বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসে গণভোট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এই গণভোটের মাধ্যমে সরাসরি জনগণের মতামত নেওয়া হবে, যা রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
এই পোস্টে আমরা জানবো গণভোট কি, কেন গণভোট হবে, গণভোট কিভাবে হবে এবং গণভোটে কী কী বিষয় থাকবে।
Content Summary
গণভোট কি?
গণভোট হলো এমন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে দেশের ভোটাররা সরাসরি কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত বা সাংবিধানিক বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে মতামত দেন। সাধারণ নির্বাচনে যেখানে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়, সেখানে গণভোটে জনগণ নিজেরাই সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেয়।
সহজ ভাষায় বললে, গণভোট মানে হলো জনগণের সরাসরি রায় নেওয়া।
কেন গণভোট হবে?
এবার গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলোতে জনগণের সম্মতি নেওয়ার জন্য।
সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মতে,
- সংবিধানের বড় ধরনের সংস্কার
- সংসদের কাঠামোগত পরিবর্তন
- রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন
এই বিষয়গুলোতে জনগণের সরাসরি সম্মতি নেওয়া গণতান্ত্রিকভাবে প্রয়োজন। সে কারণেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দলিল ই-রেজিস্ট্রেশন সেবা চালু করেছে সরকার
গণভোট কিভাবে হবে?
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী,
- গণভোট অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একই দিনে
- ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে
- ভোটগ্রহণ শেষ হবে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে
- ভোটাররা একসঙ্গে দুটি ব্যালট পেপার পাবেন
- একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য
- অন্যটি গণভোটের জন্য
- গণভোটের ব্যালট পেপার হবে গোলাপি রঙের
ভোটাররা নির্ধারিত প্রশ্নের উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট প্রদান করবেন।
আরও পড়ুনঃ মোবাইল ফোন ডি-রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম
গণভোটে কি থাকবে?
গণভোটে ভোটারদের সামনে যে প্রশ্নটি থাকবে তা হলো,
“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবসমূহের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?”
এই গণভোটের আওতায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে,
- নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদ অনুযায়ী গঠন
- আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট
- উচ্চকক্ষে থাকবে ১০০ সদস্য
- সংবিধান সংশোধনের জন্য উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন
- সংসদে নারী প্রতিনিধির সংখ্যা বৃদ্ধি
- বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
- মৌলিক অধিকার শক্তিশালী করা
- স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার
- প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সংশোধনসহ মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব
প্রতিটি প্রস্তাবের বিষয়ে ভোটাররা সম্মতি বা অসম্মতি জানাবেন।
আরও পড়ুনঃ এনআইডি দিয়ে কয়টি মোবাইল নিবন্ধিত হয়েছে চেক করার নিয়ম
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
হ্যাঁ, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে গেলে গণভোটের ব্যালটও প্রদান করা হবে।
ব্যালট পেপারে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ চিহ্ন দিয়ে ভোট দিতে হবে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
এটি নাগরিক অধিকার, অংশগ্রহণ ঐচ্ছিক।
খুব সীমিতভাবে হয়েছে, তবে এ ধরনের ব্যাপক গণভোট বিরল।
উপসংহার
গণভোট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে জনগণের সরাসরি মতামত নেওয়া নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।
সঠিকভাবে গণভোট বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।
আরও পড়ুনঃ আনঅফিসিয়াল ফোন বৈধ করার নিয়ম
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


