জাতীয় এআই নীতিমালা কি? জানেন। বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার জাতীয় এআই নীতিমালার খসড়া ২০২৬–২০৩০ প্রকাশ করেছে, যেখানে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি এআই হাব হিসেবে গড়ে তোলার স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই নীতিমালার মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার, ডেটা সুরক্ষা এবং জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকাশিত এই খসড়ার ওপর সাধারণ মানুষ, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ ও প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি মতামত দিতে পারবেন।
সরকারের আশা, অংশগ্রহণমূলক এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী এআই নীতিমালা চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে, যা দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও গতিশীল করবে।
জাতীয় এআই নীতিমালা কি?
জাতীয় এআই নীতিমালার খসড়া হলো বাংলাদেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নের জন্য প্রস্তাবিত একটি দিকনির্দেশনামূলক নীতিমালা। এই খসড়ার মাধ্যমে এআই ব্যবহারে নৈতিকতা, ডেটা সুরক্ষা, নাগরিকের গোপনীয়তা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ খাতে এআই প্রযুক্তির বিকাশে কীভাবে সরকারি সহায়তা ও তদারকি থাকবে, তার স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রযুক্তির সুফল সমাজ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জাতীয় এআই নীতিমালার খসড়া কেন গুরুত্বপূর্ণ
জাতীয় এআই নীতিমালার খসড়া ২০২৬–২০৩০ মূলত বাংলাদেশের এআই ব্যবহারের সীমারেখা ও সুযোগগুলো নির্ধারণ করছে।
এতে বলা হয়েছে, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানবাধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
একটি কেন্দ্রীয় নীতিমালা না থাকলে এআই ব্যবহারে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা এই খসড়া অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।
এআই ব্যবহারের ঝুঁকি অনুযায়ী চারটি শ্রেণি
এই নীতিমালায় এআই ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ, উচ্চ ঝুঁকি, সীমিত ঝুঁকি এবং স্বল্প ঝুঁকি।
জনগণের ওপর নজরদারির উদ্দেশ্যে সোশ্যাল স্কোরিং, অনুমতি ছাড়া ফেসিয়াল রিকগনিশন এবং নির্বাচন প্রভাবিত করতে পারে এমন এআই ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিষ্কারভাবে কিছু রেড লাইন টেনে দিয়েছে।
শিশুদের ডেটা ও নাগরিক গোপনীয়তা সুরক্ষা
জাতীয় এআই নীতিমালার খসড়া ২০২৬–২০৩০-এ শিশুদের ডেটা সুরক্ষার বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।
১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া সংগ্রহ করা যাবে না।
পাশাপাশি এআই প্রশিক্ষণে শিশুদের ডেটা ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব
ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে সরকার নিজস্ব বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি নথি বিশ্লেষণ, নাগরিক সেবা এবং চ্যাটবটভিত্তিক সাপোর্ট আরও সহজ হবে।
জাতীয় এআই নীতিমালার খসড়া অনুযায়ী, এটি প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করবে।
এআই গবেষণা, স্টার্টআপ ও কর্মসংস্থান চ্যালেঞ্জ
এআই গবেষণা ও স্টার্টআপ উৎসাহিত করতে ২০২৬–২০৩০ মেয়াদে প্রায় ২০০–২৫০ কোটি টাকার এআই ইনোভেশন ফান্ড গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
একই সঙ্গে স্বীকার করা হয়েছে যে এআই ব্যবহারের ফলে কিছু সেক্টরে কর্মসংস্থানের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গিগ ইকোনমি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও এআই সাক্ষরতা কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ MNP কী? মোবাইল নাম্বার ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তনের গাইড
কৃষি, স্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এআই
জাতীয় এআই নীতিমালার খসড়া ২০২৬–২০৩০ অনুযায়ী, কৃষিতে আবহাওয়া পূর্বাভাস, স্বাস্থ্যে দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এআই ব্যবহার বাড়ানো হবে।
এর ফলে সেবা আরও নির্ভুল ও সময়োপযোগী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিপফেক, ভুয়া কনটেন্ট ও আইনি কাঠামো
এআই দিয়ে তৈরি ডিপফেক ও অনলাইন হয়রানি রোধে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়।
এআই-নির্মিত কনটেন্টে ডিজিটাল স্ট্যাম্প বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া ২০২৮ সালের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাক্ট প্রণয়নের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ এটিএম মেশিনে কার্ড আটকে গেলে করণীয়
FAQs
জাতীয় এআই নীতিমালার খসড়া হলো বাংলাদেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রস্তাবিত দিকনির্দেশনা, যা ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সরকার নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে এই খসড়ার ওপর মতামত দেওয়া যাবে।
সোশ্যাল স্কোরিং, অনুমতি ছাড়া ফেসিয়াল রিকগনিশন এবং নির্বাচন প্রভাবিত করতে পারে এমন এআই ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের ডেটা অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া সংগ্রহ বা এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা যাবে না।
২০২৮ সালের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাক্ট প্রণয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপসংহার
জাতীয় এআই নীতিমালা কি? জাতীয় এআই নীতিমালার খসড়া ২০২৬–২০৩০ বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যৎ গঠনে একটি মাইলফলক উদ্যোগ।
এতে নৈতিকতা, নিরাপত্তা এবং উদ্ভাবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
সঠিক বাস্তবায়ন ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলে এই নীতিমালা বাংলাদেশকে প্রযুক্তিবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ টেলিটক এসএমএস অফার ২০২৬ – সম্পূর্ণ তালিকা, কোড ও কেনার নিয়ম
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


