১৬ ডিসেম্বরের পর যে তিন ধরনের মোবাইল ফোন বন্ধ করবে সরকার

প্রতিদিনের যোগাযোগ, নিরাপত্তা, আর্থিক লেনদেন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি সেবা এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই কোন ফোন বৈধ আর কোনটি অবৈধ, এই বিষয়টি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকার সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে যে তিন ধরনের মোবাইল ফোন বন্ধ করবে সরকার। এর ফলে কোন ফোন ব্যবহার নিরাপদ, কোন ফোন ঝুঁকিপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে কোন ফোন কাজ করবে না, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

মূলত এমন ডিভাইসগুলোই বন্ধ হচ্ছে যেগুলো দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে বৈধভাবে নিবন্ধিত নয়। এতে সাধারণ ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা বাড়বে এবং মোবাইল বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার কিনতে ইচ্ছুক!

ভিজিট করুন 👉

বর্তমানে অনেকেই অজান্তেই এমন মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন যেগুলো সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে এসেছে, ক্লোন করা, বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৬ ডিসেম্বর থেকে এসব ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হতে শুরু করবে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে যেসব অবৈধ ফোন এখন ব্যবহার করা হচ্ছে বা ১৬ ডিসেম্বরের আগেই কেনা হয়েছে, সেগুলো বন্ধ হবে না।

এই সিদ্ধান্ত মূলত নতুন করে দেশে ঢোকা অনিবন্ধিত ফোন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নেওয়া হয়েছে। তিন ধরনের এই ফোন নিষিদ্ধ করার বিষয়টি জানতে পারলে ব্যবহারকারীরা ভবিষ্যতে কেনার সময় সহজেই সচেতন হতে পারবেন।

যে তিন ধরনের মোবাইল ফোন বন্ধ করবে সরকার

যে তিন ধরনের মোবাইল ফোন বন্ধ করছে সরকার

সরকার জানিয়েছে যে তিন ধরনের মোবাইল ফোন বন্ধ করবে সরকার।

এগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো ক্লোন করা হ্যান্ডসেট। এগুলো সাধারণত জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের আইএমইআই কপি করে তৈরি হয়, যা ব্যবহারকারীর তথ্য নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর।

দ্বিতীয়টি হলো অবৈধভাবে আমদানিকৃত ফোন। এগুলো ট্যাক্স বা নিয়ম মেনে দেশে প্রবেশ করে না, তাই কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন থাকে না।

তৃতীয়টি হলো চোরাচালানকৃত হ্যান্ডসেট, যেগুলো সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করে। এই তিন ধরনের ডিভাইসই ১৬ ডিসেম্বরের পর নেটওয়ার্কে সংযোগ পাবে না।

আরও পড়ুনঃ দলিল আছে তবু দখল থাকবে না পাঁচ ধরনের জমির

কেন সরকার মোবাইল ফোন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে

এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল লক্ষ্য হলো মোবাইল ফোন বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। নিবন্ধনবিহীন ফোন ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধমূলক কাজ করা সহজ হয়ে যায়।

একই সাথে বৈধভাবে আমদানি করা ফোন কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অবৈধ ফোনের কারণে সরকারের রাজস্বও কমে।

তাই তিন ধরনের মোবাইল ফোন বন্ধ করবে সরকার, যাতে ব্যবহারকারীরা নিরাপদ ডিভাইস ব্যবহার করতে পারেন এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী হয়।

সিম রেজিস্ট্রেশন ও ফোন রেজিস্ট্রেশন কতটা গুরুত্বপূর্ণ

ফোনের আইএমইআই এবং সিম রেজিস্ট্রেশন মিলিয়ে দেখাই হলো ডিভাইস শনাক্ত করার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

সরকার জানিয়েছে, আপনার নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম যদি কোনো ক্লোন করা হয়নি এমন বৈধ ফোনে ব্যবহার করেন, তাহলে কোনো ঝামেলায় পড়বেন না।

