বাংলাদেশে জমি বা ফ্ল্যাট কেনা অনেকের জীবনের সবচেয়ে বড় আর্থিক সিদ্ধান্তগুলোর একটি। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, জমির দাম জানলেও নতুন দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি কত টাকা লাগবে সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় শেষ মুহূর্তে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়তে হয়।
২০২৬ সালে এসে দলিল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আরও বেশি নিয়মতান্ত্রিক ও ডিজিটাল হলেও খরচের বিষয়টি আগের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
এই পোস্টে সহজ ভাষায় জানবেন দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি কী, কত প্রকার, কীভাবে নির্ধারণ হয় এবং ২০২৬ সালে মোট কত টাকা খরচ হতে পারে।
দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি কি?
দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি হলো জমি বা ফ্ল্যাটের মালিকানা আইনগতভাবে হস্তান্তর করার জন্য সরকার নির্ধারিত একটি বাধ্যতামূলক ফি। এই ফি পরিশোধের মাধ্যমেই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধিত হয় এবং ক্রেতা আইনি মালিক হিসেবে স্বীকৃতি পান।
Above all, দলিল রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো জমি বা ফ্ল্যাটের মালিকানা সম্পূর্ণ হয় না, এমনকি ভবিষ্যতে বিক্রি বা নামজারিও সম্ভব হয় না।
দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি কত প্রকার ও কি কি
২০২৬ সালে দলিল রেজিস্ট্রেশনের খরচ একক কোনো ফি নয়, বরং একাধিক খাতে বিভক্ত। প্রধান খাতগুলো হলো,
- রেজিস্ট্রেশন ফি
- স্ট্যাম্প শুল্ক
- উৎসে আয়কর
- স্থানীয় সরকার কর
- ভ্যাট (যেখানে প্রযোজ্য)
- অন্যান্য আনুষঙ্গিক সরকারি ফি
এই সব মিলিয়েই মোট দলিল রেজিস্ট্রেশন খরচ নির্ধারিত হয়।
দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি কিভাবে নির্ধারণ করা হয়

দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয় কয়েকটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে,
- দলিলে উল্লেখিত সম্পত্তির মূল্য
- সম্পত্তির ধরন (জমি, ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক)
- অবস্থান (সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা গ্রামাঞ্চল)
- সরকারের নির্ধারিত বর্তমান কর ও শুল্কের হার
এই বিষয়গুলোর সমন্বয়েই একজন ক্রেতার মোট রেজিস্ট্রেশন ব্যয় নির্ধারিত হয়।
২০২৬ সালে নতুন দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি কত টাকা
২০২৬ সালে সাধারণভাবে যেসব হার প্রযোজ্য,
- রেজিস্ট্রেশন ফি: দলিল মূল্যের প্রায় ১%
- স্ট্যাম্প শুল্ক: প্রায় ১.৫%
- উৎসে আয়কর: ২%–৫% (এলাকা ও সম্পত্তিভেদে)
- স্থানীয় সরকার কর: ২%–৩% (সিটি এলাকায় বেশি)
- ভ্যাট: ২%–৪.৫% (মূলত ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক সম্পত্তিতে)
উদাহরণ
যদি কোনো জমি বা ফ্ল্যাটের দলিল মূল্য হয় ৩০ লাখ টাকা, তাহলে সব মিলিয়ে মোট খরচ হতে পারে প্রায় ২.৫ থেকে ৩ লাখ টাকা।
অর্থাৎ ২০২৬ সালে গড়ে মোট দলিল রেজিস্ট্রেশন খরচ দাঁড়ায় দলিল মূল্যের ৮%–১০%।
আরও পড়ুনঃ এফডিআর নাকি ডিপিএস: কোনটিতে বেশি লাভ?
দলিল রেজিস্ট্রেশন খরচ নির্ধারণের মূল ভিত্তি কি
দলিল রেজিস্ট্রেশন খরচ নির্ধারণের মূল ভিত্তিগুলো হলো,
- সরকার নির্ধারিত মূল্য (মৌজা মূল্য)
- দলিলে ঘোষিত মূল্য
- সম্পত্তির অবস্থান ও শ্রেণি
- সরকারি কর কাঠামো
এই কারণে একই দামে জমি হলেও এলাকা ভেদে রেজিস্ট্রেশন খরচ ভিন্ন হতে পারে।
দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় কি ধরণের খরচ যুক্ত হয়
রেজিস্ট্রেশনের সময় কিছু অতিরিক্ত কিন্তু বাধ্যতামূলক খরচ যুক্ত হয়—
- ই-ফি (প্রায় ১০০ টাকা)
- এন-ফি ও স্ক্যান ফি (২০০–৩০০ টাকা)
- কোর্ট ফি (১০ টাকা)
- হলফনামা বা এফিডেভিট (প্রায় ৩০০ টাকা)
এই খরচগুলো ছোট হলেও মোট ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়।
আরও পড়ুনঃ সোনালী ব্যাংকে টাকা জমানোর সঠিক নিয়ম
কিভাবে কম খরচে দলিল রেজিস্ট্রেশন করা যায়
আইন মেনে থেকেও কিছু ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো যায়,
- দলিলের সব ফি নিজে যাচাই করে পরিশোধ করা
- দালালের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করা
- লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ব্যবহার করা
- দলিল মূল্য কম দেখানোর ঝুঁকি না নেওয়া
সচেতন থাকলে প্রতারণা ও বাড়তি খরচ এড়ানো সম্ভব।
দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় সতর্কতা
দলিল করার সময় বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে,
- সব টাকা সরকারি রসিদের মাধ্যমে পরিশোধ হচ্ছে কি না
- দাগ, খতিয়ান, মৌজা সঠিক আছে কি না
- দলিল সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুত নামজারি করা
- অসম্পূর্ণ বা তাড়াহুড়ো করে দলিল না করা
এই সতর্কতাগুলো ভবিষ্যতের বড় আইনি ঝামেলা থেকে রক্ষা করে।
আরও পড়ুনঃ পাসওয়ার্ড ছাড়া ওয়াইফাই কানেক্ট করার নিয়ম
FAQs
সাধারণত দলিল মূল্যের ৮%–১০% পর্যন্ত মোট খরচ হতে পারে।
না, ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে ভ্যাট ও অতিরিক্ত ফি যুক্ত হতে পারে।
আইনগত মালিকানা পাওয়া যাবে না এবং ভবিষ্যতে বড় আইনি ঝুঁকি তৈরি হবে।
দ্রুত নামজারি সম্পন্ন করা।
না, এতে ভবিষ্যতে মামলা ও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
উপসংহার
২০২৬ সালে জমি বা ফ্ল্যাট কেনার আগে শুধু ক্রয়মূল্য জানলেই যথেষ্ট নয়।
নতুন দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি কত টাকা লাগবে, কোন খাতে কত খরচ হবে এবং মোট বাজেট কত দাঁড়াতে পারে—এই বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি।
সঠিক তথ্য, ধৈর্য এবং নিয়ম মেনে চললে দলিল রেজিস্ট্রেশন হতে পারে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত।
আরও পড়ুনঃ গণভোট কি? বাংলাদেশে কেন ও কিভাবে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


