বাংলাদেশে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করার ঘটনা নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ওয়ালটনের নামে প্রতারণা।
মানুষের আস্থা, বিশ্বাস আর ব্র্যান্ড ইমেজকে কাজে লাগিয়ে অসাধু প্রতারকরা ভুয়া লিংক ছড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের উপহার বা পুরস্কারের লোভ দেখাচ্ছে।
প্রথম নজরে বিষয়গুলো সত্যি মনে হলেও এর পেছনে লুকিয়ে থাকে চতুর প্রতারণার ফাঁদ।
ওয়ালটনের নামে প্রতারণা এখন এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ইনবক্স, সব জায়গায়ই ভুয়া স্ক্যাম লিংক শেয়ার করা হচ্ছে।
গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল নম্বর, এমনকি আর্থিক তথ্যও হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসব লিংক পাঠানো হয়। তাই সচেতন থাকা এখন অত্যন্ত জরুরি।
এই পোস্টে আমরা জানবো, কিভাবে ওয়ালটনের নামে প্রতারণা হচ্ছে, কীভাবে স্ক্যাম লিংকের মাধ্যমে মানুষকে ফাঁদে ফেলা হয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কীভাবে আপনি নিজে ও আপনার পরিবারকে এসব প্রতারণা থেকে নিরাপদ রাখতে পারেন।
Content Summary
ওয়ালটনের নামে কিভাবে প্রতারণা হচ্ছে
স্ক্যাম বা অনলাইন প্রতারণা সাধারণত এমনভাবে সাজানো হয় যাতে গ্রাহক প্রথম দেখাতেই বিশ্বাস করে বসেন। ওয়ালটনের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করলে বিষয়টি আরও কার্যকর হয়।
প্রতারক চক্র প্রথমে ভুয়া লিংক তৈরি করে যেখানে লেখা থাকে উপহার জেতার সুযোগ, গিফট ভাউচার, কুপন বা বিশেষ ডিসকাউন্ট। এসব লিংক সাধারণত ফেসবুক কমেন্ট, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, এসএমএস বা বিভিন্ন গ্রুপে ছড়ানো হয়।
দ্বিতীয় ধাপে তারা ব্যবহারকারীকে ক্লিক করতে উৎসাহিত করে। ক্লিক করলেই একটি নকল ওয়েবপেজ খুলে যায় যেখানে ওয়ালটনের লোগো, রঙ এবং ডিজাইন ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করা হয় যাতে আসল মনে হয়।
এরপর বলা হয় যে ফর্ম পূরণ করলে, কুইজের উত্তর দিলে বা অল্প টাকা পেমেন্ট করলেই নিশ্চিত পুরস্কার পাওয়া যাবে।
এখানেই ফাঁদ। ব্যবহারকারীর দেয়া তথ্য, ওটিপি, পিন বা কার্ড নম্বর প্রতারকদের কাছে চলে যায়।
ওয়ালটন নাম ব্যবহার করে উপহারের স্ক্যাম লিংক
স্ক্যাম লিংকের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি করা। এসব লিংক দেখতে সাধারণ ওয়েবসাইটের মতো হলেও ভেতরে থাকে ভয়ংকর প্রতারণার ফাঁদ।
লিংকটি সাধারণত “.xyz”, “.gift”, “.promo” বা অচেনা ডোমেইন দিয়ে তৈরি করা হয়।
প্রতারকরা দাবি করে যে ওয়ালটনের বিশেষ উপহার দেওয়া হচ্ছে, লাকী ড্র চলছে বা গ্রাহকের নামে পুরস্কার চলে এসেছে।
ভুয়া স্ক্যাম লিংকগুলোতে অনেক সময় কাউন্টডাউন টাইমার দেওয়া হয় যেন ব্যবহারকারী তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নেয়।
আবার কিছু ক্ষেত্রে বলা হয় যে, পোষ্টটি ৫-১০ জনকে শেয়ার করলে বা গ্রুপে পাঠালে তবেই উপহার পাওয়া যাবে।
এর মাধ্যমে প্রতারণা আরও ছড়িয়ে পড়ে।
ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, এসব লিংকের সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই।
আরও পড়ুনঃ কেন লোগো পরিবর্তন করল বাংলালিংক
এই প্রতারণা থেকে কিভাবে বাঁচবেন?
প্রথমত, মনে রাখবেন কোনো কোম্পানি কখনোই উপহার দেওয়ার জন্য টাকা চাইবে না।
কেউ ওয়ালটনের নামে টাকা দাবি করলে বুঝে নিন এটি নিশ্চিত প্রতারণা।
দ্বিতীয়ত, কোনো অচেনা বা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করবেন না। ওয়ালটনের যেকোনো অফার বা ক্যাম্পেইন সবসময় তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ বা প্রেস রিলিজের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়।
আপনার নিজের নিরাপত্তার জন্য সব অফার যাচাই করতে পারেন ওয়ালটনের হেল্পলাইন ১৬২৬৭ নম্বরে ফোন করে।
যদি কোনো লিংক বা মেসেজ সন্দেহজনক মনে হয়, তা উপেক্ষা করুন এবং অন্যদেরও সতর্ক করুন।
ব্যক্তিগত তথ্য, ওটিপি বা ব্যাংকিং তথ্য কখনোই অচেনা পেজে দেওয়া উচিত নয়।
সচেতনতা এবং সতর্কতাই এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
FAQs –
যদি কোনো লিংকে অস্বাভাবিক পুরস্কার, টাকা দাবি, শেয়ার করতে বলা বা সন্দেহজনক ওয়েবসাইট দেখা যায়, বুঝতে হবে এটি স্ক্যাম। ওয়ালটনের আসল তথ্য সবসময় তাদের অফিসিয়াল চ্যানেলে পাওয়া যায়।
হ্যাঁ, কিন্তু খুব সীমিত পরিসরে এবং সবসময় অফিসিয়াল ঘোষণা সহ। কোনো ক্যাম্পেইন হলে প্রেস রিলিজ বা গণমাধ্যমে তা প্রকাশ করা হয়।
তৎক্ষণাৎ পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন এবং ব্যাংকিং সম্পর্কিত তথ্য দিলে ব্যাংকে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজন হলে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ জানান।
ওয়ালটনের অফিসিয়াল হেল্পলাইন হলো ১৬২৬৭। সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এখানে যোগাযোগ করা যায়।
ফেসবুকে রিপোর্ট অপশন ব্যবহার করতে পারেন, আর দেশের সাইবার ক্রাইম হটলাইনেও অভিযোগ জানানো যায়।
উপসংহার
ওয়ালটনের নামে প্রতারণা এখন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, কারণ এই ব্র্যান্ডের প্রতি মানুষের আস্থা অত্যন্ত বেশি।
প্রতারক চক্র সেই বিশ্বাসকে ব্যবহার করে ভুয়া লিংক ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
তাই সচেতন থাকা এবং তথ্য যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া যেকোনো অফার আগে যাচাই করুন।
মনে রাখবেন, সচেতনতা ছড়ালে শুধু আপনি নন, আপনার পরিবার এবং আশপাশের মানুষও নিরাপদ থাকবে।
প্রতারণা রোধে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।
আরও পড়ুনঃ ১৬ ডিসেম্বরের পর যে তিন ধরনের মোবাইল ফোন বন্ধ করবে সরকার
টেক নিউজ আপডেট সবার আগে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


