প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সংসদে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ চালুর বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। আজ বুধবার (১ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তবে এর আগে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে চালুর কথা নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরেই “দেশে পেপ্যাল চালু” হবে এই আশ্বাস শোনা যাচ্ছে। তবে এবার বিষয়টি একটু ভিন্নভাবে সামনে এসেছে। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে একটি কমিটি গঠন করেছে, যারা পেপ্যাল চালুর সম্ভাবনা যাচাই করবে এবং বাস্তবায়নের পথ খুঁজবে।
এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বলতেই হয়। কারণ, ফ্রিল্যান্সার, আইটি উদ্যোক্তা এবং ছোট ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সহজ, নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেমের অভাবে ভুগছেন।
তবুও প্রশ্ন থেকে যায় এবার কি সত্যিই পরিবর্তন আসবে, নাকি এটাও আগের মতোই আলোচনা আর ফাইলবন্দী পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ থাকবে?
Content Summary
দেশে কবে পেপ্যাল চালু হবে?
সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, পেপ্যাল চালুর জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে পেপ্যাল কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো, নীতিমালা এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি যাচাই করা।
শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে, যা স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী উভয় সময়সীমা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
কেন পেপ্যাল এত গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশে হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সার কাজ করছেন আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে। তারা আয় করছেন, কিন্তু টাকা দেশে আনতে গিয়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হন।
পেপ্যাল চালু হলে:
- আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ হবে
- পেমেন্ট দ্রুত পাওয়া যাবে
- নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে
তবে এখানে একটি বাস্তবতা আছে—শুধু পেমেন্ট গেটওয়ে চালু করলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। ব্যাংকিং সিস্টেম, নীতিমালা, ডলারের লেনদেন—সবকিছুই সমন্বিত হতে হবে।
কমিটির গঠন ও দায়িত্ব
গঠিত কমিটিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে:
- বাংলাদেশ ব্যাংক
- বিডা
- এনবিআর
- আইসিটি বিভাগ
এই কমিটির কাজ কেবল রিপোর্ট তৈরি করা নয়, বরং বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর সুপারিশ দেওয়া।
তবে অতীতে এমন অনেক কমিটি হয়েছে, যাদের রিপোর্টের ফলাফল আমরা খুব কমই দেখেছি—এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই।
আরও পড়ুনঃ টাকা পে ডেবিট কার্ড কি? TakaPay Debit Card ব্যবহারের সম্পূর্ণ গাইড
বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ কোথায়
পেপ্যাল চালু করা শুধু একটি সফটওয়্যার চালুর বিষয় না। এর পেছনে রয়েছে:
- বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ নীতি
- কর কাঠামো
- সাইবার নিরাপত্তা
অনেকেই মনে করেন, বাংলাদেশে পেপ্যাল না আসার মূল কারণ প্রযুক্তিগত নয়, বরং নীতিগত জটিলতা। যদি এই জায়গাগুলো সমাধান না করা হয়, তাহলে শুধু ঘোষণা দিয়ে খুব বেশি দূর যাওয়া সম্ভব নয়।
ফ্রিল্যান্সারদের প্রত্যাশা
দেশের ফ্রিল্যান্সাররা বহুদিন ধরে একটি সহজ পেমেন্ট সিস্টেমের অপেক্ষায়। তারা চায়:
- দ্রুত টাকা উত্তোলন
- কম চার্জ
- নিরাপদ লেনদেন
বর্তমানে অনেকেই বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করেন, যা সবসময় নির্ভরযোগ্য বা সাশ্রয়ী নয়। তাই পেপ্যাল চালু হলে তাদের কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে এটা বলা যায়।
আরও পড়ুনঃ জাতীয় এআই নীতিমালার খসড়া প্রকাশ, বাংলাদেশ কি এবার এআই হাব হতে যাচ্ছে
সরকারের পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত
সরকার ১৮০ দিন, ১ বছর এবং ৫ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে এটা ভালো দিক। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই ধরনের বড় উদ্যোগে সময় লাগে, এবং অনেক ক্ষেত্রে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়।
আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ হলো যদি এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। না হলে এটি আরেকটি “ঘোষণা” হিসেবেই থেকে যেতে পারে।
ভবিষ্যতে কী হতে পারে
সবকিছু ঠিকভাবে এগোলে, বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে:
- আইটি সেক্টর দ্রুত বাড়বে
- বিদেশি ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ সহজ হবে
- রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে পারে
তবে এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক কাজ, শুধু একবারের উদ্যোগ নয়।
আরও পড়ুনঃ বুয়েটের ই-রিকশার দাম কত টাকা? জানুন দাম, নাম ও কোথা থেকে কিনবেন
FAQs
সরকারি উদ্যোগ শুরু হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।
ফ্রিল্যান্সার, আইটি উদ্যোক্তা এবং অনলাইন ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।
আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণে জটিলতা, বেশি চার্জ এবং বিলম্ব হচ্ছে।
পেপ্যাল চালুর সম্ভাবনা যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়া।
এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় বলা হয়নি, তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে অগ্রগতি হবে।
উপসংহার
বাংলাদেশে পেপ্যাল চালুর উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক খবর। এটি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে বাস্তবতা হলো শুধু ঘোষণা নয়, কার্যকর বাস্তবায়নই আসল বিষয়।
যদি সরকার এই উদ্যোগকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নেয়, তাহলে এটি সত্যিই একটি গেম-চেঞ্জার হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ই-রিকশা কি? বুয়েটের নকশায় দেশের প্রথম নিরাপদ ই-রিকশা
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


