বাংলাদেশের মসজিদভিত্তিক ধর্মীয় সেবায় যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তাদের মধ্যে ইমাম ও মুয়াজ্জিন সবচেয়ে সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন কত এবং সরকারিভাবে তাদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট কাঠামো আছে কি না।
অবশেষে সেই প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর পাওয়া গেছে সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন কত হবে তা জাতীয় বেতন স্কেলের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর ফলে মসজিদভিত্তিক এই পেশায় দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই লেখায় আমরা সহজ ভাষায় জানবো ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন কাঠামো ২০২৬, বেতন প্রদানের পদ্ধতি, দায়িত্ব ও করণীয় বিষয়গুলো।
Content Summary
ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন কাঠামো ২০২৬
ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের নতুন নীতিমালায় প্রথমবারের মতো জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আনা হয়েছে।
সরকারি গেজেট অনুযায়ী মসজিদের জনবলকে গ্রেডভিত্তিক শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তাদের পেশাগত মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী সিনিয়র পেশ ইমাম ৫ম গ্রেড, পেশ ইমাম ৬ষ্ঠ গ্রেড এবং সাধারণ ইমাম ৯ম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
অন্যদিকে প্রধান মুয়াজ্জিন ১০ম গ্রেড এবং সাধারণ মুয়াজ্জিন ১১তম গ্রেডে বেতন পাবেন। জাতীয় স্কেলে ৫ম গ্রেডের মূল বেতন শুরু হয় প্রায় ৪৩ হাজার টাকা থেকে, যার সঙ্গে বিভিন্ন ভাতা যুক্ত হয়।
ফলে অভিজ্ঞ ইমামদের মাসিক আয় আগের তুলনায় অনেক বেশি হবে।
ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন কত
অনেকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো বাস্তবে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন কত হতে পারে। যদিও এটি গ্রেড, অভিজ্ঞতা এবং মসজিদের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হবে, তবুও একটি ধারণা পাওয়া যায় জাতীয় বেতন স্কেল থেকে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ৯ম গ্রেডভুক্ত ইমামরা প্রাথমিকভাবে প্রায় ২২ হাজার টাকার কাছাকাছি মূল বেতন পাবেন।
প্রধান মুয়াজ্জিনরা ১০ম গ্রেড অনুযায়ী প্রায় ১৯ হাজার টাকা থেকে বেতন শুরু করতে পারেন।
এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা যোগ হলে মোট বেতন আরও বাড়বে।
তবে খতিবদের ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণ করা হবে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে।
আরও পড়ুনঃ আ.লীগের স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বনাম বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড কোনটি নিবেন
কিভাবে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন দেয়া হবে
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী বেতন প্রদানের পদ্ধতিও পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি ও মডেল মসজিদগুলোতে কর্মরত ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা সরাসরি সরকারি তহবিল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেতন পাবেন।
অন্যদিকে পাড়া-মহল্লা বা গ্রামভিত্তিক বেসরকারি মসজিদগুলোর ক্ষেত্রে এই বেতন কাঠামো একটি আদর্শ নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।
এসব মসজিদে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতন প্রদানের মূল দায়িত্ব থাকবে স্থানীয় মসজিদ কমিটির ওপর।
সরকার তাদেরকে এই কাঠামো অনুসরণে উৎসাহিত করছে, যাতে দেশজুড়ে একটি সমতা বজায় থাকে।
ইমাম সাহেব কত টাকা বেতন পাবেন
নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুযায়ী মসজিদের ইমামদের বেতন গ্রেডভিত্তিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ ইমামরা জাতীয় বেতন স্কেলের ৯ম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
এই গ্রেডে মূল বেতন শুরু হয় প্রায় ২২ হাজার টাকা থেকে, যার সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য সরকারি ভাতা যুক্ত হলে মোট মাসিক আয় আরও বাড়তে পারে।
অভিজ্ঞতা ও পদমর্যাদা অনুযায়ী পেশ ইমাম বা সিনিয়র পেশ ইমামরা ৬ষ্ঠ বা ৫ম গ্রেডে বেতন পেতে পারেন, যেখানে মোট বেতন ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আরও পড়ুনঃ আজকের স্বর্ণের দাম কত টাকা
মুয়াজ্জিন সাহেব কত টাকা বেতন পাবেন
মুয়াজ্জিনদের বেতনও নতুন নীতিমালায় গ্রেড অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধান মুয়াজ্জিনরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১০ম গ্রেডে এবং সাধারণ মুয়াজ্জিনরা ১১তম গ্রেডে বেতন পাবেন।
১০ম গ্রেডে মূল বেতন প্রায় ১৯ হাজার টাকা এবং ১১তম গ্রেডে প্রায় ১৭ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়। এর সঙ্গে বিভিন্ন ভাতা যোগ হলে মোট মাসিক বেতন আরও কিছুটা বাড়বে।
তবে বেসরকারি বা স্থানীয় মসজিদে এই কাঠামো অনুসরণ করা হলেও চূড়ান্ত বেতন নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর।
ইমাম ও মুয়াজ্জিনের করনীয় কি
নতুন বেতন কাঠামোর পাশাপাশি ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা। কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা যাবে না।
এছাড়া মুসল্লি ও এলাকার মানুষের নৈতিক ও ধর্মীয় উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত থাকা, অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত না থাকা এবং দায়িত্ব পালনে সচেতন থাকা বাধ্যতামূলক।
এই নিয়মগুলো মানা না হলে শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ দেশে গ্যাস সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা: কারণ কি?
FAQs
গ্রেডভিত্তিক কাঠামো অনুযায়ী ইমামরা ৯ম গ্রেড এবং মুয়াজ্জিনরা ১০ম বা ১১তম গ্রেডে বেতন পাবেন। ভাতাসহ মোট বেতন ২০ হাজার টাকার ওপরে হতে পারে।
সরকারি মসজিদে বাধ্যতামূলক হলেও বেসরকারি মসজিদে এটি আদর্শ নির্দেশিকা হিসেবে প্রযোজ্য।
খতিবদের বেতন সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সঙ্গে করা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারণ হবে।
তারা সরাসরি সরকারি কর্মচারী নন, তবে জাতীয় বেতন স্কেলের কাঠামো অনুসরণ করবেন।
হ্যাঁ, মাসিক সাপ্তাহিক ছুটি, নৈমিত্তিক ছুটি এবং অর্জিত ছুটির স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
উপসংহার
ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন কত এই প্রশ্নের উত্তর নতুন জাতীয় নীতিমালার মাধ্যমে অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে।
গ্রেডভিত্তিক কাঠামোর ফলে এই পেশার মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা দুইই বৃদ্ধি পাবে।
এই নীতিমালা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে সারাদেশের মসজিদগুলোতে বেতন বৈষম্য কমবে এবং ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা আরও মনোযোগী ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ ৩৯৯ টাকায় সরকারি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সাথে ফ্রি রাউটার নেয়ার নিয়ম
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


