পাসপোর্ট রেংকিং কি: বাংলাদেশের অবস্থান, সুবিধা–অসুবিধা ও উন্নতির উপায়

বর্তমান বিশ্বে পাসপোর্ট শুধু বিদেশ ভ্রমণের কাগজ নয়। এটি একটি দেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, কূটনৈতিক শক্তি এবং নাগরিকদের বৈশ্বিক চলাচলের সক্ষমতার প্রতীক। তাই অনেকের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে পাসপোর্ট রেংকিং কি, আর বাংলাদেশের পাসপোর্ট বিশ্বের কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?

শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা পর্যটনের জন্য বিদেশে যেতে হলে প্রথম যে বিষয়টি সামনে আসে, সেটি হলো ভিসা। আর কত সহজে ভিসা পাওয়া যাবে, সেটিই মূলত পাসপোর্ট রেংকিং দ্বারা নির্ধারিত হয়।

এই লেখায় আমরা জানবো পাসপোর্ট রেংকিং কী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান কত, কেন রেংকিং কমে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এটি উন্নত করা সম্ভব।

পাসপোর্ট রেংকিং কি?

পাসপোর্ট রেংকিং হলো একটি আন্তর্জাতিক সূচক, যার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয় একটি দেশের নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই বা সহজ ভিসায় কতগুলো দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। এখানে ভিসা-ফ্রি, ভিসা অন অ্যারাইভাল এবং ই-ভিসা সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

যত বেশি দেশে সহজ প্রবেশাধিকার থাকে, সেই দেশের পাসপোর্ট তত শক্তিশালী হিসেবে ধরা হয়।

মূলত এটি একটি দেশের আন্তর্জাতিক আস্থা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

বাংলাদেশ পাসপোর্ট রেংকিং কত ২০২৬

হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সাম্প্রতিক তালিকায় বাংলাদেশ যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়া ও কসোভোর সঙ্গে যৌথভাবে ১০৩তম স্থানে রয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এবছর বাংলাদেশের পাসপোর্ট রেংকিংয়ে ৫ ধাপ উন্নতি হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৮ নম্বরে।

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হেনলি অ্যান্ড পার্টনারস ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই পাসপোর্ট রেংকিং প্রকাশ করে আসছে।

কোন দেশের পাসপোর্টধারীরা কতটি দেশে ভিসা ছাড়াই বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করতে পারেন, সেই মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্টের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।

২০২৬ সালের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশের পাসপোর্ট বিশ্বের নিচের দিকের অবস্থানে রয়েছে। সাধারণভাবে বাংলাদেশের পাসপোর্ট প্রায় ১০০-এর আশেপাশে রেংকিং ধরে রেখেছে।

ভিসা-ফ্রি, ভিসা অন অ্যারাইভাল ও ই-ভিসা মিলিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকরা আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০টি দেশে তুলনামূলক সহজে ভ্রমণ করতে পারেন।

এই সংখ্যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় কম, ফলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বাংলাদেশিদের এখনও অনেক বেশি ভিসা জটিলতার মুখে পড়তে হয়।

আরও পড়ুনঃ পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে ভিসা চেক মালয়েশিয়া

বাংলাদেশের পাসপোর্ট রেংকিং কমে যাওয়ার কারণ

বাংলাদেশের পাসপোর্ট রেংকিং কম থাকার পেছনে কয়েকটি বাস্তব কারণ রয়েছে। প্রথমত, অনেক দেশের সঙ্গে এখনো ভিসা-ফ্রি বা সহজ ভিসা চুক্তি হয়নি।

দ্বিতীয়ত, কিছু দেশে অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি হিসেবে বাংলাদেশকে বিবেচনা করা হয়।

এছাড়া অর্থনৈতিক সূচক, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং কূটনৈতিক প্রভাবও পাসপোর্ট রেংকিং নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। এসব কারণ মিলেই বাংলাদেশের পাসপোর্ট তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।

