নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে সয়াবিন তেল সরবরাহ করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য এবার দুই কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের লাখো পরিবার কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান এই তেল সরবরাহ করবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
Content Summary
কেন সয়াবিন তেল আমদানি করছে সরকার
বর্তমানে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে টিসিবির মাধ্যমে কম দামে তেল বিক্রি করে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে সরকার। ফ্যামিলি কার্ডধারীরা নির্ধারিত দামে এই সয়াবিন তেল কিনতে পারবেন।
কত টাকার তেল কেনা হচ্ছে
সরকার মোট ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল আমদানি করবে। এই তেল কিনতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ২৮২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার তেলের ক্রয়মূল্য পড়বে প্রায় ১৪১ টাকা ২৮ পয়সা। তবে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হলে প্রতি লিটারের মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১৭৮ টাকা ৫৬ পয়সা।
স্থানীয় বাজারের তুলনায় দাম কত কম
বর্তমানে দেশের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের নির্ধারিত দাম প্রতি লিটার ১৯৯ টাকা। সেই তুলনায় টিসিবির মাধ্যমে সরবরাহ করা তেলের দাম কম হওয়ায় সাধারণ মানুষ কিছুটা সুবিধা পাবেন।
বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
আরও পড়ুনঃ বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করার নিয়ম: এই আইনে দ্রুত প্রতিকার পাওয়ার উপায়
কোন প্রতিষ্ঠান তেল সরবরাহ করবে
ইন্দোনেশিয়ার পিটি ট্রিনিটি কাহায়া এনার্জি নামের প্রতিষ্ঠান এই সয়াবিন তেল সরবরাহ করবে। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নির্বাচিত হয়েছে।
সরকার আশা করছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই তেল দেশে এসে টিসিবির মাধ্যমে বিক্রি শুরু হবে।
এলএনজি আমদানির অনুমোদনও দিয়েছে সরকার
একই বৈঠকে তিন কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে এই এলএনজি কেনা হবে।
জুন মাসে সরবরাহের জন্য এই এলএনজি আমদানিতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ২ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম পরিস্থিতি
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম কিছুটা কমেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এবার প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১৭ মার্কিন ডলারের কিছু বেশি পড়ছে।
যদিও কয়েক মাস আগেও এই দাম অনেক বেশি ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই বাংলাদেশ এলএনজি আমদানি করছে।
আরও পড়ুনঃ ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম জানুন নিজেই আবেদন করুন
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
সাধারণ মানুষের জন্য এর প্রভাব কী হতে পারে
সরকারের এই উদ্যোগ বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। ফলে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত থাকলে বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতেও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপসংহার
নিত্যপণ্যের বাজারে সাধারণ মানুষের চাপ কমাতে সরকারের এই সয়াবিন তেল আমদানির উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। টিসিবির মাধ্যমে কম দামে তেল বিক্রি হলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।
একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। আগামী দিনে এসব উদ্যোগের প্রভাব বাজারে কতটা পড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


