২০ টাকায় আবেদন, ১০ দিনে নিষ্পত্তি, গ্রাম আদালতে বাড়ছে মানুষের আস্থা

বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগণের জন্য স্বল্প খরচে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে গ্রাম আদালত। মাত্র ২০ টাকায় আবেদন করে কয়েক দিনের মধ্যেই বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আদালত নিয়ে আস্থা বাড়ছে দিন দিন।

যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাস্তব চিত্র বলছে, উচ্চ আদালতে বছরের পর বছর ঘুরতে না হয়ে এখন গ্রামের মানুষ ইউনিয়ন পরিষদেই পাচ্ছেন দ্রুত বিচার ও ক্ষতিপূরণ।

বিশেষ করে পাওনা টাকা, জমি বিরোধ, ছোটখাটো মারামারি, প্রতারণা কিংবা খোরপোষের মতো মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় গ্রাম আদালত হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গা।

স্বল্প খরচে দ্রুত বিচার পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ

যশোরের কেশবপুর উপজেলার ব্যবসায়ী জাহিদুর রহমান শিমুল দীর্ঘদিন স্থানীয় সালিশ করেও তার পাওনা এক লাখ টাকা ফেরত পাননি। পরে গ্রাম আদালতে মাত্র ২০ টাকা ফি দিয়ে আবেদন করে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি টাকা ফিরে পান।

তার ভাষায়, আদালতে গেলে হাজার হাজার টাকা খরচ হতো, কিন্তু গ্রাম আদালতে খুব কম খরচেই বিচার পেয়েছেন। শুধু শিমুল নন, জেলার অনেক সাধারণ মানুষ এখন একই ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন।

চৌগাছার আলম খানও মাত্র ১০০ টাকা খরচে ৪০ হাজার টাকার পাওনা আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন। এতে নতুন করে ব্যবসা শুরু করার সাহস পেয়েছেন তিনি।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

গ্রাম আদালতে কোন ধরনের মামলা নিষ্পত্তি হয়

গ্রাম আদালতে সাধারণত ছোট ও স্থানীয় পর্যায়ের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার বিচার করা হয়।

দেওয়ানি মামলার মধ্যে রয়েছে

  • পাওনা টাকা আদায়
  • জমি দখল
  • অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধার
  • খোরপোষ
  • কৃষি শ্রমিকের মজুরি
  • ফসলের ক্ষতিপূরণ

অন্যদিকে ফৌজদারি মামলার মধ্যে রয়েছে

  • ছোটখাটো মারামারি
  • চুরি
  • প্রতারণা
  • হুমকি
  • যাতায়াতে বাধা
  • গবাদি পশু সংক্রান্ত বিরোধ

এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির কারণে স্থানীয় মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ ফিজিক্যালি সিম ও ই-সিমের মধ্যে পার্থক্য কি? কোনটি ভালো

৬ মাসে দুই হাজারের বেশি মামলার নিষ্পত্তি

বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে যশোর জেলার ৯৩টি ইউনিয়নে মোট ২ হাজার ৪৯টি মামলা দায়ের হয়।

এর মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে প্রায় ৪২ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণও আদায় করে দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে গড়ে সময় লাগছে মাত্র ১০ দিন।

আদালতের চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোটখাটো বিরোধ গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তি হওয়ায় উচ্চ আদালতের মামলার চাপ কমছে।

এতে একদিকে বিচারপ্রার্থীর ভোগান্তি কমছে, অন্যদিকে দীর্ঘসূত্রিতাও হ্রাস পাচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এলাকার মানুষকে ভালোভাবে চেনেন বলে অনেক ক্ষেত্রে সমঝোতা ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা সহজ হয়।

আরও পড়ুনঃ অনলাইন ইনকামের উপর ৭.৫% কর কার্যকর?

কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে

সাফল্যের পাশাপাশি গ্রাম আদালতের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। অনেক সময় রাজনৈতিক চাপ, প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপ কিংবা বিবাদী পক্ষের অনুপস্থিতির কারণে বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।

এছাড়া সব ইউনিয়নে নির্বাচিত চেয়ারম্যান না থাকায় কিছু এলাকায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরও প্রচার, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে গ্রাম আদালত দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ন্যায়বিচারের আরও বড় মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

উপসংহার

স্বল্প খরচ, দ্রুত বিচার এবং স্থানীয় পর্যায়ে সহজ সেবা পাওয়ার কারণে গ্রাম আদালত এখন সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গায় পরিণত হচ্ছে।

মাত্র ২০ টাকায় আবেদন করে কয়েক দিনের মধ্যেই বিচার পাওয়ার সুযোগ দেশের প্রান্তিক মানুষের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।

সঠিক তদারকি ও কার্যকর উদ্যোগ থাকলে ভবিষ্যতে গ্রাম আদালত বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আরও পড়ুনঃ টাওয়ার ছাড়াই মোবাইলে ইন্টারনেট, স্টারলিংকের সেবা নিয়ে এলো বাংলালিংক

এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

WhatsApp Group Join Now
WhatsApp Group 1 Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Comment