দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি হাইকোর্টের নতুন রায়

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে হাইকোর্ট জানিয়েছে যে দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি যদি আইন অনুযায়ী আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমোদন থাকে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

কেউ বলছেন এটি ইসলামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কেউ বলছেন এতে পারিবারিক জটিলতা বাড়তে পারে। তাই বিষয়টি সহজভাবে বোঝা দরকার।

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি এই বক্তব্যটি শুধু সামাজিক আলোচনার বিষয় নয়, এটি এখন আইনি ব্যাখ্যারও অংশ।

আগে অনেকেই মনে করতেন প্রথম স্ত্রীর লিখিত সম্মতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে সেই ধারণার বড় পরিবর্তন এসেছে।

এই লেখায় আমরা সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করব নতুন রায়টি আসলে কী বলছে, আগের আইন কী ছিল, ইসলামের দৃষ্টিতে বিষয়টি কীভাবে দেখা হয় এবং ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জন্য এর প্রভাব কী হতে পারে।

দ্বিতীয় বিয়ে মানে কি?

দ্বিতীয় বিয়ে বলতে একজন বিবাহিত ব্যক্তি তার প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় আরেকটি বিবাহ করা বোঝায়।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

বাংলাদেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই আলোচনা মুসলিম পারিবারিক আইনের আওতায় আসে কারণ ইসলাম একাধিক বিয়ের সুযোগ দিয়েছে নির্দিষ্ট শর্তে।

তবে সমাজে এই বিষয়টি অনেক সময় সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

অনেক পরিবারে দ্বিতীয় বিয়ে মানেই পারিবারিক অশান্তি, মানসিক কষ্ট এবং আর্থিক টানাপোড়েনের আশঙ্কা তৈরি হয়।

তাই আইনের পাশাপাশি সামাজিক দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আইন শুধু অনুমতি দেয়, কিন্তু বাস্তব জীবনে এর প্রভাব অনেক গভীর হয়।

বাংলাদেশে দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে কিছু আইনি প্রক্রিয়া ছিল। পুরুষ চাইলে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারত, তবে তাকে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হতো।

সেই নিয়মের কেন্দ্রেই এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ৩৯৯ টাকায় ২০ এমবিপিএস BTCL জিপন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ নেওয়ার নিয়ম

কেন দ্বিতীয় বিয়ে করতে স্ত্রীর অনুমতি লাগে

অনেকদিন ধরে মানুষের মধ্যে একটি ধারণা ছিল যে দ্বিতীয় বিয়ের আগে অবশ্যই প্রথম স্ত্রীর অনুমতি লাগবে।

এই ধারণার পেছনে ছিল ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ।

সেখানে বলা হয়েছিল, স্বামী যদি দ্বিতীয় বিয়ে করতে চান, তাহলে তাকে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের কাছে আবেদন করতে হবে এবং সেই আবেদনে প্রথম স্ত্রীর মতামত থাকতে হবে।

এই নিয়মের উদ্দেশ্য ছিল প্রথম স্ত্রীর অধিকার রক্ষা করা। যাতে স্বামী ইচ্ছামতো আরেকটি বিয়ে করে পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।

তাই অনেক মানুষ ধরে নিয়েছিলেন স্ত্রীর সম্মতি না থাকলে দ্বিতীয় বিয়ে আইনত সম্ভব নয়।

কিন্তু আইনের ভাষা আর মানুষের বোঝার মধ্যে পার্থক্য ছিল।

আইন আসলে বলেছিল আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি দরকার, স্ত্রীর অনুমতি নয়। হাইকোর্টের রায়ে সেই বিষয়টিই স্পষ্ট করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নিয়ম

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি কেন কিভাবে

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে যে মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি কোথাও লেখা নেই যে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না।

বরং সেখানে বলা আছে, স্বামীকে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হবে। এই কাউন্সিল পরিস্থিতি বিচার করে সিদ্ধান্ত নেবে বিয়ে করার যুক্তিসংগত কারণ আছে কি না।

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি এই কথাটার মানে এই নয় যে প্রথম স্ত্রীর কোনো মতামত থাকবে না।

