বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সরকারি সেবাকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে একের পর এক অনলাইন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে চালু হয়েছে ই টিকিটিং সেবা কি বিষয়ক আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থা। এই সেবার মাধ্যমে এখন আর টিকিট কাটার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করতে হয় না।
ই টিকিটিং সেবা কি মূলত এমন একটি অনলাইন ব্যবস্থা, যেখানে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করে ঘরে বসেই বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান, পর্যটন স্পট কিংবা সরকারি সেবার টিকিট সংগ্রহ করা যায়। এতে সময় বাঁচে, হয়রানি কমে এবং পুরো প্রক্রিয়া থাকে স্বচ্ছ।
বর্তমানে মাইগভ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশে ই টিকিটিং সেবা ধাপে ধাপে চালু হচ্ছে।
লালবাগ কেল্লা, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানসহ একাধিক স্থানে এই সেবা ইতোমধ্যেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
Content Summary
ই টিকিটিং সেবা কি?
ই টিকিটিং সেবা কি, এটি বুঝতে হলে প্রথমেই জানতে হবে এর মূল ধারণা। ই টিকিটিং হলো ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থা, যেখানে কাগজের টিকিটের পরিবর্তে অনলাইনে টিকিট ইস্যু করা হয়।
এই সেবায় টিকিট কেনার পর একটি ডিজিটাল কপি বা কিউআর কোড পাওয়া যায়, যা মোবাইলেই সংরক্ষণ করা যায়। প্রবেশের সময় সেই কিউআর কোড স্ক্যান করলেই কাজ শেষ। এতে টিকিট হারানোর ঝুঁকি থাকে না।
বাংলাদেশে এই সেবাটি মূলত মাইগভ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চালু হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আদায় সহজ হয়েছে এবং টিকিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এসেছে।
দর্শনার্থীদের জন্য এটি একটি বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করছে।
ই টিকিটিং সেবা কিভাবে কাজ করে
ই টিকিটিং সেবা কিভাবে কাজ করে, সেটি জানলে ব্যবহার করা আরও সহজ হয়। প্রথমে ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হয়, যেমন eticketing.mygov.bd।
সেখানে গন্তব্য বা দর্শনীয় স্থান নির্বাচন করার পর টিকিটের সংখ্যা নির্ধারণ করতে হয়। এরপর অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করলে সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল টিকিট ইস্যু হয়।
এই টিকিটে থাকা কিউআর কোড বা রেফারেন্স নম্বর ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে।
প্রবেশের সময় স্ক্যান করলেই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য যাচাই করে প্রবেশের অনুমতি দেয়। এতে জাল টিকিট বা অনিয়মের সুযোগ থাকে না।
আরও পড়ুনঃ জিপি মিনিট অফার ৩৬৫ দিন মেয়াদ
ই টিকিটিং ব্যাবহার করে কিভাবে টিকিট কাটবেন
ই টিকিটিং ব্যাবহার করে কিভাবে টিকিট কাটবেন, সেটি জানা থাকলে প্রথমবারেও সমস্যা হবে না। প্রথম ধাপে আপনাকে মাইগভ ই টিকিটিং ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।
এরপর আপনার পছন্দের স্থান নির্বাচন করে নির্ধারিত তারিখ বেছে নিতে হবে। টিকিটের সংখ্যা ঠিক করার পর পেমেন্ট অপশনে গিয়ে বিকাশ, নগদ, রকেট বা অন্যান্য অনলাইন পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করে টাকা পরিশোধ করতে হবে।
পেমেন্ট সম্পন্ন হলে আপনার মোবাইল বা ইমেইলে ডিজিটাল টিকিট চলে আসবে।
সেই টিকিট নির্ধারিত দিনে দেখালেই প্রবেশ করা যাবে, আলাদা করে কাউন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
ই টিকিটিং সেবা কিভাবে পাওয়া যাবে
ই টিকিটিং সেবা কিভাবে পাওয়া যাবে, সেটিও অনেকের সাধারণ প্রশ্ন। বর্তমানে এই সেবা পাওয়া যাচ্ছে মাইগভের নির্ধারিত ই টিকিটিং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।
যেসব পর্যটন স্পটে ই টিকিটিং চালু হয়েছে, সেগুলোর তালিকা ওয়েবসাইটেই দেখা যায়।
ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য দর্শনীয় স্থান, সাফারি পার্ক, সুন্দরবন এবং জাতীয় চিড়িয়াখানায়ও এই সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
ভবিষ্যতে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও এই সেবা আরও সহজভাবে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নাগরিকদের জন্য আরও সুবিধাজনক হবে।
আরও পড়ুনঃ ট্রেড লাইসেন্স ফি তালিকা ২০২৬ — সব তথ্য এক জায়গায়
ই টিকিটিং সেবা চালুর উদ্দেশ্য
ই টিকিটিং সেবা চালুর উদ্দেশ্য মূলত নাগরিকদের হয়রানি কমানো এবং সেবাকে ডিজিটাল করা।
আগে টিকিট কাটতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হতো, যা সময় ও শ্রম দুটোই নষ্ট করত।
এই সেবার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা এসেছে। প্রতিটি টিকিট বিক্রির তথ্য ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকায় অনিয়মের সুযোগ কমেছে।
এছাড়া দর্শনার্থীদের তথ্য সংরক্ষণের ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও শক্তিশালী হয়েছে। সার্বিকভাবে এটি একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক সেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।
ই টিকিটিং এর সুবিধা
ই টিকিটিং এর সুবিধা অনেক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সময় সাশ্রয়। ঘরে বসেই টিকিট কাটা যায় বলে আলাদা করে ভ্রমণের প্রয়োজন পড়ে না।
এতে কাগজের ব্যবহার কমে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা তৈরি হয়।
পাশাপাশি টিকিট হারানোর ঝুঁকিও থাকে না, কারণ সবকিছু ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বচ্ছতা।
প্রতিটি লেনদেন রেকর্ডে থাকায় দুর্নীতি ও জালিয়াতির সুযোগ অনেক কমে যায়।
আরও পড়ুনঃ অনলাইনে টিকিট কাটার অ্যাপস: বাস, ট্রেন ও বিমান টিকিট বুকিং সহজ গাইড
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি (FAQs)
বর্তমানে মূলত পর্যটন ও দর্শনীয় স্থানে ব্যবহৃত হচ্ছে, তবে ভবিষ্যতে আরও সরকারি সেবায় যুক্ত হতে পারে।
না, ডিজিটাল টিকিট বা কিউআর কোডই যথেষ্ট।
কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ তথ্য দিয়ে টিকিট কাটা যায়, আবার কিছু সেবায় লগইন প্রয়োজন হতে পারে।
সাধারণত নির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে টাকা ফেরতের ব্যবস্থা থাকতে পারে।
হ্যাঁ, সরকারি প্ল্যাটফর্ম হওয়ায় এটি নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য।
উপসংহার
ই টিকিটিং সেবা কি এই প্রশ্নের উত্তর এখন অনেকটাই পরিষ্কার। এটি একটি আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থা, যা নাগরিক সেবাকে সহজ ও ঝামেলামুক্ত করেছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে ই টিকিটিং একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
সময়, শ্রম ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি এটি স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা যায়।
আরও পড়ুনঃ মোবাইলে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


