হঠাৎ করে মোবাইলে নেটওয়ার্ক না পাওয়া, কল না যাওয়া বা সিম ব্লক দেখালে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। বর্তমানে মোবাইল সিম ছাড়া দৈনন্দিন অনেক কাজই প্রায় অচল হয়ে যায়। ব্যাংকিং ওটিপি, বিকাশ, নগদ, অফিসের কল কিংবা ব্যক্তিগত যোগাযোগ সবকিছুই সিমের ওপর নির্ভরশীল। তাই সিম ব্লক হলে করণীয় জানা থাকা খুব জরুরি।
অনেক সময় সামান্য একটি ভুলের কারণেই সিম ব্লক হয়ে যায়। ভুল পিন দেওয়া, দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের গরমিল এর পেছনের প্রধান কারণ।
অথচ সঠিক নিয়ম জানলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খুব সহজে আবার সিম চালু করা সম্ভব।
এই লেখায় আমরা ধাপে ধাপে জানব সিম ব্লক হলে করণীয় কী, কোন অপারেটরের সিম কীভাবে আনব্লক করবেন এবং ভবিষ্যতে যেন এই সমস্যায় না পড়েন তার কার্যকর পরামর্শ।
পুরো পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়লে আপনি নিজেই সমাধান নিতে পারবেন।
Content Summary
সিম ব্লক কি?
সিম ব্লক বলতে বোঝায় এমন একটি অবস্থা যেখানে আপনার সিম কার্ড অপারেটরের নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হতে পারে না। এর ফলে কল করা, কল রিসিভ করা, এসএমএস পাঠানো বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।
কিছু ক্ষেত্রে ফোনে “SIM blocked” বা “No service” লেখা দেখা যায়। এটি সবসময় স্থায়ী সমস্যা নয়। অনেক সময় এটি সাময়িক ব্লক হয়, যেটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে খুব সহজেই খোলা যায়।
তবে পিইউকে কোড বারবার ভুল দিলে বা মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা থাকলে সিম স্থায়ীভাবে বন্ধও হয়ে যেতে পারে।
তাই সিম ব্লক হলে করণীয় বুঝে নেওয়ার আগে ব্লকের ধরন জানা খুব জরুরি।
সিম কেন ব্লক হয় কারণ কি কি?
সিম ব্লক হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি সাধারণ কারণ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ভুল পিন কোড দেওয়ার সমস্যা। তিনবার ভুল পিন দিলে সিম স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক হয়ে যায়।
দীর্ঘদিন সিম ব্যবহার না করলে অপারেটর সেটিকে ইনঅ্যাকটিভ ঘোষণা করে ব্লক করতে পারে। সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাস কোনো কল, এসএমএস বা রিচার্জ না হলে এই সমস্যা হয়।
এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সাথে সিম রেজিস্ট্রেশনের তথ্য না মিললে, ভুল বায়োমেট্রিক তথ্য থাকলে বা সরকারি নির্দেশনায় অপারেটর অনেক সময় সিম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
হারানো সিম কিংবা নিরাপত্তাজনিত কারণেও সিম ব্লক হতে পারে।
সিম ব্লক হলে করণীয় কি?
সিম ব্লক হলে করণীয় নির্ভর করে ব্লকের কারণের ওপর।
যদি ভুল পিনের কারণে সিম ব্লক হয়, তাহলে পিইউকে কোড ব্যবহার করে আনলক করা যায়।
এই কোড সিম কার্ডের প্যাকেটে থাকে অথবা অপারেটরের অফিসিয়াল অ্যাপ ও কাস্টমার কেয়ার থেকে পাওয়া যায়।
যদি অপারেটর নিজে সিম ব্লক করে দেয়, যেমন এনআইডি মিসম্যাচ বা ইনঅ্যাকটিভ সিমের কারণে, তাহলে নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যেতে হবে।
সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন করলে সিম আবার চালু করে দেওয়া হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আন্দাজে বারবার কোড দেওয়ার চেষ্টা না করা। এতে সিম স্থায়ীভাবে ডেড হয়ে যেতে পারে।
সিম পাক ব্লক খোলার নিয়ম
পিন লকজনিত সিম ব্লক খোলার জন্য পিইউকে কোড প্রয়োজন হয়।
এই কোড সিম প্যাকেটে সংরক্ষিত থাকে।
যদি প্যাকেট না থাকে, তাহলে অপারেটরের অফিসিয়াল অ্যাপ বা কাস্টমার কেয়ারে কল করে পিইউকে কোড সংগ্রহ করতে পারবেন।
