বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় আরেকটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ যুক্ত হলো জমি ও দলিল নিবন্ধন ব্যবস্থায়। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দলিল ই-রেজিস্ট্রেশন সেবা চালু করেছে সরকার ঘোষণা দিয়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যে প্রক্রিয়াটি ছিল সময়সাপেক্ষ ও জটিল, সেটিকে সহজ ও স্বচ্ছ করতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ভোগান্তি, দালাল নির্ভরতা এবং অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছিল সাধারণ মানুষের বড় অভিযোগ। এসব সমস্যা দূর করতেই দলিল ই-রেজিস্ট্রেশন সেবা চালু করেছে সরকার, যা ডিজিটাল সফটওয়্যারের মাধ্যমে দলিল উপস্থাপন ও নিবন্ধনের সুযোগ তৈরি করবে।
এই নতুন ব্যবস্থার ফলে জমি ক্রয়-বিক্রয়, হেবা বা দান সংক্রান্ত দলিল নিবন্ধন আরও নিরাপদ হবে। একই সঙ্গে সময় ও খরচ দুটোই কমবে, যা নাগরিকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
Content Summary
দলিল ই-রেজিস্ট্রেশন কি?
দলিল ই-রেজিস্ট্রেশন হলো একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়া, যেখানে সরকার অনুমোদিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে দলিল জমা, যাচাই এবং নিবন্ধন করা যাবে। আগের মতো কাগজপত্র হাতে নিয়ে একাধিক দপ্তরে ঘুরতে হবে না।
এই পদ্ধতিতে দলিল প্রথমে অনলাইনে উপস্থাপন করা হবে। এরপর নির্ধারিত ফি, কর ও সার্ভিস চার্জ ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে।
যাচাই শেষে দলিলটি ডিজিটালি নিবন্ধিত হবে এবং তথ্য সরকারি ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে।
এর ফলে দলিল হারানো, জালিয়াতি বা তথ্য পরিবর্তনের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে। বিশেষ করে জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে এই ডিজিটাল রেকর্ড বড় ভূমিকা রাখবে।
কবে দলিল ই-রেজিস্ট্রেশন সেবা শুরু হচ্ছে?
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নিবন্ধন (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৬ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। অর্থাৎ দলিল ই-রেজিস্ট্রেশন সেবা চালু করেছে সরকার এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
এই অধ্যাদেশের আওতায় নিবন্ধন আইন ১৯০৮ সংশোধন করে নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে সরকার অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে দলিল নিবন্ধনের আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিস্তারিত বিধিমালা প্রকাশ করা হবে।
ধাপে ধাপে সারা দেশে এই সেবা পুরোপুরি চালু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ডি-নথি অ্যাপ কি? | D-Nothi সরকারি নথি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল যুগ
দলিল ই-রেজিস্ট্রেশন এর সুবিধা সমূহ কি কি
দলিল ই-রেজিস্ট্রেশন সেবার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সময় সাশ্রয়। আগে যেখানে একটি দলিল নিবন্ধনে একাধিক দিন লাগত, সেখানে এখন অনেক দ্রুত কাজ সম্পন্ন হবে।
দ্বিতীয়ত, স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। সব লেনদেন ডিজিটাল হওয়ায় ঘুষ, অনিয়ম ও দালাল চক্রের প্রভাব কমে যাবে। ফি ও কর নির্ধারিত নিয়মে আদায় হবে।
তৃতীয়ত, নিরাপত্তা বাড়বে। ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত দলিল সহজে নষ্ট বা পরিবর্তন করা যাবে না। ভবিষ্যতে জমি সংক্রান্ত যে কোনো যাচাই অনলাইনে করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষকে বাড়তি সুবিধা দেবে।
নিবন্ধনের জন্য ৩০ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিন এবং কিছু ক্ষেত্রে ৬ মাস পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুনঃ ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ২০২৬
হেবা ও দান দলিল নিবন্ধনে নতুন সুবিধা
নতুন সংশোধনের মাধ্যমে হেবা ও দান সংক্রান্ত দলিলও নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে।
মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী হেবা এবং হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ব্যক্তিগত আইনের অধীনে দান নিবন্ধনযোগ্য হবে।
এর ফলে পারিবারিক সম্পত্তি হস্তান্তরে আইনি স্বচ্ছতা বাড়বে।
ভবিষ্যতে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ করেছে।
কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা ও শাস্তির বিধান
অধ্যাদেশে নিবন্ধন কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা স্পষ্ট করা হয়েছে।
কোনো কর্মকর্তা যদি যথাযথ ফি বা কর আদায় না করে দলিল নিবন্ধন করেন, তাহলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে।
এ ক্ষেত্রে অনাদায়ী অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকেই আদায় করা হবে।
এতে করে দায়িত্বশীলতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ সঠিক সেবা পাবে।
আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন হারিয়ে গেলে করণীয় কি?
FAQs
হ্যাঁ, জমি ক্রয়-বিক্রয়, হেবা ও দান সংক্রান্ত সব বৈধ দলিল এই সেবার আওতায় আসবে।
হ্যাঁ, নতুন নিয়ম অনুযায়ী দলিল উপস্থাপনের সময়ই সব ফি ও কর পরিশোধ করতে হবে।
প্রাথমিক কাজ অনলাইনে হলেও যাচাই বা স্বাক্ষরের জন্য কিছু ক্ষেত্রে উপস্থিতি প্রয়োজন হতে পারে।
অধ্যাদেশ কার্যকর হয়েছে, ধাপে ধাপে সারা দেশে বাস্তবায়ন হবে।
হ্যাঁ, নিবন্ধন (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ বৈধ।
উপসংহার
সব মিলিয়ে বলা যায়, দলিল ই-রেজিস্ট্রেশন সেবা চালু করেছে সরকার সিদ্ধান্তটি জমি ব্যবস্থাপনায় একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন।
এটি নাগরিক সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও নিরাপদ করবে।
ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে দলিল নিবন্ধন বাস্তবায়িত হলে ভোগান্তি কমবে এবং দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় আস্থা বাড়বে।
ভবিষ্যতে এটি একটি আদর্শ ডিজিটাল সেবার উদাহরণ হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুনঃ স্মার্ট কার্ড হারিয়ে গেলে করণীয় কি? আবেদন ও সম্পূর্ণ গাইড
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


