এজেন্ট ব্যাংকিং কি? এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসা শুরু করার নিয়ম

এজেন্ট ব্যাংকিং কি? এ সম্পর্কে জানতে অনেকেই আগ্রহী। ব্যাংকিং সেবা কে সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এজেন্ট ব্যাংকিং কে যুক্ত করা হয়েছে। 

একটি ব্যাংকের ব্রাঞ্চ পরিচালনা করতে ঠিক যে পরিমাণ জনবল প্রয়োজন হয় এজেন্ট ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রে ঠিক তেমনটা নয়।

তাই বর্তমানে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে বেশি পরিমাণ এজেন্ট ব্যাংকিং পয়েন্ট খোলার মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে দ্রুত তাদের সেবাটি পৌঁছে দিতে।

তাই সাধারণ গ্রাহকদের হাতের নাগালে দ্রুত ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে বর্তমানে এজেন্ট ব্যাংকিং এর দিকে ঝুঁকছে ব্যাংক গুলি।

সেইসাথে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার অগ্রযাত্রায় ব্যাংকিং খাতকে কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। 

তাই ব্যাংকিং সেবা কে সাধারণ মানুষের হাতের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি অনন্য উদ্যোগ এজেন্ট ব্যাংকিং। 

বর্তমানে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছেন অনেকেই। 

আপনারা যারা এজেন্ট ব্যাংকিং কি এ সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন এবং যারা এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসা করার নিয়ম জানতে ইচ্ছুক তাদের জন্য আজকের এই পোস্ট।

এজেন্ট ব্যাংকিং কি? 

এজেন্ট ব্যাংকিং হচ্ছে ব্যাংকের এজেন্ট বা ব্যাংকের একজন খুচরা বিক্রেতা যারা ডাক আউটলেট যা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ব্যাংক সেবাগ্রহীতার লেনদেন দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য তাদের হাতের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করার লক্ষে কাজ করে।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি ব্যাংকে গ্রাহক সেবা গ্রাহক এর আরো কাছাকাছি পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছে।  এই সেবার মাধ্যমে দেশের দুর্গম অঞ্চলের সাধারণ জনগণের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে।

সেই সাথে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসা করার মাধ্যমে অনেকেই নিজেকে স্বাবলম্বী করে তুলছেন। 

এক কথায় বলতে গেলে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দেশের প্রান্তিক জনগণকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করছে উদ্যোক্তাদের জন্য।

কিভাবে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা পরিচালিত হয়? 

ব্যাংকের এজেন্টরা সাধারণত পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) কার্ড রিডার, মোবাইল ফোন, বারকোড স্ক্যানার, পিন প্যাড, গ্রাহকের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সনাক্তকরণ ইত্যাদি পদ্ধতির সাহায্যে কার্যক্রম সম্পাদন করে থাকে।

ব্যাংক থেকে অনুমতি প্রাপ্ত এজেন্টরা মাঝে মাঝে ব্যক্তিগত কম্পিউটারও ব্যবহার করে যা পার্সোনাল ডায়াল আপ বা অন্য ডাটা কানেকশন ব্যবহার করে কম্পিউটারের সার্ভারের সাথে সংযুক্ত থাকে।

সেবাগ্রহীতারা এজেন্টের কাছে লেনদেন করার জন্য নিজ অ্যাকাউন্ট নাম্বার, ম্যাগনেটিক ব্যাংক কার্ড বা মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করে যথাক্রমে তার ব্যাংক একাউন্টে অথবা ই-ওয়ালেটে প্রবেশ করার জন্য।

সেবাগ্রহীতা সাধারণত পিন নাম্বার দিয়ে শনাক্ত হয়ে থাকে, তবে বায়োমেট্রিকের পদ্দতির মাধ্যমেও গ্রাহক শনাক্ত করা যায়।

বর্তমানে বাংলাদেশের দুর্গম অঞ্চলের ভোগান্তি এড়াতে বাংলাদেশের সহজ সরল মানুষকে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে অনেক ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের এজেন্ট ব্যাংকিং সহজভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। 

মনে রাখেবন লেনদেন যাচাইকরণ, অনুমোদন ও অন্যান্য সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে এজেন্ট ব্যাংকিং অন্য যে কোন দূরবর্তী ব্যাংক চ্যানেলের মতই কাজ করে।

আরও পড়ুনঃ

নগদ একাউন্টের সুবিধা 

রকেট অ্যাকাউন্ট ওপেন করার নিয়ম

এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসা করার নিয়ম 

এজেন্ট ব্যাংকিং কি ও এই ব্যবসা করার নিয়ম
এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসা করার নিয়ম

কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুচরা আউটলেটের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসা বা কাজ করতে পারবে কিনা তা স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ সংস্থা নির্ধারণ করে দেয়।

যদি কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয় এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য, তবে তাদের সাথে ব্যাংকিং চ্যানেলে একটি চুক্তিপত্র সম্পন্ন হয়ে থাকে। 

এজেন্ট ব্যাংকের চুক্তি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে-

  • এজেন্টরা খুচরা পর্যায়ে কি ধরনের সেবা প্রদান করতে পারবেন নিজেদের আউটলেটগুলোতে।
  • কীভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্যাশ পরিবহন করবে,
  • ভোক্তা সংরক্ষণ
  • গ্রাহকের কাছ থেকে কি ধরনের ফি গ্রহণযোগ্য হবে তা নির্ধারণ। 
  •  ইত্যাদি নীতিমালা ব্যাংকিং সংস্থার নিয়ন্ত্রণকারীদের দ্বারা নির্ধারণ করে দেয়।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় কিছু এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার নাম হচ্ছে-

বাংলাদেশের জনপ্রিয় কিছু এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার নাম
দেশের জনপ্রিয় কিছু এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার প্রদানকারী
  • ডাচ বাংলা ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং
  • ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং
  • সিটি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং
  • সোনালী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং
  • সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং

এজেন্ট ব্যাংকিং চ্যানেলে গ্রাহক কিধরনের সেবা পেতে পারেন?

