতে হবে।
৩. প্রয়োজনীয় তথ্য দিন
- IMEI নম্বর
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর
- সক্রিয় মোবাইল নম্বর
- ফোন কেনার তথ্য বা রসিদ (যদি থাকে)
৪. ফি প্রদান (যদি প্রযোজ্য হয়)
কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি দিতে হতে পারে। আবেদন সাবমিট করার আগে বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
৫. যাচাই শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন
তথ্য যাচাই সম্পন্ন হলে ফোনটি বৈধ প্রমাণিত হলে আবার নেটওয়ার্কে সচল হবে।
কোন ক্ষেত্রে ফোনটি বৈধ নাও হতে পারে
সব ফোন বৈধ করা সম্ভব নয়। যেমন:
- চোরাই বা নকল ফোন
- ভুয়া IMEI যুক্ত ডিভাইস
- নিষিদ্ধ বা ব্ল্যাকলিস্টেড ফোন
এই ধরনের ফোন হলে নেটওয়ার্ক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ আনঅফিসিয়াল ফোন বৈধ করার নিয়ম
৫টি গুরুত্বপূর্ণ FAQs
হ্যাঁ, নির্দিষ্ট সময় পর নেটওয়ার্ক সংযোগ বন্ধ হতে পারে।
না, রেজিস্ট্রেশন না থাকলে পুরনো ফোনও অবৈধ হতে পারে।
না, IMEI ছাড়া ফোন নিবন্ধন সম্ভব নয়।
হ্যাঁ, ডুয়াল সিম ফোন হলে দুইটি IMEI রেজিস্ট্রেশন জরুরি।
সাধারণত কয়েক কার্যদিবসের মধ্যেই ফলাফল জানা যায়।
উপসংহার
ব্যবহৃত ফোন কেনার সময় বৈধতা যাচাই করা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। ব্যবহৃত ফোনটি অবৈধ প্রমাণ হলে করণীয় কি তা জানা থাকলে সহজেই সমস্যার সমাধান করা যায়।
তাই ফোন ব্যবহার করার আগে IMEI যাচাই করুন এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত NEIR পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন। এতে ভবিষ্যতের ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হবে।
আরও পড়ুনঃ স্মার্ট কার্ড হারিয়ে গেলে করণীয় কি? আবেদন ও সম্পূর্ণ গাইড
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


