বর্তমান সময়ে চাকরির বাজার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠিন। পড়াশোনা শেষ করেও অনেক তরুণ-তরুণী দীর্ঘদিন কাজ পাচ্ছেন না। তাই ইন্টারনেটে এখন একটি প্রশ্ন খুব বেশি দেখা যায়, অনলাইনে বেকার ভাতা আবেদন করার নিয়ম কী?
অনেকে আবার বিভ্রান্তিকর ফেসবুক পোস্ট বা ইউটিউব ভিডিও দেখে মনে করেন, বাংলাদেশে সরাসরি মাসিক বেকার ভাতা চালু আছে। বাস্তবতা একটু ভিন্ন।
এই পোস্টে সহজ ভাষায় জানাবো বাংলাদেশে বেকার ভাতা নিয়ে প্রকৃত তথ্য, অনলাইনে কোথায় কীভাবে আবেদন করা যায় এবং কোন বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকা জরুরি।
বেকার ভাতা কি?
বেকার ভাতা বলতে সাধারণত এমন একটি আর্থিক সহায়তাকে বোঝানো হয়, যা সরকার কর্মহীন নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দিয়ে থাকে।
ইউরোপ বা আমেরিকার অনেক দেশে নিয়মিত Unemployment Benefit থাকলেও,
👉 ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরাসরি মাসিক বেকার ভাতা চালু হয়নি।
তবে সরকার বেকার ও কর্মহীন মানুষের জন্য বিভিন্ন নামে সহায়তা দিয়ে থাকে, যেগুলোই সাধারণভাবে মানুষ “বেকার ভাতা” হিসেবে চেনে।
বেকারদের কি কি ধরনের ভাতা দেয়া হয়?
বাংলাদেশে কি সরকারিভাবে বেকার ভাতা চালু আছে?
👉উত্তর হচ্ছে: না
বাংলাদেশ সরকার মূলত নিচের কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে বেকারদের সহায়তা করে,
- সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা
- কর্মসংস্থান সৃষ্টি কর্মসূচি (৪০ দিনের কাজ)
- যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও ভাতা
- অস্থায়ী কর্মসূচির সম্মানী
এই সহায়তাগুলো নগদ টাকা, প্রশিক্ষণ ভাতা বা কাজের বিনিময়ে আয়ের সুযোগ হিসেবে দেয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ দলিল ই-রেজিস্ট্রেশন সেবা চালু করেছে সরকার: জমি নিবন্ধনে ডিজিটাল বিপ্লব
অনলাইনে বেকার ভাতা আবেদন করার নিয়ম
এখন আসি মূল প্রশ্নে অনলাইনে বেকার ভাতা আবেদন করার নিয়ম কী?
বাস্তবে আবেদন করতে হয় নির্দিষ্ট সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে।
অনলাইন আবেদন পোর্টাল
বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার সরকারি বেকার ভাতা প্রদান করে থাকে। তবে সরাসরি কোন বেকার ভাতা প্রদান করা হচ্ছে না জায়তি মধ্যে আপনারা জানতে পেরেছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে ভাতা পেতে হলে আপনি সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগদান করতে হবে। আপনার যোগ্যতা যাচাই পরবর্তী আপনাকে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ভাতা প্রদান করা হবে।
মূলত আপনাকে বেকার না রেখে কর্মক্ষম করার উদ্দেশ্য সরকারের।
তাই সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় যে সকল বেকার ও দরিদ্র মুক্ত করণ কর্মসূরি চলিতেছে সেখানে আপনাকে অংশগ্রহণ করতে হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি (SSNP)
এই কর্মসূচির আওতায় কর্মহীন ও অসচ্ছল ব্যক্তিরা ভাতা পেয়ে থাকেন।
✔ দরিদ্র ও বেকার ব্যক্তি
✔ বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্ত নারী
✔ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি
অনলাইন আবেদন পোর্টাল: https://ssnp.gov.bd
আবেদন পদ্ধতি:
- ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
- “অনলাইন আবেদন” অপশনে ক্লিক করুন
- NID অনুযায়ী তথ্য পূরণ করুন
- প্রযোজ্য ভাতা নির্বাচন করুন
- আবেদন সাবমিট করুন
আরও পড়ুনঃ টেলিটক ই সিম কি? কোথায় পাওয়া যাবে: দাম, কেনার নিয়ম
কর্মসংস্থান সৃষ্টি কর্মসূচি (EGPP)
এটি পরিচিত “৪০ দিনের কাজ” নামে।
- কাজের বিনিময়ে সম্মানী
- বেকারদের অগ্রাধিকার
- সরকারি তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন
👉 সাধারণত আবেদন হয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার মাধ্যমে। অনেক এলাকায় তথ্য ডিজিটালভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ভাতা
বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য—
- ফ্রি প্রশিক্ষণ
- নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণকালীন ভাতা
- আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ
অনলাইন রেজিস্ট্রেশন: https://dydd.gov.bd
অনলাইনে আবেদন করতে যেসব ডকুমেন্ট লাগে
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
- মোবাইল নম্বর
- ঠিকানা ও পরিবার তথ্য
- ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য (যদি প্রযোজ্য হয়)
- ছবি (কিছু কর্মসূচিতে)
আরও পড়ুনঃ ই-রিকশা কি? বুয়েটের নকশায় দেশের প্রথম নিরাপদ ই-রিকশা
কারা আবেদন করতে পারবেন?
✔ বাংলাদেশি নাগরিক
✔ কর্মহীন বা স্বল্প আয়ের ব্যক্তি
✔ সরকারি চাকরিজীবী নন
✔ একই সময়ে একাধিক সরকারি ভাতা গ্রহণ করছেন না
সতর্কতা
বর্তমানে অনলাইনে অনেক ভুয়া বিজ্ঞাপন দেখা যায়, ভুয়া বিজ্ঞাপন থেকে অতি উৎসাহী হয়ে নিজের প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কারো সাথে শেয়ার করবেন না।
অনলাইনে অনেকটা এমন প্রচার চালানো হয় যে-
- “আজই অনলাইনে বেকার ভাতা ৫,০০০ টাকা”
- “২০০ টাকা দিলে আবেদন করে দেব”
- ফেসবুক লিংকে NID ও OTP চাওয়া
👉 সরকার সরকারি ভাতা দিলে কখনো টাকা দিয়ে আবেদন করতে বলে না।
মনে রাখবেন সরকারি যেকোন সেবা পেতে সব সময় শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।
আরও পড়ুনঃ এয়ারটেল রিচার্জ অফার ২০২৬ । এয়ারটেল ১ পয়সা কল রেট অফার
FAQs – গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
না, ২০২৬ সাল পর্যন্ত সরাসরি মাসিক বেকার ভাতা চালু হয়নি।
হ্যাঁ, সব সরকারি আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
সাধারণত একজন ব্যক্তি একটির বেশি সামাজিক ভাতা পান না।
না, যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্যদের নির্বাচন করা হয়।
হ্যাঁ, সরকারি পোর্টালগুলো মোবাইল থেকেও ব্যবহার করা যায়।
উপসংহার
বাংলাদেশে সরাসরি “বেকার ভাতা” না থাকলেও সরকার বেকার ও কর্মহীন মানুষের জন্য বিভিন্ন অনলাইনভিত্তিক সামাজিক ও কর্মসংস্থান কর্মসূচি চালু রেখেছে।
সঠিক তথ্য জেনে শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই আবেদন করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
ভুল তথ্য বা লোভনীয় বিজ্ঞাপনে না পড়ে সচেতন থাকাই আপনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুনঃ জানুয়ারি ২০২৬ এ ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের নতুন দাম কত?
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


