বাংলাদেশের শহর ও আধা-শহর এলাকায় এখন ই-রিকশা একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় যান। কম খরচে যাতায়াত, ধোঁয়ামুক্ত চলাচল এবং সহজলভ্যতার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
তবে এতদিন ই-রিকশা নিয়ে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণের অভাব। এই জায়গাতেই নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের নকশায় তৈরি দেশের প্রথম স্ট্যান্ডার্ড ই-রিকশা।
এই লেখায় আমরা জানব ই-রিকশা কি, বুয়েটের তৈরি ই-রিকশার বৈশিষ্ট্য, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে এর প্রভাব কী হতে পারে।
ই-রিকশা কি?

ই-রিকশা হলো বিদ্যুৎচালিত একটি তিন চাকার যান, যা ব্যাটারি ও ইলেকট্রিক মোটরের মাধ্যমে চলে। এটি সাধারণ রিকশার মতোই যাত্রী পরিবহন করে, তবে এতে প্যাডেল নেই। চালককে কেবল স্টিয়ারিং ও এক্সিলারেটর নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
ই-রিকশার মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো
- বিদ্যুৎচালিত, জ্বালানি তেল লাগে না
- ধোঁয়া ও শব্দ দূষণ নেই
- স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য উপযোগী
- তুলনামূলক কম ভাড়ায় চলাচল সম্ভব
বুয়েটের নকশায় তৈরি ই-রিকশার বিশেষত্ব
বুয়েটের প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে তৈরি এই ই-রিকশা প্রচলিত ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে অনেকটাই আলাদা।
উন্নত ও ভারসাম্যপূর্ণ নকশা
চ্যাসিস ও বডি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে হঠাৎ ব্রেক বা বাঁক নেওয়ার সময় উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
নিরাপদ গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
এই ই-রিকশায় স্পিড লিমিটার ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত গতির বেশি চালানো সম্ভব নয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাবে।
মানসম্মত ব্যাটারি ও মোটর
- উন্নত প্রযুক্তির ব্যাটারি
- কম বিদ্যুৎ খরচে বেশি কার্যক্ষমতা
- আগুন লাগার ঝুঁকি তুলনামূলক কম
যাত্রীবান্ধব বসার ব্যবস্থা
আরামদায়ক সিট, পর্যাপ্ত লেগ স্পেস এবং মজবুত ছাদ থাকায় যাত্রীরা স্বস্তিতে ভ্রমণ করতে পারবেন।
পরিবেশবান্ধব যান
- কোনো ধোঁয়া নেই
- শব্দ দূষণ নেই
- কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য
আরও পড়ুনঃ টেলিটক ই সিম কি? কোথায় পাওয়া যাবে: দাম, কেনার নিয়ম
কেন এই ই-রিকশা গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে দেশে লাখো ই-রিকশা চলাচল করছে, যার বড় একটি অংশ অননুমোদিত ও মানহীন। এর ফলে
- সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে
- বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে
- যাত্রী ও চালকের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে
বুয়েটের নকশায় তৈরি স্ট্যান্ডার্ড ই-রিকশা চালু হলে এই সমস্যাগুলোর একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পাওয়া সম্ভব।
সরকারের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মডেলটি সফল হলে
- সারা দেশে ধাপে ধাপে চালু করা যাবে
- নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আওতায় আনা সহজ হবে
- অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে
এর ফলে শহরের যানজট ও দুর্ঘটনা উভয়ই কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভবিষ্যতে কী আশা করা যায়?
বুয়েটের নকশায় তৈরি ই-রিকশা শুধু একটি যান নয়। এটি
- দেশের নিজস্ব প্রযুক্তির সক্ষমতার প্রমাণ
- নিরাপদ গণপরিবহনের নতুন দিগন্ত
- পরিবেশবান্ধব শহর গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ
হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন চেক করার সহজ উপায়
FAQs (প্রশ্নোত্তর)
হ্যাঁ, স্ট্যান্ডার্ড নকশা ও স্পিড কন্ট্রোল থাকলে ই-রিকশা তুলনামূলক বেশি নিরাপদ।
না, এটি বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।
উন্নত ব্যাটারির কারণে বিদ্যুৎ খরচ কম এবং কার্যক্ষমতা বেশি।
ভবিষ্যতে স্ট্যান্ডার্ড মডেল চালু হলে অননুমোদিত ই-রিকশা ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণে আনা হতে পারে।
এটি সম্পূর্ণ ধোঁয়ামুক্ত এবং শব্দ দূষণহীন, তাই পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
উপসংহার
বাংলাদেশে বুয়েটের নকশায় প্রথম স্ট্যান্ডার্ড ই-রিকশা চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ।
এটি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ পাবে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা। পাশাপাশি দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাড়বে।
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।



Undoubtedly a good initiative. I wish it’s success.
আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য ধন্যবাদ