পিইউকে কোড ইনপুট করার পর নতুন একটি পিন সেট করতে হয়।
সঠিকভাবে এই ধাপ শেষ করলে সিম আবার চালু হয়ে যাবে।
মনে রাখতে হবে, পিইউকে কোড দশবার ভুল দিলে সিম স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ আইওটি ডাটা সিম কী? কিভাবে কাজ করে, কবে আসবে
গ্রামীন সিম ব্লক খোলার নিয়ম
গ্রামীনফোন সিম ব্লক হলে প্রথমে যাচাই করুন এটি পিন লক নাকি অপারেটর ব্লক।
পিন লকের ক্ষেত্রে MyGP অ্যাপ বা কাস্টমার কেয়ার নম্বরে কল করে পিইউকে কোড নিতে পারেন।
যদি এনআইডি বা ইনঅ্যাকটিভ সমস্যার কারণে ব্লক হয়, তাহলে নিকটস্থ গ্রামীনফোন কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে যেতে হবে।
বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন শেষে সিম পুনরায় চালু করা হয়।
এয়ারটেল পাক ব্লক খোলার নিয়ম
এয়ারটেল সিম ব্লক হলে MyAirtel অ্যাপ বা কাস্টমার কেয়ার থেকে পিইউকে কোড সংগ্রহ করা যায়। পিনজনিত সমস্যা হলে নিজেই আনলক করা সম্ভব।
অন্য ক্ষেত্রে এয়ারটেল কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়ে এনআইডি দেখিয়ে বায়োমেট্রিক আপডেট করাতে হয়।
তথ্য ঠিক থাকলে খুব দ্রুত সিম আনব্লক করে দেওয়া হয়।
রবি সিম ব্লক খোলার নিয়ম
রবি সিম ব্লক হলে MyRobi অ্যাপ ব্যবহার করে পিইউকে কোড জানা যায়। পিন লক খুলতে অ্যাপ বা কাস্টমার কেয়ারের সহায়তা নিন।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে হলে কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়ে সিম রিঅ্যাকটিভেশন করতে হয়। প্রয়োজনে সামান্য চার্জ লাগতে পারে।
আরও পড়ুনঃ সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নিয়ম
বাংলালিংক সিম ব্লক খোলার নিয়ম
বাংলালিংক সিম ব্লক হলে MyBL অ্যাপ বা কাস্টমার কেয়ার থেকে পিইউকে কোড পাওয়া যায়। ভুল পিনের কারণে হলে নিজেই আনলক করা সম্ভব।
এনআইডি বা মালিকানা সমস্যার ক্ষেত্রে কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়ে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন করাতে হবে।
টেলিটক সিম ব্লক খোলার নিয়ম
টেলিটক সিম ব্লক হলে টেলিটক অ্যাপ বা কাস্টমার কেয়ার থেকে পিইউকে কোড নিতে পারেন। পিন লক হলে এই পদ্ধতিতেই আনলক করা যায়।
অপারেটর ব্লক বা ইনঅ্যাকটিভ সমস্যার জন্য টেলিটক কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ উপস্থিত হতে হয়।
আরও পড়ুনঃ সকল সিমের টাকা কাটা বন্ধ করার কোড
FAQs
হ্যাঁ, যদি পিন লকের কারণে ব্লক হয় তাহলে পিইউকে কোড ব্যবহার করে নিজেই ঠিক করা যায়। অন্য ক্ষেত্রে কাস্টমার কেয়ারে যেতে হয়।
সিম প্যাকেট, অপারেটরের অফিসিয়াল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা কাস্টমার কেয়ার থেকে পাওয়া যায়।
অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব। কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়ে সিম রিঅ্যাকটিভেশন করতে হয়।
বারবার ভুল দিলে সিম স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই খুব সতর্ক থাকতে হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়ে ডুপ্লিকেট সিম নিতে হবে।
Conclusion
সিম ব্লক হলে করণীয় জানা থাকলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি সাময়িক সমস্যা এবং সঠিক নিয়ম অনুসরণ করলে দ্রুত সমাধান সম্ভব।
সবসময় পিন ও পিইউকে কোড সংরক্ষণ করুন এবং সিম রেজিস্ট্রেশনের তথ্য এনআইডির সাথে মিলিয়ে রাখুন।
এতে ভবিষ্যতে সিম ব্লকজনিত ঝামেলা অনেকটাই কমে যাবে।
আরও পড়ুনঃ BTCL সিমে কোন নেটওয়ার্ক চলবে? সম্পূর্ণ তথ্য ও বিশ্লেষণ
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


