বর্তমান সময়ে জমি সংক্রান্ত তথ্য জানার জন্য আর ভূমি অফিসে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। সরকারিভাবে চালু হওয়া ডিজিটাল ভূমি সেবার মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই অনলাইন থেকে ড্রাফট খতিয়ান তোলা সম্ভব।
বিশেষ করে জমি কেনা-বেচা, নামজারি বা প্রাথমিক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ড্রাফট খতিয়ান একটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এই পোস্টে আমরা সহজ ভাষায় জানবো ড্রাফট খতিয়ান কি, কেন এটি দরকার, অনলাইনে তুলতে কী কী কাগজ লাগে এবং ধাপে ধাপে অনলাইন থেকে ড্রাফট খতিয়ান তোলার নিয়ম।
Content Summary
ড্রাফট খতিয়ান কি?
ড্রাফট খতিয়ান হলো ভূমি রেকর্ডের একটি প্রাথমিক বা খসড়া সংস্করণ। এটি চূড়ান্ত খতিয়ান নয়, বরং জমির মালিকানা, দাগ নম্বর, মৌজা, জমির শ্রেণি ও পরিমাণ সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য দেখায়।
এই খতিয়ান মূলত যাচাই ও তথ্য মিলিয়ে দেখার জন্য ব্যবহৃত হয়। ভবিষ্যতে এটি সংশোধন বা হালনাগাদ হয়ে চূড়ান্ত খতিয়ানে রূপ নেয়।
ড্রাফট খতিয়ান কেন জরুরী?
ড্রাফট খতিয়ান অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- প্রথমত, জমি কেনার আগে জমির মালিকানা যাচাই করতে এটি সবচেয়ে সহজ মাধ্যম।
- দ্বিতীয়ত, নামজারি বা মিউটেশন করার সময় প্রাথমিক তথ্য হিসেবে এটি কাজে লাগে।
- তৃতীয়ত, জমি সংক্রান্ত ভুল বা অসঙ্গতি আগে থেকেই ধরতে পারলে ভবিষ্যতের ঝামেলা এড়ানো যায়।
সবচেয়ে বড় কথা, এটি অনলাইনে ফ্রি বা সহজে পাওয়া যায় বলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে।
অনলাইন থেকে ড্রাফট খতিয়ান তুলতে কি কি কাগজ লাগবে?
অনলাইনে ড্রাফট খতিয়ান তুলতে সাধারণত কোনো কাগজ আপলোড করার প্রয়োজন হয় না। তবে নিচের তথ্যগুলো হাতে রাখা জরুরি,
- বিভাগ
- জেলা
- উপজেলা / থানা
- মৌজা নাম
- খতিয়ান নম্বর
- (ঐচ্ছিক) দাগ নম্বর
এই তথ্যগুলো সঠিক হলে খুব সহজেই খতিয়ান বের করা সম্ভব।
আরও পড়ুনঃ প্রবাসীদের জন্য সুখবর: রেমিট্যান্স নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা
অনলাইন থেকে ড্রাফট খতিয়ান তোলার নিয়ম
অনলাইনে ড্রাফট খতিয়ান তুলতে সরকার নির্ধারিত অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হয়।
ধাপসমূহ বিস্তারিত আলোচনা
ধাপ–১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
ব্রাউজার থেকে নিচের যেকোনো একটি ওয়েবসাইটে যান,
- land.gov.bd
- www.eporcha.gov.bd
ধাপ–২: খতিয়ান সেবা নির্বাচন করুন
হোমপেজ থেকে “খতিয়ান” বা “ডিজিটাল খতিয়ান” অপশনে ক্লিক করুন।
এরপর “ড্রাফট খতিয়ান” নির্বাচন করুন।
ধাপ–৩: প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন
ক্রম অনুযায়ী বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা ও খতিয়ান নম্বর দিন। যদি অপশন থাকে, চাইলে দাগ নম্বর দিয়েও সার্চ করা যাবে।
ধাপ–৪: সার্চ করুন
সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর Search বা অনুসন্ধান বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ–৫: ডাউনলোড বা প্রিন্ট নিন
আপনার জমির ড্রাফট খতিয়ান স্ক্রিনে দেখাবে। এখান থেকে PDF ডাউনলোড করতে পারবেন অথবা সরাসরি প্রিন্ট নিতে পারবেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে রাখুন
- ড্রাফট খতিয়ান কোনো চূড়ান্ত দলিল নয়
- এটি শুধুমাত্র যাচাই ও প্রাথমিক তথ্যের জন্য
- জমি কেনা-বেচার আগে চূড়ান্ত খতিয়ান ও রেজিস্ট্রি দলিল অবশ্যই মিলিয়ে দেখবেন
- তথ্য না পেলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস বা AC Land অফিসে যোগাযোগ করুন
আরও পড়ুনঃ এলপি গ্যাসে ভ্যাট কমলো: দাম কমার সম্ভাবনা, তবু কেন সংকটে ভোক্তা?
FAQs (প্রশ্ন ও উত্তর)
না, এটি আইনি চূড়ান্ত দলিল নয়। শুধুমাত্র প্রাথমিক যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।
সাধারণত কোনো ফি লাগে না।
কিছু ক্ষেত্রে দাগ নম্বর দিয়ে খোঁজার অপশন থাকে।
উপজেলা ভূমি অফিস বা AC Land অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
না, জমি কেনার আগে অবশ্যই চূড়ান্ত খতিয়ান ও রেজিস্ট্রি দলিল যাচাই করতে হবে।
উপসংহার
ডিজিটাল ভূমি সেবার কারণে অনলাইন থেকে ড্রাফট খতিয়ান তোলা এখন অনেক সহজ ও সময় সাশ্রয়ী।
তবে মনে রাখতে হবে, এটি শুধুমাত্র প্রাথমিক যাচাইয়ের জন্য। জমি সংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব ধরনের চূড়ান্ত কাগজপত্র যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
আরও পড়ুনঃ ট্রেড লাইসেন্স ফি তালিকা ২০২৬ — সব তথ্য এক জায়গায়
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


