এলপি গ্যাসে ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত: কী ঘোষণা দিল সরকার জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ পোস্ট। এলপি গ্যাসের দাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে সরকার এলপি গ্যাস আমদানিতে ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আমদানিকৃত এলপিজির ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাটের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত এলপি গ্যাস অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (LOAB)-এর সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনা এবং বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।
Content Summary
এলপি গ্যাস আমদানিতে ভ্যাট কতটা কমানো হলো
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভ্যাট কাঠামোয় যে পরিবর্তন এসেছে তা সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হলো:
- আমদানিকৃত এলপি গ্যাসে ভ্যাট
আগে: ১৫ শতাংশ
এখন: ১০ শতাংশ - স্থানীয় পর্যায়ে এলপি গ্যাসে ভ্যাট
আগে: তুলনামূলকভাবে বেশি
এখন প্রস্তাবিত: ৭ দশমিক ৫ শতাংশ
এই ভ্যাট কমানোর ফলে আমদানিকারক ও ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়ে ব্যয় কমার কথা। এর সরাসরি প্রভাব পড়ার কথা ভোক্তা পর্যায়ের সিলিন্ডার মূল্যে।
কেন এলপি গ্যাসের দাম কমানো জরুরি ছিল
বাংলাদেশে শহর ও গ্রাম উভয় এলাকাতেই এলপি গ্যাস এখন রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ সীমিত হওয়ায় লাখো পরিবার এলপি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল।
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং শুল্ক-কর বৃদ্ধির কারণে এলপি গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
এর ফলে,
- মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবার চরম চাপের মুখে পড়ে
- হোটেল ও ছোট ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যায়
- বাজারে অসন্তোষ ও অস্থিরতা তৈরি হয়
এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই সরকার ভ্যাট কমানোর মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেয়।
আরও পড়ুনঃ দলিল ই-রেজিস্ট্রেশন সেবা চালু করেছে সরকার: জমি নিবন্ধনে ডিজিটাল বিপ্লব
ব্যবসায়ীদের সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ: ভ্যাট কমলেও কেন সংকট
ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণার দিনেই আরেকটি বড় সংকট সামনে আসে। এলপি গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা সারাদেশে সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ করে দেয়। সকাল থেকেই খুচরা পর্যায়ে কোনো দোকানে সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি।
এর ফলে,
- বহু বাসাবাড়িতে রান্না বন্ধ হয়ে যায়
- হোটেল ও রেস্তোরাঁ বিকল্প জ্বালানিতে যেতে বাধ্য হয়
- সাধারণ মানুষ কার্যত জিম্মি অবস্থায় পড়ে
ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও বাজারে তার প্রতিফলন না আসা পর্যন্ত এই সংকট পুরোপুরি কাটবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমবে কবে
ভ্যাট কমানো একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও এর বাস্তব প্রভাব পড়তে কিছুটা সময় লাগে। কারণ,
- পুরোনো দামে আমদানি করা গ্যাসের স্টক শেষ হতে হবে
- নতুন ভ্যাট হারে আমদানি ও বিতরণ শুরু হতে হবে
- সরকারিভাবে নতুন মূল্য সমন্বয় ঘোষণা প্রয়োজন হতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্যাট কমানোর প্রভাব পুরোপুরি বাজারে আসতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে সিদ্ধান্তটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হলে এলপি গ্যাসের দাম কিছুটা হলেও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ২০২৬
সাধারণ ভোক্তাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ভোক্তারা যেসব সুবিধা পেতে পারেন—
- এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ধীরে ধীরে কমতে পারে
- বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে
- হঠাৎ দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি কমবে
- জীবনযাত্রার ব্যয়ে কিছুটা স্বস্তি আসবে
তবে এর জন্য প্রয়োজন কঠোর নজরদারি, যাতে ভ্যাট কমানোর সুবিধা ব্যবসায়ীরা নয়, ভোক্তারাই পান।
উপসংহার
এলপি গ্যাস আমদানিতে ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।
এটি ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন বাজারে গ্যাসের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি চরম আকার ধারণ করেছে।
তবে শুধু সিদ্ধান্ত নিলেই হবে না, দ্রুত বাস্তবায়ন ও বাজার তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।
সরকার, ব্যবসায়ী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ভোক্তা পর্যায়ে প্রকৃত সুফল পৌঁছানো সম্ভব নয়।
ভ্যাট কমানোর সুবিধা যেন সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে বাস্তব স্বস্তি নিয়ে আসে, সেটাই এখন সবার প্রত্যাশা।
আরও পড়ুনঃ জন্ম সনদে তথ্য ভুল থাকলে অনলাইনে সংশোধনের সহজ উপায়
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


