মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের বিটিআরসির সতর্কতা যা জানা দরকার আপনাদের। বর্তমানে স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। এই বাস্তবতায় মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের বিটিআরসির সতর্কতা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনইআইআর সিস্টেম নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ায় অনেক গ্রাহক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের বিটিআরসির সতর্কতা মূলত এসব ভুয়া তথ্য থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্যই দেওয়া হয়েছে।
অনেকেই ভাবছেন, তাদের ফোনের তথ্য নাকি দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে, বা ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ নয়। বিটিআরসি বলছে, এসব ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।
এই লেখায় সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হবে এনইআইআর কী, কেন এটি চালু করা হয়েছে এবং বিটিআরসি আসলে গ্রাহকদের কী বোঝাতে চাইছে। এতে করে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন গুজব আর বাস্তবতার পার্থক্য।
Content Summary
এনইআইআর সিস্টেম কী?
এনইআইআর বা ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার হলো এমন একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ যেখানে দেশের সব বৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর সংরক্ষণ করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো অবৈধ ও চোরাই ফোন শনাক্ত করা এবং সেগুলো ব্যবহার বন্ধ করা।
এই সিস্টেমের মাধ্যমে সরকার জানতে পারে কোন ফোনটি বৈধভাবে আমদানি হয়েছে আর কোনটি নয়। ফলে চুরি হওয়া ফোন ট্র্যাক করা সহজ হয় এবং অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে অপরাধ করার
কেন বিটিআরসি সতর্কতা দিয়েছে
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু পোস্ট ছড়িয়েছে যেখানে বলা হচ্ছে এনইআইআর সিস্টেমের সার্ভার নাকি বিদেশে এবং ব্যবহারকারীর তথ্য দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এসব তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হওয়ায় বিটিআরসি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের সতর্কতা জারি করেছে।
বিটিআরসি জানিয়েছে, এই গুজব মানুষকে অযথা ভয় দেখানোর জন্য ছড়ানো হচ্ছে।
এতে করে অনেক গ্রাহক নতুন সিস্টেম নিয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং অনেকে তাদের ফোন ব্যবহার নিয়ে অকারণে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন। তাই সত্য তথ্য জানানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুনঃ NEIR কি: চালু হচ্ছে NEIR, মোবাইল ব্যবহারে সর্তকতা জরুরী
মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের বিটিআরসির সতর্কতা কেন কিভাবে
মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের বিটিআরসির সতর্কতা দেওয়ার মূল কারণ হলো তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে ভুল ধারণা দূর করা।
বিটিআরসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এনইআইআর সিস্টেমের সব ডাটা বাংলাদেশের ভেতরেই একটি সুরক্ষিত স্থানে রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া এই সিস্টেম পরিচালনার জন্য বিটিআরসির নিজস্ব হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সরকারের ডাটা প্রোটেকশন আইনের সব নিয়ম মেনে কাজ করা হচ্ছে।
ব্যবহৃত আইপি ঠিকানাও বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ করা, তাই কোনো ডাটা বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নেই।
এনইআইআর সিস্টেমে ডাটা কতটা নিরাপদ
অনেক ব্যবহারকারী ভাবছেন তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে আছে কি না।
বিটিআরসি জানিয়েছে, এনইআইআর সিস্টেমে কেবল হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর সংরক্ষণ করা হয়, ব্যক্তিগত কল বা মেসেজের তথ্য নয়।
এই সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাল্টি লেভেল সিকিউরিটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
আইপি রুটিং থেকে শুরু করে সার্ভার লোকেশন পর্যন্ত সব কিছু বাংলাদেশের ভেতরেই নিয়ন্ত্রিত। ফলে গ্রাহকের তথ্য চুরি বা পাচারের ঝুঁকি নেই বললেই চলে।
আরও পড়ুনঃ প্রবাসীরা কিভাবে ভোটা দিবেন? জেনে নিন নতুন পোস্টাল ভোট পদ্ধতি
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
না, আপনার ফোন যদি বৈধ হয় তাহলে কোনো সমস্যা হবে না। অবৈধ বা চোরাই ফোনের ক্ষেত্রেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
না, এখানে শুধু ফোনের আইএমইআই নম্বর রাখা হয়। কল, মেসেজ বা ব্যক্তিগত ডাটা রাখা হয় না।
না, পুরো সিস্টেম বাংলাদেশের ভেতরে সুরক্ষিত সার্ভারে হোস্ট করা।
বেশিরভাগ গুজব ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তি তৈরির উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়।
আপনি আপনার আইএমইআই নম্বর দিয়ে বিটিআরসির নির্ধারিত পোর্টালে যাচাই করতে পারেন।
উপসংহার
মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের বিটিআরসির সতর্কতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব তথ্য বিশ্বাস করা উচিত নয়।
এনইআইআর সিস্টেম মূলত গ্রাহকের নিরাপত্তা ও দেশের রাজস্ব সুরক্ষার জন্য চালু করা হয়েছে।
সঠিক তথ্য জানলে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
বরং এই উদ্যোগের মাধ্যমে চোরাই ও অবৈধ ফোনের ব্যবহার কমবে এবং সাধারণ মানুষ আরও নিরাপদভাবে মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে।
আরও পড়ুনঃ প্রবাসীরা কিভাবে ভোটা দিবেন? জেনে নিন নতুন পোস্টাল ভোট পদ্ধতি
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


