MNP কী? মোবাইল নাম্বার ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তনের গাইড

বর্তমানে মোবাইল ফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, নিজের বর্তমান অপারেটরের নেটওয়ার্ক, কল রেট বা ইন্টারনেট স্পিডে সন্তুষ্ট নন। আবার নম্বর পরিবর্তন করতেও চান না। ঠিক এখানেই MNP কী এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, MNP এমন একটি সুবিধা যার মাধ্যমে আপনি আপনার পুরোনো মোবাইল নম্বর ঠিক রেখেই অন্য অপারেটরের সেবা নিতে পারেন। বাংলাদেশে ২০১৮ সাল থেকে এই সুবিধা চালু হয়েছে বিটিআরসির উদ্যোগে।

এর মূল লক্ষ্য ছিল গ্রাহকদের পছন্দের স্বাধীনতা বাড়ানো এবং অপারেটরদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করা।

এই গাইডে আপনি জানবেন MNP কী, এমএনপি কিভাবে কাজ করে, সিম এমএনপি করার নিয়ম, কত টাকা লাগে, কী ডকুমেন্টস প্রয়োজন, কী শর্ত মানতে হয় এবং আগের ব্যালেন্সের কী হবে। সব তথ্য এক জায়গায়, সহজ ও আপডেটভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

What is MNP? (এমএনপি কী)

MNP এর পূর্ণরূপ হলো Mobile Number Portability। এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর অপরিবর্তিত রেখে এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে যেতে পারেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনার যদি গ্রামীণফোন নম্বর থাকে, তাহলে সেই একই নম্বর ব্যবহার করেই আপনি রবি, বাংলালিংক বা টেলিটকে যেতে পারবেন। এতে নতুন নম্বর মুখস্থ করা, ব্যাংক বা অ্যাপে নম্বর আপডেট করার ঝামেলা থাকে না।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

বাংলাদেশে এমএনপি সেবা চালুর ফলে গ্রাহকেরা এখন অপারেটর বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি স্বাধীনতা পাচ্ছেন, যা সামগ্রিকভাবে টেলিযোগাযোগ সেবার মান উন্নত করছে।

আরও পড়ুনঃ

এমএনপি কিভাবে কাজ করে?

এমএনপি কাজ করার পদ্ধতিটি তুলনামূলকভাবে সহজ। আপনি যে অপারেটরে যেতে চান, সেই অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার বা নির্ধারিত সার্ভিস পয়েন্টে যেতে হবে।

সেখানে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করা হবে এবং বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হবে।

যাচাই সফল হলে আপনার বর্তমান অপারেটরের সিমে একটি কনফার্মেশন এসএমএস আসবে। এরপর নতুন অপারেটরের সিম সংগ্রহ করতে হবে।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরোনো সিম বন্ধ হয়ে যাবে এবং নতুন সিম চালু হবে।

পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত ৩০ মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন হয়, যদিও এটি বর্তমান অপারেটরের রিলিজ প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে।

সিম এমএনপি করার নিয়ম

সিম এমএনপি করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়।

প্রথমে সিদ্ধান্ত নিন কোন অপারেটরে যেতে চান। এরপর সেই অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার বা অনুমোদিত সেন্টারে যান।

সেখানে আপনার মোবাইল নম্বর, এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে এমএনপি অনুরোধ গ্রহণ করা হবে।

এরপর নতুন অপারেটরের সিম দেওয়া হবে। কনফার্মেশন এসএমএস পাওয়ার পর পুরোনো সিম নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে এবং নতুন সিম সক্রিয় হবে। পুরো সময়টিতে আপনার নম্বর অপরিবর্তিত থাকবে।

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে নামজারি আবেদন করার নিয়ম: ঘরে বসে দালাল ছাড়াই জমি নামজারি

এমএনপি করতে কত টাকা লাগে

বাংলাদেশে এমএনপি করার জন্য সাধারণত নির্ধারিত ফি রয়েছে। বর্তমানে বেশিরভাগ অপারেটরের ক্ষেত্রে এমএনপি চার্জ প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে।

উদাহরণ হিসেবে, রবির ক্ষেত্রে প্রিপেইড ও পোস্টপেইড উভয়ের জন্য এমএনপি চার্জ ৪০৫ টাকা। এই খরচের মধ্যেই নতুন সিম রিপ্লেসমেন্ট চার্জ অন্তর্ভুক্ত থাকে।

চার্জ সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই এমএনপি করার আগে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার থেকে আপডেট তথ্য জেনে নেওয়াই ভালো।

কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন?