আরবিট্রেশন কাউন্সিল তার বক্তব্য শুনতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি স্ত্রীর হাতে নয়, বরং আইনি কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে।

এই রায়ের মাধ্যমে আদালত পুরোনো আইনের ভুল ব্যাখ্যা পরিষ্কার করেছে। আগে অনেক জায়গায় মনে করা হতো স্ত্রীর লিখিত সম্মতি না থাকলে বিয়ে অবৈধ হবে।

এখন বলা হচ্ছে, মূল বিষয় হলো আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমোদন।

আরও পড়ুনঃ আর কখনো ইন্টারনেট বন্ধ হবে না বাংলাদেশে

দ্বিতীয় বিয়েতে ইসলামের বিধান

ইসলাম পুরুষকে চারটি পর্যন্ত বিয়ের অনুমতি দিয়েছে, তবে কঠোর শর্তের সঙ্গে।

কোরআনে বলা হয়েছে, যদি একাধিক স্ত্রীর মধ্যে ন্যায়বিচার করা সম্ভব না হয়, তবে একটিতেই সীমাবদ্ধ থাকা উত্তম। অর্থাৎ শুধু ইচ্ছা হলেই দ্বিতীয় বিয়ে করা ইসলামের দৃষ্টিতে সঠিক নয়।

ইসলামে দ্বিতীয় বিয়ে অনেক সময় সামাজিক বা পারিবারিক সমস্যার সমাধান হিসেবেও দেখা হয়, যেমন নিঃসন্তানতা বা বিশেষ কোনো পরিস্থিতি।

কিন্তু সেই সঙ্গে দায়িত্বও বেড়ে যায়। সব স্ত্রী ও সন্তানদের সমানভাবে ভরণপোষণ ও সম্মান দেওয়া ফরজ।

বাংলাদেশের আইন মূলত ইসলামের এই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি হয়েছে।

তাই আদালতের রায়ও ইসলামী বিধানের বাইরে গিয়ে নয়, বরং আইনের সঠিক ব্যাখ্যার মধ্যেই দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ জিপি ১ পয়সা কলরেট অফার ৩৬৫ দিন মেয়াদ

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

দ্বিতীয় বিয়ে করতে কি এখন আর কোনো অনুমতি লাগবে না?

না, আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি লাগবেই। শুধু প্রথম স্ত্রীর সরাসরি সম্মতি বাধ্যতামূলক নয়।

প্রথম স্ত্রী কি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে পারবেন?

হ্যাঁ, তিনি আরবিট্রেশন কাউন্সিলে নিজের বক্তব্য ও আপত্তি জানাতে পারবেন।

অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে কী হবে?

আইন অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে জরিমানা বা কারাদণ্ড হতে পারে।

এই রায় কি ইসলামের বিরুদ্ধে?

না, এই রায় ইসলামের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আইনের ব্যাখ্যা দিয়েছে।

এই রায়ের বিরুদ্ধে কি আপিল হয়েছে?

হ্যাঁ, কিছু পক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে।

উপসংহার

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি এই কথাটি অনেকের কাছে নতুন এবং চমকপ্রদ লাগলেও এটি আসলে আইনের পুরোনো নিয়মের একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা মাত্র।

হাইকোর্ট বলেছে, সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু হবে আরবিট্রেশন কাউন্সিল, কোনো এক পক্ষের ব্যক্তিগত সম্মতি নয়।

এই রায়ের ফলে হয়তো কিছু সামাজিক বিতর্ক তৈরি হবে, তবে আইনগত দিক থেকে বিষয়টি এখন আরও পরিষ্কার হয়েছে।

ভবিষ্যতে যারা দ্বিতীয় বিয়ের কথা ভাববেন, তাদের এই আইনি প্রক্রিয়া ভালোভাবে জেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুনঃ সকল সিমের টাকা কাটা বন্ধ করার কোড – সহজ সমাধান

এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের  ফেসবুক পেজ।

WhatsApp Group Join Now
WhatsApp Group 1 Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Comment