১৮টি দেশে কর্মী পাঠানোর চুক্তি সংসদে নুরুল হক নূর

বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমবাজার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের বড় খবর হলো ১৮টি দেশে কর্মী পাঠানোর চুক্তি। এই উদ্যোগ দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে যে, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের অনেক তরুণ বিদেশে কাজের সুযোগ খুঁজছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শুধু চুক্তি হলেই হবে না, দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনাও জরুরি।

তাই ১৮টি দেশে কর্মী পাঠানোর চুক্তি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে বাস্তব প্রয়োগের উপর। এই লেখায় আমরা বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো এবং এর সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরবো।

১৮টি দেশে কর্মী পাঠানোর চুক্তি কী

১৮টি দেশে কর্মী পাঠানোর চুক্তি বলতে বোঝায়, বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার জন্য আনুষ্ঠানিক সমঝোতা করেছে। এর ফলে বৈধভাবে বাংলাদেশি কর্মীরা এসব দেশে কাজ করার সুযোগ পাবে।

এই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে কর্মীদের নিরাপত্তা, বেতন কাঠামো এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। তবে অতীতে দেখা গেছে, অনেক চুক্তি থাকলেও বাস্তবে কর্মী পাঠানো তেমন কার্যকর হয়নি। তাই এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করছে বাস্তবায়নের উপর।

যে ১৮টি দেশের সাথে কর্মী পাঠানোর চুক্তি হয়েছে?

সংক্ষেপে বললে, সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ১৮টি দেশের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করেনি। সংসদে দেওয়া তথ্যে শুধু বলা হয়েছে যে ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি হয়েছে, কিন্তু দেশগুলোর নাম বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

তবে বক্তব্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দেশ আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলোকে প্রধান শ্রমবাজার বা আলোচনায় থাকা দেশ হিসেবে ধরা যায়:

উল্লেখযোগ্য দেশগুলো (সরকারি বক্তব্যে এসেছে)

  • মালয়েশিয়া
  • ওমান
  • সংযুক্ত আরব আমিরাত
  • বাহরাইন
  • জাপান

এগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ বর্তমানে বন্ধ বা সীমিত থাকলেও আবার চালুর জন্য আলোচনা চলছে।

আরও পড়ুনঃ টেলিটক জেন জি সিমের সুবিধা, অফার, কল রেট ও ইন্টারনেট প্যাকেজ

মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার পরিস্থিতি

মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার হিসেবে বিবেচিত। সরকার জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও চালু করার জন্য কাজ চলছে। ইতোমধ্যে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে দ্রুতই কর্মী পাঠানো শুরু হবে।

অন্যদিকে ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের মতো দেশে শ্রমবাজার কিছুটা সংকুচিত রয়েছে। এসব দেশে কর্মী পাঠাতে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান আছে। বাস্তবতা হলো, এসব বাজারে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি, তাই দক্ষ কর্মী ছাড়া সুযোগ পাওয়া কঠিন।

আরও পড়ুনঃ ভিসা ছাড়া যেসব দেশে যেতে পারবে বাংলাদেশিরা (২০২৬ আপডেট)

দক্ষ কর্মী তৈরির উদ্যোগ

সরকার জানিয়েছে, বিদেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর জন্য ১ লাখ ড্রাইভার তৈরির প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। কারণ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে এখন দক্ষতার চাহিদা অনেক বেশি।

তবে শুধু ড্রাইভার নয়, আরও বিভিন্ন সেক্টরে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। যেমন নির্মাণ, আইটি, স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি। যদি এই খাতে সঠিকভাবে বিনিয়োগ করা যায়, তাহলে বাংলাদেশ আরও বেশি কর্মী বিদেশে পাঠাতে পারবে।

জাপানসহ নতুন শ্রমবাজার

জাপানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ১ লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য জাপানি ভাষা শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং আলাদা একটি সেল গঠন করা হয়েছে।

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ জাপানের মতো উন্নত দেশে কাজের সুযোগ পাওয়া মানে উচ্চ আয় এবং ভালো কর্মপরিবেশ। তবে এখানে চ্যালেঞ্জ হলো ভাষা এবং দক্ষতা। সঠিক প্রশিক্ষণ ছাড়া এই সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব নয়।

আরও পড়ুনঃ ১৮–৩০ বছর বয়সীদের জন্য চার্জ ফ্রি ভিসা ডেবিট কার্ড: ইসলামী ব্যাংক স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট

বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ

২০২৫ সালে ১১ লাখের বেশি কর্মী বিদেশে গেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী কর্মীও রয়েছে। এটি ইতিবাচক দিক। তবে এখনও অনেক সমস্যা রয়েছে।

দালাল চক্র, অতিরিক্ত খরচ, প্রতারণা এবং অনিরাপদ কর্মপরিবেশ বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু চুক্তি করলেই হবে না, এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। আমার দৃষ্টিতে, সরকারকে আরও কঠোর মনিটরিং এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, নাহলে এই উদ্যোগের পূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে না।

উপসংহার

১৮টি দেশে কর্মী পাঠানোর চুক্তি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। তবে এটি সফল করতে হলে শুধু চুক্তি নয়, বাস্তবায়ন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

আমার মতে, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দালালমুক্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ সত্যিই দেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশিদের ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে কেন | কোন দেশগুলো ভিসা দিচ্ছে না

এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

WhatsApp Group Join Now
WhatsApp Group 1 Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।