আইওটি ডাটা সিম কী? কিভাবে কাজ করে, কবে আসবে ও সাধারণ সিমের পার্থক্য

বর্তমান সময়ে “স্মার্ট” শব্দটি আমাদের জীবনের প্রায় সবখানেই ঢুকে পড়েছে যেমন স্মার্ট ফোন, স্মার্ট ঘর, স্মার্ট মিটার, স্মার্ট সিটি। এই সব স্মার্ট ডিভাইস একে অপরের সঙ্গে কথা বলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এই পুরো ব্যবস্থাটিকেই বলা হয় IoT (Internet of Things)

এই IoT ডিভাইসগুলোকে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত রাখতে যে বিশেষ ধরনের সিম ব্যবহার করা হয়, সেটিই হলো আইওটি ডাটা সিম

অনেকেই জানতে চান, আইওটি ডাটা সিম কী, এটি কিভাবে কাজ করে, আর সাধারণ সিমের সঙ্গে এর পার্থক্যই বা কী। এই পোস্টে সহজ ভাষায় সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।

আইওটি ডাটা সিম কী?

আইওটি ডাটা সিম হলো এমন একটি বিশেষ SIM কার্ড, যা মানুষের ব্যবহারের জন্য নয়, বরং মেশিন বা ডিভাইসের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদানের জন্য তৈরি।

এটি ব্যবহার হয় যেমন,

  • স্মার্ট মিটার
  • GPS ট্র্যাকার
  • স্মার্ট ওয়াচ
  • ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেন্সর
  • স্মার্ট সিটি ডিভাইস

এই সিমে সাধারণত ভয়েস কল বা এসএমএসের দরকার হয় না, শুধু ডেটা পাঠানো ও নেওয়াই এর কাজ।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

আরও পড়ুনঃ NEIR পদ্ধতি নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত

আইওটি ডাটা সিম কিভাবে কাজ করে?

আইওটি ডাটা সিম একটি M2M (Machine to Machine) যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করে।

কাজ করার ধাপ সংক্ষেপে,

  1. ডিভাইসের ভেতরে আইওটি সিম বসানো থাকে
  2. সিমটি মোবাইল নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়
  3. ডিভাইস থেকে ডেটা সার্ভারে পাঠানো হয়
  4. সার্ভার থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ফেরত আসে

এই সিম 2G, 4G, NB-IoT, LTE-M এমনকি 5G নেটওয়ার্কেও কাজ করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি নিজে থেকেই সবচেয়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক বেছে নেয়।

আইওটি ডাটা সিম কবে আসবে?

বিশ্বের অনেক দেশে আইওটি ডাটা সিম ইতিমধ্যেই চালু আছে।

বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইওটি ডাটা সিম বাজারে আনার প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করেছে। বিষয়টি সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

তাই আশা করা যায় খুব দ্রুতই বাংলাদেশের চালু হতে যাচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তির আইওটি ডাটা সিম

তবে,

  • স্মার্ট সিটি
  • স্মার্ট মিটার
  • ফ্লিট ট্র্যাকিং
  • ইন্ডাস্ট্রি 4.0

এই খাতগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে আইওটি সিম ব্যবহার শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে 5G চালু হলে বাণিজ্যিকভাবে আইওটি ডাটা সিম আরও সহজলভ্য হবে।

আরও পড়ুনঃ আবারও বাড়ল এলপি গ্যাসের দাম

IOT DATA SIM আর সাধারণ সিমের মধ্যে পার্থক্য

বিষয়সাধারণ সিমআইওটি ডাটা সিম
ব্যবহারমানুষের জন্যডিভাইসের জন্য
ভয়েস কলআছেনেই
ডেটা ব্যবহারবেশিখুব কম
লাইফটাইম২–৩ বছর৭–১০ বছর
নেটওয়ার্কএক অপারেটরমাল্টি নেটওয়ার্ক
ব্যবস্থাপনাম্যানুয়ালরিমোট কন্ট্রোল

আইওটি ডাটা সিমের প্রধান সুবিধা কি কি?

১. সার্বক্ষণিক সংযোগ– ডিভাইস প্রায় সবসময় অনলাইনে থাকে।

২. কম ডেটায় বেশি কাজ– অল্প ডেটা ব্যবহার করেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠানো যায়।

৩. দীর্ঘস্থায়ী– দীর্ঘদিন সিম বদলানোর দরকার হয় না।

৪. উচ্চ নিরাপত্তা– ডেটা এনক্রিপশন ও প্রাইভেট নেটওয়ার্ক সুবিধা থাকে।

৫. গ্লোবাল রোমিং– একটি সিম দিয়েই একাধিক দেশে কাজ করা সম্ভব।

আইওটি ডাটা সিম কোন কোন দেশে চালু আছে?

বর্তমানে আইওটি ডাটা সিম চালু আছে,

  • যুক্তরাষ্ট্র
  • জার্মানি
  • যুক্তরাজ্য
  • চীন
  • জাপান
  • দক্ষিণ কোরিয়া
  • ভারত (নির্দিষ্ট খাতে)

বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে এই প্রযুক্তি প্রসারিত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে সরকারি বেকার ভাতা আবেদন করার নিয়ম বাস্তব তথ্য ২০২৬

FAQs (প্রশ্ন ও উত্তর)

আইওটি ডাটা সিম কি মোবাইলে ব্যবহার করা যাবে?

না, এটি মানুষের জন্য নয়।

আইওটি সিমে কল করা যায়?

সাধারণত যায় না।

বাংলাদেশে আইওটি সিম পাওয়া যায়?

সীমিত ও প্রকল্পভিত্তিকভাবে।

আইওটি সিমের দাম বেশি?

ডিভাইসের কাজে মোট খরচ কম পড়ে।

ভবিষ্যতে কি সাধারণ মানুষ ব্যবহার করবে?

না, এটি মূলত শিল্প ও স্মার্ট ডিভাইসের জন্য।

উপসংহার

আইওটি ডাটা সিম শুধু একটি সিম কার্ড নয়, এটি স্মার্ট ডিভাইস ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ভিত্তি। স্মার্ট সিটি, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন ও শিল্পখাতে এই সিম ব্যবহারের পরিমাণ দ্রুত বাড়বে।

বাংলাদেশেও ধাপে ধাপে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বিস্তৃত হবে।

আরও পড়ুনঃ এয়ারটেল রিচার্জ অফার ২০২৬ । এয়ারটেল ১ পয়সা কল রেট অফার

এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের  ফেসবুক পেজ।

WhatsApp Group Join Now
WhatsApp Group 1 Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Comment