এমএনপি করার জন্য খুব বেশি কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় না। মূলত যা লাগবে তা হলো জাতীয় পরিচয়পত্র।

আপনার এনআইডি অনুযায়ী তথ্য সঠিক থাকতে হবে এবং বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলতে হবে। অন্য কোনো অতিরিক্ত ডকুমেন্ট সাধারণত চাওয়া হয় না।

যদি এনআইডি তথ্যের সাথে সিমের তথ্য না মেলে, তাহলে এমএনপি অনুরোধ বাতিল হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ টেলিটক এসএমএস অফার ২০২৬

এমএনপি করতে কি কি শর্ত মানতে হবে

এমএনপি করার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হয়।

নতুন সিম চালু হওয়ার কমপক্ষে ৯০ দিন পার হতে হবে। বর্তমান অপারেটরের কাছে কোনো বকেয়া বিল থাকা চলবে না।

নম্বরটি কোনো আইনগত জটিলতায় থাকলে বা আদালতের নির্দেশে পোর্টিং নিষিদ্ধ হলে এমএনপি করা যাবে না।

এছাড়া চুক্তিভিত্তিক কোনো বাধ্যবাধকতা থাকলেও এমএনপি আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

এই শর্তগুলো পূরণ না হলে এমএনপি অনুরোধ বাতিল হতে পারে।

আগের ব্যালেন্সের কি হবে?

এটি এমএনপি নিয়ে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলোর একটি।

এমএনপি করার সময় আপনার বর্তমান অপারেটরের ব্যালেন্স, ডাটা, এসএমএস বা মিনিট নতুন অপারেটরে স্থানান্তর হয় না। অর্থাৎ এগুলো বাতিল হয়ে যায়।

তাই এমএনপি করার আগে অবশিষ্ট ব্যালেন্স ব্যবহার করে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুনঃ এটিএম মেশিনে কার্ড আটকে গেলে করণীয়

FAQs

MNP কী এবং কেন দরকার?

MNP এমন একটি সেবা যার মাধ্যমে নম্বর পরিবর্তন না করেই অপারেটর পরিবর্তন করা যায়। ভালো নেটওয়ার্ক ও অফার পাওয়ার জন্য এটি দরকার।

এমএনপি করতে কত সময় লাগে?

সাধারণত ৩০ মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তবে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

প্রিপেইড ও পোস্টপেইড উভয় নম্বরে এমএনপি করা যায়?

হ্যাঁ, বাংলাদেশে প্রিপেইড ও পোস্টপেইড উভয় নম্বরেই এমএনপি করা যায়।

এমএনপি করার পর পুরোনো সিম কি ব্যবহার করা যাবে?

না, নতুন সিম চালু হলে পুরোনো সিম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

এমএনপি কি একাধিকবার করা যায়?

হ্যাঁ, তবে প্রতিবার এমএনপি করার আগে কমপক্ষে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

উপসংহার

সবশেষে বলা যায়, MNP কী তা জানলে মোবাইল ব্যবহার আরও সহজ ও সুবিধাজনক হয়ে ওঠে।

নম্বর পরিবর্তনের ঝামেলা ছাড়াই পছন্দের অপারেটরের সেবা নেওয়ার সুযোগ সত্যিই গ্রাহকবান্ধব একটি উদ্যোগ।

যদি আপনার বর্তমান অপারেটরের সেবায় সন্তুষ্ট না হন, তাহলে এমএনপি হতে পারে আপনার জন্য সেরা সমাধান।

তবে আবেদন করার আগে শর্ত, চার্জ ও ব্যালেন্স সংক্রান্ত বিষয়গুলো ভালোভাবে জেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুনঃ টেলিটক আনলিমিটেড মেয়াদ ইন্টারনেট অফার মাত্র ২৭১ টাকায়

এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

WhatsApp Group Join Now
WhatsApp Group 1 Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Comment