সিম জালিয়াতি বন্ধ: সিম নিবন্ধনে বিটিআরসি’র ডিজিটাল কবজ

সিম জালিয়াতি রুখতে বিটিআরসি’র ডিজিটাল কবজ এখন মোবাইল গ্রাহকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, গ্রাহকের অজান্তেই তার নামে নতুন সিম নিবন্ধন হয়ে যাচ্ছে।

আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে জালিয়াতি চক্র এই কাজ করছে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে। এতে আর্থিক প্রতারণা, মোবাইল ব্যাংকিং ঝুঁকি এবং পরিচয় চুরির মতো ঘটনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সিম নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিম জালিয়াতি রুখতে বিটিআরসি’র ডিজিটাল কবজ হিসেবে ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ শুধু ফিঙ্গারপ্রিন্ট নয়, এখন মুখের মিলও যাচাই করা হবে।

ফলে অন্য কেউ কারও এনআইডি বা আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে সিম তুলতে পারবে না। এতে নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও নিরাপদ ও যাচাইযোগ্য হবে।

গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

সিম জালিয়াতি কীভাবে হচ্ছে?

বর্তমানে সিম নিবন্ধনের জন্য বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কিছু অসাধু চক্র প্রযুক্তিগত কারসাজির মাধ্যমে আঙুলের ছাপ নকল করে সিম রেজিস্ট্রেশন করছে। গ্রাহক বুঝতেই পারছেন না তার নামে নতুন নম্বর চালু হয়েছে।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

এই জালিয়াতি ব্যবহার করে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা, ভুয়া কল, প্রতারণামূলক এসএমএস এবং অপরাধমূলক কাজ করা হচ্ছে। পরে তদন্তে গিয়ে আসল গ্রাহক ঝামেলায় পড়ছেন। তাই শুধু ফিঙ্গারপ্রিন্ট নির্ভরতা এখন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বিটিআরসি’র ডিজিটাল কবজ কী?

সিম জালিয়াতি রুখতে বিটিআরসি’র ডিজিটাল কবজ বলতে নতুন নিরাপত্তা স্তর বোঝানো হচ্ছে। এখানে ফেস রিকগনিশন বা Face ID প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিম নিবন্ধন যাচাই করা হবে।

নিবন্ধনের সময় গ্রাহকের মুখের ছবি তাৎক্ষণিকভাবে ডাটাবেইসের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

এনআইডি ডাটাবেইসের ছবির সাথে মিল না থাকলে সিম নিবন্ধন সম্পন্ন হবে না। এতে ভুয়া পরিচয়ে সিম তোলার সুযোগ অনেক কমে যাবে।

ফেস রিকগনিশন পদ্ধতি কীভাবে কাজ করবে

ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি ক্যামেরার মাধ্যমে গ্রাহকের মুখ স্ক্যান করে। তারপর সফটওয়্যার সেই ছবি সরকারি ডাটাবেইসের ছবির সাথে মিলিয়ে দেখে। মিল পেলে নিবন্ধন অনুমোদন হয়।

এই প্রক্রিয়া কয়েক সেকেন্ডেই সম্পন্ন করা সম্ভব। এতে আলাদা কোনো জটিলতা নেই।

সিম কেনার সময় দোকান থেকেই যাচাই করা যাবে। ফলে নিবন্ধন পয়েন্টেই জালিয়াতি আটকে দেওয়া সম্ভব হবে।

আরও পড়ুনঃ টিসিবির পণ্য মিলবে মুদি দোকানে? নতুন ঘোষণা

গ্রাহকের তথ্য কতটা নিরাপদ

অনেকের মনে প্রশ্ন আছে, মুখের তথ্য নেওয়া হলে তা নিরাপদ থাকবে কি না। মোবাইল অপারেটরদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রাহকের বায়োমেট্রিক ও ফেস ডাটা সুরক্ষিত সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে।

এই তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। কেবল যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার হবে।

