বাংলাদেশের প্রবাসী নাগরিকদের জন্য নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের পর এবার চালু হতে যাচ্ছে “প্রবাসী কার্ড”। সরকারের দাবি অনুযায়ী, আগামী দুই মাসের মধ্যেই এই কার্ড কার্যক্রম শুরু হতে পারে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহ দেওয়া, প্রবাসীদের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা এবং বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ আর্থিক ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় দেড় কোটির বেশি বাংলাদেশি অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু তাদের অনেকের তথ্য সরকারের কাছে নেই।
নতুন এই প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে সরকার একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করতে চায়, যাতে প্রবাসীদের পরিচয়, কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং ও জরুরি সহায়তা একসাথে যুক্ত থাকবে।
Content Summary
প্রবাসী কার্ড কী এবং কেন
প্রবাসী কার্ড হলো প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য একটি ডিজিটাল পরিচয় ও সেবা কার্ড। এটি শুধু পরিচয়পত্র হিসেবেই নয়, বরং ব্যাংকিং সুবিধা, রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিভিন্ন সরকারি সেবার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে তাদের জন্য দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা। কিউআর কোডভিত্তিক এই কার্ড ডিজিটালভাবে যাচাই করা যাবে এবং মোবাইলের মাধ্যমেও ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
প্রবাসী কার্ড কি কি সুবিধা থাকবে?
নতুন প্রবাসী কার্ডে শুধু পরিচয় নয়, একাধিক আর্থিক ও নাগরিক সুবিধা যুক্ত থাকবে। সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা ডুয়েল কারেন্সি সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ বিদেশি মুদ্রা এবং বাংলাদেশি টাকায় একই কার্ড ব্যবহার করা যাবে।
এছাড়া পরিবারকে অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে কেনাকাটা করে দেওয়ার সুবিধাও যুক্ত হতে পারে। রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা ও প্রণোদনার সুযোগও থাকছে। বিমানবন্দরে হয়রানি কমানো, দ্রুত সেবা পাওয়া এবং বিশেষ কাউন্টার সুবিধাও ভবিষ্যতে যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
সরকার আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে প্রবাসী সিটি প্রকল্পে আবাসন বা প্লট কেনার ক্ষেত্রেও কার্ডধারীরা বিশেষ সুবিধা পেতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ দীর্ঘ ৪ বছর পর কাস্টমস নিলামে ৭৬ যানবাহন, কম দামে মোটরসাইকেল কেনার সুযোগ
সবার আগে কারা পাবেন প্রবাসী কার্ড
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে যেসব প্রবাসীর বিএমইটি কার্ড রয়েছে, তারাই সবার আগে প্রবাসী কার্ড পাবেন। কারণ তাদের তথ্য ইতোমধ্যে সরকারি ডাটাবেজে সংরক্ষিত রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বৈধ বাংলাদেশি শ্রমিক, পেশাজীবী এবং নিবন্ধিত প্রবাসীদের এই কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে ধাপে ধাপে অন্যান্য প্রবাসীদেরও এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হতে পারে।
কিভাবে পাবেন প্রবাসী কার্ড
প্রবাসী কার্ড পাওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে অনলাইন বা দূতাবাসভিত্তিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু হতে পারে। যাদের বিএমইটি কার্ড রয়েছে, তাদের তথ্য যাচাই করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও হাইকমিশনের মাধ্যমে এই কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা করছে সরকার। যারা নতুনভাবে নিবন্ধিত হবেন, তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে কার্ড দেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ ঢাকার সড়কে চালু হলো সৌরবিদ্যুৎচালিত চলমান ট্রাফিক সিগন্যাল
প্রবাসী কার্ডের জন্য আবেদন করার নিয়ম
সরকার এখনো চূড়ান্ত আবেদন পদ্ধতি ঘোষণা না করলেও সম্ভাব্য প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, আবেদনকারীদের পাসপোর্ট, ভিসা, বিএমইটি তথ্য, এনআইডি এবং বর্তমান কর্মস্থলের তথ্য জমা দিতে হতে পারে।
যাদের বিএমইটি কার্ড নেই, তাদের নতুন করে নিবন্ধন করতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে আবেদন করতে হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কার্ড কার্যকর করতে হলে শুধু ঘোষণা দিলেই হবে না, বাস্তব সেবা নিশ্চিত করতে হবে। প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং, রেমিট্যান্স, নিরাপত্তা এবং সরকারি সহায়তা সহজ করতে পারলেই এই উদ্যোগ সফল হবে।
প্রবাসী কার্ড নিয়ে প্রবাসীদের প্রত্যাশা
বিদেশে থাকা অনেক বাংলাদেশি মনে করছেন, যদি এই কার্ড বাস্তব সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে তাহলে এটি প্রবাসীদের জন্য বড় সহায়ক হবে।
বিশেষ করে বিমানবন্দর সেবা, জরুরি সহায়তা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং সরকারি স্বীকৃতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে অনেকেই আগের বিএমইটি কার্ডের অভিজ্ঞতা থেকে সতর্ক অবস্থানে আছেন। তাদের মতে, শুধু নতুন কার্ড নয়, কার্যকর ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রবাসী নাগরিকদের জন্য একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বৈধ রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, ডিজিটাল পরিচয় এবং আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে এটি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই কার্ড বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হয় এবং প্রবাসীরা কত দ্রুত ও সহজে সেবা পান।
সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত হলে প্রবাসী কার্ড দেশের কোটি কোটি প্রবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পরিচয় হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুনঃ স্টারলিংককে নন-ফিল্টারড ডেটা সুবিধা দিতে যাচ্ছে বিটিআরসি
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
তথ্যসুত্রঃ bbc.com/bengali
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


