হঠাৎ জরুরি খরচ, ছোট ব্যবসার নগদ সংকট বা মাসের শেষ দিকে চাপ সামলাতে অনেকেই এখন ডিজিটাল লোনের দিকে ঝুঁকছেন। ঠিক এই জায়গাতেই বিকাশ থেকে ৫০ হাজার টাকা লোন নেয়ার নিয়ম বিষয়টি এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত।
সিটি ব্যাংকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিকাশ যে ডিজিটাল ন্যানো লোন চালু করেছে, সেটির সর্বোচ্চ সীমা এখন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
আগে যেখানে লোনের সীমা ছিল ৩০ হাজার টাকা, এখন যোগ্য গ্রাহকরা আরও বেশি পরিমাণ অর্থ লোন হিসেবে নিতে পারছেন।
সবচেয়ে ভালো দিক হলো, পুরো প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় এবং গ্রাহকের বিকাশ ব্যবহারের ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে লোন অফার দেখানো হয়।
এই লেখায় আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো বিকাশ লোন কি, বিকাশ থেকে কত টাকা লোন নেয়া যায়, কারা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন পাবেন, যোগ্যতা কী, পরিশোধের নিয়ম এবং সময়মতো পরিশোধ না করলে কী সমস্যা হতে পারে।
Content Summary
বিকাশ লোন কি?
বিকাশ লোন হলো একটি ডিজিটাল ন্যানো ঋণ সুবিধা, যা বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে সিটি ব্যাংক প্রদান করে। এটি মূলত স্বল্পমেয়াদি, জামানতবিহীন ঋণ, যা জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই লোন পেতে কোনো কাগজপত্র জমা দিতে হয় না এবং ব্যাংকে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই।
গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্টের লেনদেন ইতিহাস, নিয়মিত ব্যবহার এবং ক্রেডিট আচরণ বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লোনের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়।
যোগ্য হলে বিকাশ অ্যাপে ‘Loan’ অপশনটি দেখা যায় এবং সেখান থেকেই কয়েক ক্লিকে লোন নেওয়া সম্ভব।
বিকাশ থেকে কত টাকা লোন নেয়া যায়
বর্তমানে বিকাশ থেকে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন নেয়া যায়। তবে সবাই যে সরাসরি ৫০ হাজার টাকা লোন পাবেন, বিষয়টি এমন নয়।
লোনের পরিমাণ নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ক্রেডিট স্কোর, বিকাশ ব্যবহারের নিয়মিততা এবং আগের লোন পরিশোধের রেকর্ডের ওপর।
যারা নিয়মিত অ্যাড মানি, পেমেন্ট, মোবাইল রিচার্জ ও অন্যান্য সেবা ব্যবহার করেন এবং আগের লোন সময়মতো পরিশোধ করেছেন, তাদের জন্য তুলনামূলক বেশি লোন অফার দেখানোর সম্ভাবনা থাকে।
বিকাশ থেকে ৫০ হাজার টাকা লোন কারা পাবেন
সব বিকাশ ব্যবহারকারী একসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা লোন পাবেন না। এই সুবিধাটি মূলত তাদের জন্য, যাদের অ্যাকাউন্টে ভালো লেনদেন ইতিহাস রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে বিকাশ ব্যবহার করছেন, এমন গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সিস্টেম ধাপে ধাপে লোন লিমিট বাড়িয়ে দেয়।
যারা আগে ১০ হাজার বা ৩০ হাজার টাকা লোন নিয়ে সফলভাবে পরিশোধ করেছেন, তাদের জন্য ৫০ হাজার টাকা লোন অফার আসার সম্ভাবনা বেশি।
অর্থাৎ এটি একটি ধাপে ধাপে উন্নীত হওয়া সুবিধা।
বিকাশ লোন পাওয়ার যোগ্যতা কি?