পাসপোর্ট রেংকিং ভালোর উপকারিতা

পাসপোর্ট রেংকিং ভালো হলে নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ অনেক সহজ হয়ে যায়। কম ভিসা ঝামেলা মানে সময় ও খরচ সাশ্রয়।

ব্যবসায়ীরা দ্রুত বিদেশে যেতে পারেন, শিক্ষার্থীরা সহজে সুযোগ পান এবং পর্যটন খাতও উপকৃত হয়।

একই সঙ্গে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উন্নত হয়, যা বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে সহায়ক।

পাসপোর্ট রেংকিং কমে গেলে কি কি অসুবিধা হয়

রেংকিং কম হলে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হয়। অনেক সময় দূতাবাসে সাক্ষাৎকার, অতিরিক্ত কাগজপত্র ও দীর্ঘ অপেক্ষার মুখে পড়তে হয়।

এতে সাধারণ নাগরিকের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা বড় সমস্যায় পড়েন। আন্তর্জাতিক সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে যেতে হয়।

পাসপোর্ট রেংকিং উন্নত করার উপায়

পাসপোর্ট রেংকিং উন্নত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ভিসা-ফ্রি চুক্তি, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও পর্যটন সম্প্রসারণ এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

এছাড়া অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জালিয়াতি রোধ এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়তা করে।

আরও পড়ুনঃ ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

বাংলাদেশের পাসপোর্ট রেংকিং ভালো রেংকিং কত ছিল?

ভিন্ন কারণে পাসপোর্ট এর রেংকিং উঠানামা করে। বাংলাদেশের পাসপোর্ট রেংকিং ভালো রেংকিং ছিল ৯৫তম।

বাংলাদেশের পাসপোর্ট অতীতে কিছুটা ভালো অবস্থানে ছিল, যখন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ তুলনামূলক কম সীমাবদ্ধ ছিল এবং ভিসা নীতিমালা কঠোর হয়নি।

তবে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের কারণে ধীরে ধীরে রেংকিং নিচের দিকে নেমে আসে।

তবুও সময়ভেদে কিছু উন্নতি দেখা গেছে, যা ভবিষ্যতে আরও ভালো হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।

আরও পড়ুনঃ পাসপোর্ট রিনিউ করতে কত টাকা লাগে: হালনাগাদ ফি ও পূর্ণাঙ্গ গাইড

FAQs

পাসপোর্ট রেংকিং কি শুধু ভিসা-ফ্রি দেশের ওপর নির্ভর করে?

না, ভিসা অন অ্যারাইভাল ও ই-ভিসার সুবিধাও রেংকিংয়ে গণনা করা হয়।

বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে কি কাজ করা যায়?

ভিসা-ফ্রি বা সহজ ভিসা সাধারণত কাজের অনুমতি দেয় না।

পাসপোর্ট রেংকিং কি প্রতি বছর পরিবর্তন হয়?

হ্যাঁ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভিসা নীতির পরিবর্তনে রেংকিং বদলায়।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রেংকিং কি উন্নত হতে পারে?

সঠিক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিলে উন্নতির সুযোগ রয়েছে।

পাসপোর্ট শক্তিশালী হলে নাগরিকরা কী সুবিধা পায়

ভ্রমণ সহজ হয়, খরচ কমে এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ বাড়ে।

উপসংহার

পাসপোর্ট রেংকিং একটি দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান ও নাগরিকদের চলাচলের স্বাধীনতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। বর্তমানে বাংলাদেশের পাসপোর্ট তুলনামূলক দুর্বল হলেও এটি স্থায়ী কোনো বিষয় নয়।

সচেতন কূটনৈতিক উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সঠিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পাসপোর্ট রেংকিং উন্নত হওয়া সম্ভব।

ভ্রমণের আগে নিয়ম জানা ও প্রস্তুত থাকাই একজন নাগরিকের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম 

এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের  ফেসবুক পেজ।

WhatsApp Group Join Now
WhatsApp Group 1 Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Comment