বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। হাজার হাজার তরুণ ঘরে বসে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন।
এই ফ্রিল্যান্সারদের পেশাগত স্বীকৃতি দিতে সরকার চালু করেছে ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড। অনেকেই জানতে চান, ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড করার নিয়ম কী, কারা এই কার্ড পাবেন এবং আবেদন করতে কী লাগে।
আজকের পোস্টে ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড কি এবং এই বিষয়গুলো সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
Content Summary
ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড কি?
ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড হলো সরকারের দেওয়া একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র, যা প্রমাণ করে আপনি একজন নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সার। এই কার্ড তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ পরিচালিত একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইস্যু করা হয়। এটি মূলত একটি ডিজিটাল কার্ড হলেও ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কাজে ব্যবহার করা যাবে।
কাদের জন্য ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড
এই আইডি কার্ড সবার জন্য নয়। যারা নিয়মিত অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করেন এবং বাস্তব আয় আছে, মূলত তাদের জন্য এই কার্ড চালু করা হয়েছে।
যারা Upwork, Fiverr, Freelancer, PeoplePerHour বা সরাসরি ক্লায়েন্টের মাধ্যমে কাজ করেন, তারা এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড করার নিয়ম
ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড করার জন্য প্রথমে আপনাকে সরকার নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করতে হবে। সেখানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, কাজের প্রমাণ এবং আয়ের ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে।
সঠিক তথ্য যাচাই শেষে আবেদন অনুমোদিত হলে আপনাকে একটি ডিজিটাল ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। ভুল বা ভুয়া তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ এখন স্কিটো দিচ্ছে ১ সেকেন্ড পালস কল রেট
আবেদন করার যোগ্যতা
ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে—
- গত এক বছরে ফ্রিল্যান্সিং করে কমপক্ষে ৫০ মার্কিন ডলার আয়
- বৈধ মার্কেটপ্লেস প্রোফাইল বা ক্লায়েন্টের প্রমাণ
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
- সচল মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা
এই শর্তগুলো পূরণ না হলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
ফ্রিল্যান্সার কার্ডের জন্য আবেদন করতে কি কি লাগবে
আবেদন করার সময় সাধারণত নিচের তথ্য ও ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়—
- জাতীয় পরিচয়পত্রের স্ক্যান কপি বা ছবি
- ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস প্রোফাইল লিংক
- আয়ের স্ক্রিনশট বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট
- ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ (ইমেইল/ওয়ার্ক অর্ডার)
- ইমেইল ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর
সব তথ্য পরিষ্কার ও সত্য হতে হবে।
আরও পড়ুনঃ জিপি মিনিট অফার ৩০ দিন
আবেদন করতে টাকা লাগবে কি?
না, ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। সরকার এই সেবার জন্য কোনো ফি নিচ্ছে না। কেউ টাকা দাবি করলে সেটি ভুয়া বলে ধরে নিতে পারেন।
ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের সুবিধা
এই আইডি কার্ডের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সাররা যেসব সুবিধা পাবেন,
- ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবায় সহজ স্বীকৃতি
- ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড সুবিধা নেওয়ার সুযোগ
- সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার
- ভবিষ্যতে সরকারি প্রণোদনা পাওয়ার সম্ভাবনা
এছাড়াও এটি একটি জাতীয় ফ্রিল্যান্সার ডেটাবেজ হিসেবে কাজ করবে।
আরও পড়ুনঃ জিপি বান্ডেল অফার ৩০ দিন মেয়াদ
FAQs – ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্ন
না, বাধ্যতামূলক নয়। তবে থাকলে অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে।
হ্যাঁ, যদি নির্ধারিত আয় ও যোগ্যতা পূরণ করেন।
বর্তমানে এটি ডিজিটাল কার্ড, তবে ভবিষ্যতে প্রিন্ট সুবিধা আসতে পারে।
না, বরং আয়ের প্রমাণ থাকলে সুবিধা হবে।
ডকুমেন্ট যাচাই শেষে সাধারণত কয়েক কার্যদিবসের মধ্যেই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
উপসংহার
ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড করার নিয়ম জানা থাকলে আবেদন করা খুবই সহজ।
এটি শুধু একটি কার্ড নয়, বরং ফ্রিল্যান্সারদের পেশাগত স্বীকৃতির একটি বড় পদক্ষেপ।
যারা নিয়মিত ফ্রিল্যান্সিং করেন, তাদের জন্য এই কার্ড ভবিষ্যতে অনেক দরজা খুলে দিতে পারে।
আরও পড়ুনঃ একটি এনআইডিতে কতটি সিম কার্ড থাকবে
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