বর্তমানে লোন দেয়ার ক্ষেত্রে বিকাশ কর্তৃপক্ষ অনেকগুলো প্যারামিটার লক্ষ করে থাকে। তবে সবথেকে বড় প্যারামিটার হচ্ছে আপনার মাসিক লেনদেনের পরিমাণ।
- বিকাশ অ্যাকাউন্ট অবশ্যই ভেরিফায়েড হতে হবে
- নিয়মিত বিকাশ ব্যবহার করতে হবে
- আগের কোনো লোন থাকলে সময়মতো পরিশোধের রেকর্ড থাকতে হবে
- বিকাশ অ্যাপে লোন অফার দেখাতে হবে
- সন্দেহজনক বা অনিয়মিত লেনদেন থাকা যাবে না
আরও পড়ুনঃ বিকাশ সেভিংস এর মুনাফার হার
বিকাশ লোন পরিশোধ করার নিয়ম
বিকাশ লোন সাধারণত মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়। লোন নেওয়ার সময় অ্যাপে স্পষ্টভাবে কিস্তির পরিমাণ ও মেয়াদ দেখানো হয়।
নির্ধারিত তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিকাশ ব্যালেন্স থেকে কিস্তির টাকা কেটে নেওয়া হয়।
গ্রাহক চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আংশিক বা সম্পূর্ণ লোন পরিশোধ করতে পারেন।
আগাম পরিশোধের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো চার্জ দিতে হয় না, শুধু ব্যবহৃত সময়ের সুদ পরিশোধ করলেই যথেষ্ট।
আরও পড়ুনঃ বিকাশ এজেন্ট কমিশন কত টাকা
বিকাশ লোন সময় মত পরিশোধ না করলে কি হবে
যদি নির্ধারিত সময়ে কিস্তি পরিশোধ না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে লোন পাওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে। বিলম্ব হলে অতিরিক্ত চার্জ বা পেনাল্টি যুক্ত হতে পারে এবং গ্রাহকের ক্রেডিট স্কোর নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়।
এর ফলে পরবর্তীতে বিকাশ অ্যাপে লোন অফার বন্ধ হয়ে যেতে পারে বা লোনের সীমা কমে যেতে পারে। তাই সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিকাশ লোন কেন দেখাচ্ছে না
অনেক সময় ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করেন যে তাদের বিকাশ অ্যাপে লোন অপশন দেখাচ্ছে না। এর প্রধান কারণ হতে পারে পর্যাপ্ত লেনদেন না থাকা, আগের লোন পরিশোধে দেরি করা বা অ্যাকাউন্টে অনিয়মিত কার্যক্রম থাকা।
এছাড়া নতুন অ্যাকাউন্ট হলে বা দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে লোন অপশন দেখা নাও যেতে পারে। নিয়মিত ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে এই সুবিধা সক্রিয় হতে পারে।
বিকাশ লোন না পাওয়ার কারন কি?
বিকাশ লোন না পাওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো-
- নিয়মিত লেনদেন না করা,
- অ্যাকাউন্ট দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা,
- পর্যাপ্ত ট্রানজ্যাকশন হিস্ট্রি না থাকা,
- আগে নেওয়া কোনো লোন বা বকেয়া সময়মতো পরিশোধ না করা
- এবং বিকাশের অভ্যন্তরীণ ক্রেডিট স্কোর কম হওয়া।
এছাড়া এনআইডি তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভেরিফাই না থাকা, একাধিক অ্যাকাউন্টে অনিয়ম এবং সন্দেহজনক লেনদেন থাকলেও বিকাশ লোন সুবিধা পাওয়া যায় না।
আরও পড়ুনঃ ফের চালু হচ্ছে এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম ২০২৬
FAQs
যোগ্য হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই লোন অ্যাকাউন্টে যোগ হয়ে যায়।
সুদের হার লোনের ধরন ও মেয়াদের ওপর নির্ভর করে এবং অ্যাপে দেখানো হয়।
না, সাধারণত আগের লোন পরিশোধ না করলে নতুন লোন নেয়া যায় না।
না, শুধু যোগ্য গ্রাহকদের জন্য এই সুবিধা চালু।
অতিরিক্ত চার্জ হতে পারে এবং ভবিষ্যৎ লোন সুবিধা বন্ধ হতে পারে।
উপসংহার
বিকাশ থেকে ৫০ হাজার টাকা লোন নেয়ার নিয়ম এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সহজ ও দ্রুত।
সঠিকভাবে বিকাশ ব্যবহার করলে এবং সময়মতো লোন পরিশোধ করলে এই ডিজিটাল লোন সুবিধা সত্যিই জরুরি সময়ে বড় সহায়তা দিতে পারে।
তবে লোন নেওয়ার আগে শর্তগুলো ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি।
দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করলে বিকাশ লোন আপনার আর্থিক চাপ অনেকটাই কমাতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুনঃ বিকাশে ভুল নাম্বারে টাকা চলে গেলে করনীয়
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


