বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন না হলে সিম পাবেন কিভাবে?

হঠাৎ করে সিম বন্ধ। নেটওয়ার্ক নেই। কাস্টমার কেয়ারে গেলে বলা হলো বায়োমেট্রিক মিলছে না, তাই সিম চালু করা যাচ্ছে না। অনেকের জন্য বিষয়টা এখানেই আটকে যায়। কিন্তু বাস্তবতা একটু জটিল, আবার আশার জায়গাও আছে।

বাংলাদেশে সিম নিবন্ধন পুরোপুরি বায়োমেট্রিকের ওপর নির্ভরশীল। আঙুলের ছাপ মিললেই কাজ শেষ এটাই নিয়ম। কিন্তু বাস্তবে সবসময় কি তা সম্ভব? না।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সিস্টেম ঠিক আছে, কিন্তু মানুষের পরিস্থিতি আলাদা। কেউ বিদেশে, কারও আঙুলের ছাপ ক্ষয় হয়ে গেছে, কেউ মারা গেছেন এমন বাস্তবতা তো নিয়মের বইয়ে লেখা থাকে না।

এই জায়গাতেই নতুন সিদ্ধান্ত এসেছে। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে “বিশেষ পদ্ধতিতে” সিম পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এটাকে সহজ সমাধান ভাবলে ভুল হবে।

কিছু শর্ত আছে, কিছু যাচাই আছে, এবং স্বাভাবিকভাবেই কিছু ধৈর্যও দরকার।

বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন কি?

বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন বলতে মূলত আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা বোঝায়। এটি এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে একজন মানুষের পরিচয় তার শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে যাচাই করা হয়।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

বাংলাদেশে সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি চালু হওয়ার পর জাল সিম কমেছে এটা সত্য। তবে একই সাথে নতুন ধরনের সমস্যাও তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে যাদের আঙুলের ছাপ স্পষ্ট নয় বা ডাটাবেসে ত্রুটি আছে, তারা প্রায়ই বিপাকে পড়ছেন।

আরও পড়ুনঃ কৃষক কার্ড কতজন পাবে জানালেন প্রধানমন্ত্রী

বায়োমেট্রিক জটিলতার তিন ক্ষেত্রে ‘বিশেষ পদ্ধতিতে’ মিলবে সিম

সব সমস্যার জন্য নয়। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই বিশেষ পদ্ধতি প্রযোজ্য।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেখানে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন সম্ভব হচ্ছে না, কিন্তু ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বৈধ, সেখানে বিকল্প উপায়ে সিম দেওয়া যাবে।

এটি শুনতে ভালো লাগে। তবে বাস্তবে এটি কত দ্রুত কাজ করবে, সেটি এখনও প্রশ্নসাপেক্ষ। কারণ, কাগজপত্র যাচাই, অনুমোদন এসব প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষই হয়।

তিন ধরনের জটিলতা গুলি কি কি

এই সুবিধা মূলত তিন ধরনের সমস্যার জন্য প্রযোজ্য:

  • প্রথমত, মূল গ্রাহক বিদেশে থাকলে।
  • দ্বিতীয়ত, আঙুলের ছাপ মিলছে না বিশেষ করে বয়স্ক বা অসুস্থদের ক্ষেত্রে।
  • তৃতীয়ত, গ্রাহক মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীর কাছে সিম হস্তান্তর।

এই তিনটি পরিস্থিতি বাস্তব জীবনে খুবই সাধারণ। অথচ আগে এগুলোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো গাইডলাইন ছিল না।

ফলে অনেককে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঘুরতে হয়েছে কখনো অপারেটর, কখনো সরকারি অফিস।

আরও পড়ুনঃ দেশে পেপ্যাল চালু হচ্ছে | ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর

বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন ছাড়া সিম নিতে কি কি লাগবে

এখানে “সহজ” শব্দটি ব্যবহার করা ঠিক হবে না। কারণ, কাগজপত্র লাগবেই।

যদি গ্রাহক বিদেশে থাকেন:

  • পাসপোর্ট ও ভিসার কপি
  • কর্মসংস্থানের প্রমাণ
  • জাতীয় পরিচয়পত্র
  • মনোনীত ব্যক্তির পরিচয়পত্র

যদি আঙুলের ছাপ না মেলে:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র
  • মেডিক্যাল সার্টিফিকেট

In addition, যদি গ্রাহক মারা যান

  • মৃত্যুসনদ
  • ওয়ারিশনামা
  • উত্তরাধিকারীর আইডি

সবকিছু যাচাইয়ের পর অনুমোদন দেওয়া হয়।

কখনো ভিডিও কলের মাধ্যমেও নিশ্চিত করা হয় যা শুনতে আধুনিক, কিন্তু সব জায়গায় সমানভাবে কার্যকর কি না, সেটি নিয়ে কিছু প্রশ্ন থাকতেই পারে।

আরও পড়ুনঃ ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন | বিস্তারিত জানুন

এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে সমাধান করবেন কিভাবে

প্রথম কাজ ঘাবড়ে যাবেন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমাধান আছে, যদিও সময় লাগে।

  • কাছের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যান
  • সমস্যার ধরন পরিষ্কারভাবে জানান
  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন

যদি অপারেটর সমাধান দিতে না পারে, তখন আবেদনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি আবেদন করাও সম্ভব।

আমার মতে, এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে তথ্যের অভাব।

অনেকেই জানেনই না যে বিকল্প পদ্ধতি আছে। ফলে তারা মাঝপথেই হাল ছেড়ে দেন।

আরও পড়ুনঃ টেলিটকের ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষে ধামাকা অফার

FAQs

বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন না হলে কি সিম পাওয়া যাবে?

হ্যাঁ, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতিতে সিম পাওয়া সম্ভব।

কোন কোন ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়া যায়?

বিদেশে থাকা গ্রাহক, আঙুলের ছাপ সমস্যা, এবং মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীর ক্ষেত্রে।

সিম নিতে কতদিন সময় লাগে?

নথিপত্র যাচাইয়ের উপর নির্ভর করে, কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।

ভিডিও কল কেন করা হয়?

গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য এটি একটি অতিরিক্ত যাচাই পদ্ধতি।

সরাসরি আবেদন করা যায় কি?

কিছু ক্ষেত্রে সম্ভব, তবে সাধারণত অপারেটরের মাধ্যমে আবেদন করা হয়।

উপসংহার

বায়োমেট্রিক সিস্টেম নিরাপত্তা বাড়িয়েছে এটা অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু সব মানুষের বাস্তবতা এক নয়। তাই বিকল্প পথ রাখা জরুরি ছিল।

নতুন এই নির্দেশনা সেই জায়গাটাই পূরণ করছে।

তবে এটি কতটা কার্যকর হবে, সেটি নির্ভর করবে বাস্তব প্রয়োগের উপর।

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ডে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার নিয়ম

এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

WhatsApp Group Join Now
WhatsApp Group 1 Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।