পাসপোর্ট এর নাম সংশোধন করতে কত টাকা লাগে

পাসপোর্ট এর নাম সংশোধন করতে কত টাকা লাগে এই প্রশ্নটি বর্তমানে অনেকেরই। বিশেষ করে যারা পাসপোর্ট করার সময় ভুল করে নাম, বয়স বা অন্যান্য তথ্য ভুল দিয়েছেন, তাদের জন্য বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে পাসপোর্টের তথ্য সরাসরি এডিট করা যায় না। অর্থাৎ একবার পাসপোর্ট ইস্যু হয়ে গেলে সেটির তথ্য পরিবর্তন করতে চাইলে নতুন করে পাসপোর্ট আবেদন করতে হয়।

এই কারণে পাসপোর্ট এর নাম সংশোধন করতে কত টাকা লাগে বিষয়টি আসলে নির্ভর করে নতুন পাসপোর্ট করার ফি-এর উপর। অনেকেই মনে করেন শুধু একটি ছোট ফি দিয়ে সংশোধন করা যাবে, কিন্তু আসলে পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন আবেদন করার মতোই। তাই খরচও তুলনামূলক বেশি হয়। এর সাথে অতিরিক্ত কিছু খরচও যুক্ত হতে পারে যেমন হলফনামা।

আমার দৃষ্টিতে, এই সিস্টেমটি কিছুটা জটিল এবং সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয়বহুল। কারণ একটি ছোট ভুলের জন্য পুরো পাসপোর্ট নতুন করে করতে হয়। তবে নিরাপত্তা ও ডাটা সঠিক রাখার জন্য সরকার এই নিয়ম রেখেছে, এটাও বিবেচনায় রাখা উচিত।

পাসপোর্ট এর নাম সংশোধন ফি কত টাকা

পাসপোর্ট এর নাম সংশোধন করতে কত টাকা লাগে তা মূলত নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের পাসপোর্ট নিচ্ছেন তার উপর। কারণ সংশোধনের জন্য নতুন ই-পাসপোর্ট করতে হয় এবং সেই একই ফি প্রযোজ্য হয়।

৪৮ পৃষ্ঠা ৫ বছর মেয়াদে সাধারণ ডেলিভারিতে প্রায় ৪০২৫ টাকা লাগে, জরুরিতে প্রায় ৬৩২৫ টাকা এবং অতি জরুরিতে প্রায় ৮৬২৫ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

৪৮ পৃষ্ঠা ১০ বছর মেয়াদে সাধারণ ডেলিভারিতে প্রায় ৫৭৫০ টাকা, জরুরিতে ৮০৫০ টাকা এবং অতি জরুরিতে ১০৩৫০ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

৬৪ পৃষ্ঠার ক্ষেত্রে খরচ আরও বেশি হয়, যা ৬৩২৫ টাকা থেকে শুরু করে ১৩৮০০ টাকা পর্যন্ত যেতে পারে।

এর বাইরে নাম সংশোধনের জন্য আদালতের হলফনামা করতে গেলে আরও ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। তাই সব মিলিয়ে খরচটা অনেকের জন্যই চাপের মনে হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে ভিসা ছাড়া কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

পাসপোর্ট এর নাম সংশোধন করার নিয়ম

পাসপোর্ট এর নাম সংশোধন করার নিয়ম আসলে নতুন পাসপোর্ট করার মতোই। প্রথমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে এবং সেখানে আপনার পুরোনো পাসপোর্টের তথ্য দিতে হবে।

আবেদন করার সময় অবশ্যই এনআইডির তথ্যের সাথে মিল রাখতে হবে। কারণ এনআইডি অনুযায়ীই আপনার নতুন পাসপোর্ট তৈরি হবে।

