প্রবাসীদের জন্য সুখবর, বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির একটি বড় চালিকাশক্তি। তবে অনেক সময় এই রেমিট্যান্স গ্রাহকের হিসাবে জমা হতে দেরি হওয়ায় ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। সেই সমস্যা সমাধানে রেমিট্যান্স নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্য নিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রাহকের হিসাবে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহককে দ্রুত অবহিত করা এবং ডিজিটাল প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রবাসী আয় ব্যবস্থাপনায় গতি আসবে বলে আশা করছেন ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা।
Content Summary
রেমিট্যান্স কি?
রেমিট্যান্স বলতে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা যে অর্থ দেশে তাদের পরিবার বা স্বজনদের কাছে পাঠান, সেটাকেই বোঝায়। এই অর্থ সাধারণত ব্যাংক, মানি এক্সচেঞ্জ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে আসে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রেমিট্যান্স দ্রুত ও নিরাপদভাবে গ্রাহকের হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।
আরও পড়ুনঃ প্রবাসীরা কিভাবে ভোটার আইডি কার্ড পাবেন: সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬
রেমিট্যান্স নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা কি
বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নতুন সার্কুলার অনুযায়ী,
- ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে রেমিট্যান্স এলে একই দিনে গ্রাহকের হিসাবে জমা দিতে হবে
- ব্যাংকিং সময়ের পর এলে পরবর্তী কর্মদিবসে টাকা জমা দিতে হবে
- রেমিট্যান্স আসার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহককে এসএমএস বা নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানাতে হবে
- প্রয়োজনীয় তথ্য থাকলে কিছু যাচাই বা কাগজপত্র পরে সম্পন্ন করা যাবে, তবে আগে টাকা জমা দেওয়া যাবে
- যেসব ক্ষেত্রে পরে যাচাই সম্ভব নয়, সেখানে সর্বোচ্চ ৩ কর্মদিবসের মধ্যে যাচাই শেষে লেনদেন নিষ্পত্তি করতে হবে
এছাড়া, পুরো প্রক্রিয়া ট্র্যাক করার জন্য ইউনিক এন্ড-টু-এন্ড ট্রানজেকশন রেফারেন্স (UETR) ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন রেমিট্যান্স নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা
এই নতুন নির্দেশনা দেওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে,
প্রথমত, অনেক ক্ষেত্রে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ ব্যাংকে আটকে থাকত যাচাই ও কাগজপত্রের কারণে। এতে গ্রাহকের আস্থা কমছিল।
দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতির পরও রেমিট্যান্স প্রসেসিংয়ে সময় লাগছিল, যা আধুনিক ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী দ্রুত লেনদেন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই উদ্যোগ নিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা আরও সহজ, দ্রুত এবং গ্রাহকবান্ধব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ই ট্রেড লাইসেন্স করার নিয়ম ও খরচ
FAQs (প্রশ্ন ও উত্তর)
বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারির দিন থেকেই নির্দেশনাটি কার্যকর হয়েছে।
হ্যাঁ, সব অনুমোদিত ডিলার (AD) ব্যাংকের জন্য এই নির্দেশনা প্রযোজ্য।
ব্যাংকগুলোকে এসএমএস বা ডিজিটাল নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গ্রাহককে জানাতে হবে।
প্রয়োজনীয় তথ্য থাকলে কিছু যাচাই পরে করেও আগে টাকা জমা দেওয়া যাবে।
দ্রুত টাকা পাওয়া, কম ভোগান্তি এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
উপসংহার
রেমিট্যান্স নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। এতে প্রবাসী আয় দ্রুত গ্রাহকের হাতে পৌঁছাবে এবং অপ্রয়োজনীয় দেরি কমবে।
রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে প্রবাসীদের আস্থা যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুনঃ আকিজ ইলেকট্রিক অটো রিক্সার দাম কত টাকা
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