একজন সাধারণ ব্যাংকিং সেবাগ্রহীতার ক্ষেত্রে তার ব্যাংক হিসেব চালানোর জন্য ব্যাংকের শাখায় যাওয়া, এজেন্ট কাছে যাওয়া বা এটিএম বুথে যাওয়ার মধ্যে কোন পার্থ্যক্য নেই।

এজেন্ট হিসেবে কাজ করার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের পাশাপাশি তার ব্যাংকে একটি হিসেব খুলতে হয়।

সেইসাথে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা পরিচালনা করতে এজেন্টকে তার ঐ হিসেবের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রাখতে হয়, যা তার “চলতি মূলধন” হিসেবে কাজ করে।

অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠান এজেন্টকে টাকা জমা করার পরিবর্তে তার ক্রেডিট লাইন বৃদ্ধি করে।

ক্রেডিট লাইনের আকার কেমন হবে তা সাধারণত নির্ধারণ করা থাকে না, তবে প্রতিটা এজেন্টের টাকার লেনদেন, ভলিওম এবং কতদিন ধরে ব্যাংকের সাথে কাজ করছে তার উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করে থাকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

প্রতিটা লেনদেনের সময় ক্রেডিট লাইন যেভাবে কাজ করে তা হলঃ

  • সেবাগ্রহীতার টাকা উত্তোলন (”ক্যাশ-আউট” লেনদেন)ঃ এজেন্টের একাউন্টে একই পরিমাণ ক্রেডিট করা হয়।
  • সেবাগ্রহীতার টাকা জমা(“ক্যাশ-ইন লেনদেন)ঃ এজেন্টের একাউন্টে একই পরিমাণ ডেবিট করা হয়।
  • কোন সময় যদি ব্যাংক এর ক্রেডিট লাইনের সীমা অতিক্রম করে ফেলে এবং ব্যাংক এজেন্টের হিসেবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকা গ্রহণকৃত অর্থের বিপরীতে তাহলে পিওএস ব্লক করে দেওয়া হয়, ব্যাংক হিসেবে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা জমা দিয়ে এই ব্লক খুলতে হয়।

ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করার প্রক্রিয়াঃ

বর্তমানে কোন ব্যাংকের গ্রাহক ওই ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা গুলো থেকে তার ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। 

এক্ষেত্রে ব্যাংকের গ্রাহক তার ব্যাংকের কার্ড এজেন্টকে দেখিয়ে টাকা উত্তোলন, জমা অথবা স্থানান্তর যে কোন একটি কাজ করে দিতে অনুরোধ করে।

এজেন্ট তার পিওএস কার্ড অথবা ব্যক্তিগত কম্পিটারে লেনদেনের ধরন বাছাই করে, লেনদেনের পরিমান প্রবেশ করে, যন্ত্রটির মধ্য দিয়ে কার্ড টি প্রবেশ করিয়ে নিয়ে আসে এবং সেবাগ্রহীতাকে পিন নাম্বার প্রবেশ করাতে দেয় (প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গ্রাহকের ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্ত করা হয়)।

একটি জিপিআরএস ডায়াল আপ বা স্যাটেলাইট যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাংকের সার্ভারের সাথে যুক্ত হয় লেনদেনকে অনুমোদন দেওয়ার জন্য।

লেনদেনটি অনুমোদিত হওয়ার পর যন্ত্রটি সেবাগ্রহীতার রশিদ প্রিন্ট করে।

এভাবে খুব সহজেই যেকোন স্টেট ব্যাংক থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিচ্ছে বাংলাদেশের স্বনামধন্য ব্যাংক গুলি।

বিকাশ ক্যাশ আউট চার্জ কত

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

বিকাশ ক্যাশ আউট চার্জ ও লিমিট

নগদ ক্যাশ আউট চার্জ ও লিমিট

এজেন্ট ব্যাংকিং কি?

এজেন্ট ব্যাংকিং হচ্ছে গ্রাহকের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যাংকের একটি ক্ষুদ্র ব্রাঞ্চ বা শাখা যেখান থেকে ব্যাংকের গ্রাহকেরা ব্যাংকিং সেবা নিতে পারেন।

উপসংহার,

আশাকরি এজেন্ট ব্যাংকিং কি এই সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। 

এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য আপনার কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন হবে এই বিষয়ে আপনি নির্দিষ্ট ব্যাংকের শাখাসমূহ যোগাযোগ করতে পারেন।

ব্যাংকিং সেবা কে গ্রাহকের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে। 

আপনিও আপনার ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে এখনি আপনার নিকটস্থ এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা গুলোতে যোগাযোগ করুন। 

ইন্টারনেট থেকে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য পেতে এবং ইন্টারনেট থেকে টাকা আয় সম্পর্কে জানতে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়ের সাইট।

এবং জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেইজে। 

আরও পড়ুন

Leave a Comment

sixteen + 6 =