ডাটা প্রটেকশন নীতিমালা মেনে সংরক্ষণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় থাকবে।

মোবাইল অপারেটরদের ভূমিকা

নতুন পদ্ধতি চালু হলে মোবাইল অপারেটরদের নিবন্ধন সফটওয়্যার আপডেট করতে হবে। রিটেইলার পয়েন্টগুলোতে ক্যামেরা ও যাচাই সিস্টেম যুক্ত করা হবে।

অপারেটররা বলছে, তারা ইতোমধ্যে অবকাঠামো প্রস্তুত রাখছে।

পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে পরে দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করা হতে পারে। এতে নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।

আরও পড়ুনঃ নগদ এজেন্ট কমিশন কত টাকা? ১০০০ টাকায় কত টাকা লাভ

সাধারণ গ্রাহক কী করবেন

গ্রাহকদের উচিত নিজের এনআইডি দিয়ে কয়টি সিম নিবন্ধিত আছে তা নিয়মিত চেক করা।

সন্দেহজনক কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে অপারেটর বা বিটিআরসি হেল্পলাইনে অভিযোগ করা দরকার।

অপরিচিত কারও কাছে এনআইডি কপি বা আঙুলের ছাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

নতুন সিম তুললে নিশ্চিত হতে হবে যে নিবন্ধন সঠিকভাবে নিজের উপস্থিতিতেই হচ্ছে।

ভবিষ্যতে সিম নিবন্ধন আরও কড়াকড়ি হবে

ডিজিটাল নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার কারণে সিম নিবন্ধনে আরও কড়াকড়ি আসছে। ফেস রিকগনিশন যুক্ত হলে একাধিক স্তরের যাচাই হবে।

এতে সময় সামান্য বেশি লাগলেও নিরাপত্তা অনেক বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদে এটি গ্রাহক ও দেশের ডিজিটাল সিস্টেমের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আরও পড়ুনঃ জাতীয় এআই নীতিমালার খসড়া প্রকাশ, বাংলাদেশ কি এবার এআই হাব হতে যাচ্ছে

FAQs

সিম জালিয়াতি রুখতে বিটিআরসি’র ডিজিটাল কবজ কী?

এটি সিম নিবন্ধনে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেখানে ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহকের পরিচয় যাচাই করা হবে।

ফেস রিকগনিশন ছাড়া কি সিম নিবন্ধন হবে না?

নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে ফিঙ্গারপ্রিন্টের পাশাপাশি মুখের যাচাইও বাধ্যতামূলক হতে পারে।

এতে কি সিম রেজিস্ট্রেশন সময় বেশি লাগবে?

সাধারণভাবে কয়েক সেকেন্ড বেশি লাগতে পারে, তবে পুরো প্রক্রিয়া দ্রুতই শেষ হবে।

আমার মুখের তথ্য কি ঝুঁকিতে পড়বে?

নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অপারেটররা বলছে, ডাটা সুরক্ষিত সার্ভারে রাখা হবে এবং অপব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।

নিজের নামে কয়টি সিম আছে কীভাবে জানব?

অপারেটরের নির্দিষ্ট কোড বা ওয়েবসাইটে গিয়ে এনআইডি দিয়ে চেক করা যায়।

উপসংহার

সিম জালিয়াতি রুখতে বিটিআরসি’র ডিজিটাল কবজ উদ্যোগটি সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ।

প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে প্রযুক্তিকেই ব্যবহার করা হচ্ছে।

ফেস রিকগনিশন যুক্ত হলে সিম নিবন্ধন আরও নিরাপদ হবে এবং গ্রাহকের পরিচয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

সচেতন ব্যবহার এবং শক্ত যাচাই ব্যবস্থাই এখানে মূল ভরসা।

আরও পড়ুনঃ এক লাফে স্বর্ণের দাম বাড়ল ১৬২১৩ টাকা, ভরি কত

এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

WhatsApp Group Join Now
WhatsApp Group 1 Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Comment