জমি কেনা বা উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পাওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নামজারি। অনেকেই দলিল হাতে পেলেই নিশ্চিন্ত হয়ে যান, কিন্তু বাস্তবতা হলো নামজারি না হলে আপনি আইনগতভাবে জমির পূর্ণ মালিক নন। এই কারণে নামজারি আবেদন করার নিয়ম জানা প্রত্যেক জমি মালিকের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
আগে নামজারি মানেই ছিল ভূমি অফিসে দৌড়াদৌড়ি, দালালের পেছনে ঘোরা আর অপ্রয়োজনীয় খরচ। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে।
বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল ভূমি সেবার কারণে ঘরে বসেই অনলাইনে নামজারি আবেদন করা সম্ভব। সঠিক নিয়ম জানলে কম খরচে এবং ঝামেলাহীনভাবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা যায়।
এই পোস্টে আপনি জানতে পারবেন নামজারি কি, নামজারি আবেদন করতে কি কি লাগে, ধাপে ধাপে নামজারি আবেদন করার নিয়ম এবং নামজারি করার খরচ কত। পুরো গাইডটি A to Z সহজ বাংলায় সাজানো হয়েছে, যাতে নতুন ব্যবহারকারীও সহজে বুঝতে পারেন।
Content Summary
নামজারি কি?
নামজারি হলো জমির মালিকানা পরিবর্তনের পর সরকারি খতিয়ান বা রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া। জমি ক্রয়, উত্তরাধিকার, দান, হেবা বা বিনিময়ের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তন হলে নামজারি করা বাধ্যতামূলক।
অনেকে মনে করেন দলিল থাকলেই জমির মালিক হওয়া যায়। বাস্তবে দলিল শুধু মালিকানা হস্তান্তরের প্রমাণ, কিন্তু সরকারি রেকর্ডে নাম না উঠলে সেই মালিকানা সম্পূর্ণ হয় না।
নামজারি না থাকলে জমি বিক্রি, ব্যাংক লোন, এমনকি খাজনা পরিশোধেও সমস্যা হতে পারে।
বর্তমানে অনলাইনে নামজারি আবেদন করার সুযোগ থাকায় প্রক্রিয়াটি আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে।
সঠিক তথ্য ও কাগজপত্র থাকলে দালাল ছাড়াই নিজে নিজে আবেদন করা সম্ভব।
নামজারি আবেদন করতে কি কি লাগে
নামজারি আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কাগজ অসম্পূর্ণ বা ভুল হলে আবেদন বাতিল বা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হতে পারে।
সাধারণত নামজারি আবেদনের জন্য যেসব কাগজ লাগে সেগুলো হলো দলিলের স্ক্যান কপি, আগের খতিয়ান, সর্বশেষ খাজনা পরিশোধের রসিদ, আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
উত্তরাধিকার সূত্রে জমি হলে ওয়ারিশ সনদ প্রয়োজন হয়। হেবা বা দানকৃত জমির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হেবা দলিল লাগবে।
সব কাগজ পরিষ্কার ও স্পষ্টভাবে স্ক্যান করা জরুরি। অনলাইনে আপলোড করার সময় ফাইল সাইজ নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হয়।
একটি সচল মোবাইল নম্বরও দরকার হয়, কারণ OTP যাচাইয়ের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
আরও পড়ুনঃ সার্ভে খতিয়ান অনুসন্ধান করার নিয়ম: অনলাইনে সহজ গাইড
অনলাইনে নামজারি আবেদন করার নিয়ম ২০২৬
অনলাইনে নামজারি আবেদন করার নিয়ম মূলত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়।
প্রথমে বাংলাদেশ সরকারের ভূমি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করে একটি একাউন্ট তৈরি করতে হয়। নতুন নিবন্ধনে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে OTP ভেরিফিকেশন করতে হয়।
- একাউন্ট খোলার পর ড্যাশবোর্ড থেকে নামজারি বা Mutation আবেদন অপশন নির্বাচন করতে হবে।
- এরপর জেলা, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করে জমির দাগ ও খতিয়ান নম্বর সঠিকভাবে লিখতে হবে।
- এখানে সামান্য ভুল হলেও আবেদন আটকে যেতে পারে, তাই তথ্য মিলিয়ে দেওয়া জরুরি।
এরপর প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট PDF বা ছবি আকারে আপলোড করতে হবে। ফাইল পরিষ্কার না হলে কর্মকর্তা নোটিস দিতে পারেন।
সব তথ্য ঠিক থাকলে নির্ধারিত ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর ড্যাশবোর্ড থেকেই আবেদন স্ট্যাটাস ট্র্যাক করা যায়।
কিছু ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে তদন্ত হতে পারে। তখন সার্ভেয়ার জমি যাচাই করেন এবং আবেদনকারীকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।
সবকিছু ঠিক থাকলে আবেদন অনুমোদিত হয় এবং অনলাইনে নতুন খতিয়ান ডাউনলোড করা যায়।
জমি নামজারি করার খরচ
নামজারি করার খরচ জমির ধরন ও আবেদনের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে।
সাধারণত অনলাইনে নামজারি ফি ২৫০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ১,০০০ টাকার মধ্যে থাকে। বড় জমি বা জটিল ক্ষেত্রে খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে।
অনলাইনে বিকাশ, নগদ, উপায় বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যায়।
নির্ধারিত সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
দালালের মাধ্যমে আবেদন করলে খরচ অযথা বেড়ে যায়, তাই নিজে আবেদন করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
আরও পড়ুনঃ জমির পর্চা তোলার নিয়ম । ঘরে বসেই অনলাইনে পর্চা ডাউনলোড করুন
FAQs: নামজারি আবেদন করার নিয়ম
নামজারি না করলে আপনি জমির পূর্ণ আইনগত মালিক হিসেবে গণ্য হবেন না। ভবিষ্যতে জমি বিক্রি, খাজনা বা ব্যাংক লোন নিতে সমস্যা হতে পারে।
সাধারণত অনলাইনে নামজারি সম্পন্ন হতে ১৫ থেকে ৪৫ কর্মদিবস সময় লাগে। জটিল হলে সময় কিছুটা বাড়তে পারে।
সব ওয়ারিশের সম্মতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে যৌথভাবে নামজারি করা যায়।
ড্যাশবোর্ডে লগইন করে স্ট্যাটাস দেখুন। প্রয়োজনে অনলাইন নোটিস অনুযায়ী সংশোধন করুন
হ্যাঁ, সঠিক তথ্য ও কাগজ থাকলে নিজে করা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং খরচও কম হয়।
উপসংহার
জমির মালিকানা সুরক্ষিত রাখতে নামজারি আবেদন করার নিয়ম জানা এবং সঠিকভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। দলিল থাকলেও নামজারি না থাকলে ভবিষ্যতে বড় সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
বর্তমান অনলাইন ব্যবস্থায় ঘরে বসেই কম খরচে এবং দালাল ছাড়াই নামজারি করা সম্ভব।
শুধু দরকার সঠিক তথ্য, ধৈর্য এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা।
এই গাইডটি অনুসরণ করলে আপনি নিশ্চিন্তে নিজের জমির নামজারি সম্পন্ন করতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন বাংলা থেকে ইংরেজি করার নিয়ম ২০২৬ | অনলাইন আবেদন গাইড
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