অনলাইনে ফর্ম পূরণ করার পর সেটি সাবমিট করতে হবে এবং একটি প্রিন্ট কপি রাখতে হবে। এরপর নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে সব কাগজ জমা দিতে হবে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনেকেই ফর্ম পূরণে ভুল করেন। আমার মতে, এই জায়গাটিতে সরকার যদি আরও সহজ গাইডলাইন বা সহায়তা দিত, তাহলে মানুষের ভোগান্তি অনেক কমত।

আরও পড়ুনঃ পাসপোর্ট রেংকিং কি: বাংলাদেশের অবস্থান, সুবিধা–অসুবিধা ও উন্নতির উপায়

পাসপোর্ট এর নাম সংশোধন করতে কি কি কাগজপত্র লাগে

পাসপোর্ট এর নাম সংশোধন করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জাতীয় পরিচয়পত্র।

যদি আবেদনকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক হন, তাহলে জন্ম নিবন্ধন সনদ লাগবে এবং অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের এনআইডিও দিতে হয়।

এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যেমন এসএসসি বা সমমানের সনদ ব্যবহার করা যেতে পারে নাম প্রমাণের জন্য।

পুরোনো পাসপোর্টের মূল কপি এবং প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠার ফটোকপি দিতে হবে। এছাড়া অনলাইন আবেদন ফর্মের প্রিন্ট কপি এবং ফি জমার রশিদ জমা দিতে হবে।

যাদের বড় ধরনের পরিবর্তন করতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে আদালতের হলফনামাও প্রয়োজন হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম ২০২৬: সম্পূর্ণ গাইড

অনলাইনে পাসপোর্ট এর নাম সংশোধন আবেদন করার নিয়ম

অনলাইনে পাসপোর্ট এর নাম সংশোধন আবেদন করার নিয়ম খুব বেশি জটিল নয়, তবে সতর্ক থাকতে হয়।

প্রথমে ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার পুরোনো একাউন্ট দিয়ে লগইন করতে হবে।

এরপর নতুন আবেদন অপশনে গিয়ে আপনার বর্তমান পাসপোর্টের তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করতে হবে।

সব তথ্য পূরণ করার সময় এনআইডির সাথে মিল রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। না হলে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সবশেষে আবেদন সাবমিট করে সেটির প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করতে হবে, যা পরে অফিসে জমা দিতে হবে।

সংশোধিত ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করবেন কিভাবে

সংশোধিত ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করার জন্য আবেদনকারীকে নিজে পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে।

পাসপোর্ট প্রস্তুত হয়েছে কিনা তা অনলাইনে চেক করা যায়। যখন প্রস্তুত হবে, তখন স্ট্যাটাসে তা দেখাবে।

পাসপোর্ট নিতে গেলে ডেলিভারি স্লিপ, এনআইডি এবং পুরোনো পাসপোর্ট সঙ্গে নিতে হবে।

অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের পর নতুন সংশোধিত পাসপোর্ট দেওয়া হয়।

এখানে একটি বিষয় বলতেই হয়, অনেক সময় ডেলিভারি দেরি হয়। এই জায়গায় আরও উন্নতি হলে সেবাটি আরও ভালো হতো।

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে নিজের পাসপোর্ট চেক করুন ঘরে বসে

উপসংহার

পাসপোর্ট এর নাম সংশোধন করতে কত টাকা লাগে এই বিষয়টি সহজভাবে বলতে গেলে, এটি আসলে একটি নতুন পাসপোর্ট করার মতোই খরচসাপেক্ষ। তাই শুরুতেই সঠিক তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট করা সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

আমার মতে, ভবিষ্যতে যদি সরকার সরাসরি ছোটখাটো ভুল সংশোধনের সুযোগ রাখে, তাহলে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে।

পাসপোর্ট এর নাম সংশোধন করতে কত টাকা লাগে এই তথ্য জানা থাকলে আপনি আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারবেন এবং অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা এড়াতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ দালাল ছাড়া পাসপোর্ট করার নিয়ম কি?

এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

WhatsApp Group Join Now
WhatsApp Group 1 Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।