সিম নিজের নামে রাখা এবং নিয়ম মেনে ব্যবহার করলেই রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত চিন্তা করার প্রয়োজন হয় না।

এতে ব্যবহারকারীর পরিচয় ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকে।

আরও পড়ুনঃ বিকাশ NFC পেমেন্ট কি – ব্যবহার পদ্ধতি, সুবিধা

বিদেশ থেকে আনা ফোন নিয়ে সরকার কী বলছে

বিদেশ থেকে যখন কেউ ফোন নিয়ে আসে, তখন নিয়ম অনুযায়ী একটি বা দুটি ফোন বিনা ফি’তে আনা যায়। এর বেশি আনতে হলে এনবিআরের আলাদা নিয়ম ও ফি রয়েছে।

সরকারের মতে, প্রবাসীরা নিয়ম মেনে ফোন আনলে কোনো সমস্যাই হবে না।

বিদেশ থেকে আনা ফোনও নির্ধারিত নিয়ম মেনে রেজিস্ট্রেশন করলেই বৈধভাবে ব্যবহার করা যাবে।

বৈধ ফোনের দাম কমাতে সরকারের উদ্যোগ

সরকার জানিয়েছে যে বৈধ ফোনের দাম কমাতে যা যা প্রয়োজন, সবই করা হবে।

অবৈধ ফোন বাজারে থাকলে বৈধ ফোন ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে না।

তাই অবৈধ ফোন বন্ধ হলে বাজারে স্বাভাবিক দাম নিশ্চিত করা সহজ হবে। এতে সাধারণ গ্রাহকরাও উপকৃত হবেন।

আরও পড়ুনঃ ইন্টারনেট ছাড়া গুগল ম্যাপ ব্যবহারের সঠিক নিয়ম

FAQs

যে তিন ধরনের মোবাইল ফোন বন্ধ করবে সরকার?

সরকার ক্লোন করা, অবৈধভাবে আমদানিকৃত এবং চোরাচালানকৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করবে। এগুলো নেটওয়ার্কে আর সার্ভিস পাবে না।

১৬ ডিসেম্বরের আগে কেনা অবৈধ ফোন কি বন্ধ হয়ে যাবে?

না। ১৬ ডিসেম্বরের আগে ব্যবহার করা অবৈধ ফোনগুলো বন্ধ হবে না। শুধুমাত্র নতুন অনিবন্ধিত ফোনগুলো নেটওয়ার্কে বন্ধ হবে।

সিম নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন না থাকলে কি সমস্যা হবে?

হ্যাঁ। সিম নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন না থাকলে ভবিষ্যতে রেজিস্ট্রেশন বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝামেলা হতে পারে।

বিদেশ থেকে আনা ফোন কি বৈধভাবে ব্যবহার করা যাবে?

হ্যাঁ। নিয়ম মেনে একটি বা দুটি ফোন ফ্রি আনা যায়। রেজিস্ট্রেশন করলেই ব্যবহার করা যাবে।

কিভাবে বুঝবো আমার ফোন বৈধ কিনা?

আইএমইআই নম্বর দিয়ে দেশের ডাটাবেজে মিলিয়ে দেখলেই জানা যাবে ফোনটি বৈধ নাকি অনিবন্ধিত।

উপসংহার

যে তিন ধরনের মোবাইল ফোন বন্ধ করবে সরকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা ভবিষ্যতে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এতে মোবাইল বাজারে শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি নিরাপত্তাও বাড়বে।

নিয়ম মেনে রেজিস্ট্রেশন করা ফোনই সবচেয়ে নিরাপদ।

তাই ফোন কেনা বা বিদেশ থেকে আনার সময় বৈধতা যাচাই করলে ভবিষ্যতের ঝামেলা সহজেই এড়ানো যাবে।

আরও পড়ুনঃ পাসওয়ার্ড ছাড়া ওয়াইফাই কানেক্ট করার নিয়ম

নিয়মিত আপনার মোবাইলে টেক নিউজ আপডেট পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Comment