ঢাকা শহরে যানজট, বায়ুদূষণ এবং শব্দদূষণ দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এখন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। রাজধানীতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। হর্নের অতিরিক্ত ব্যবহার, নির্মাণকাজের শব্দ এবং উচ্চ শব্দে মাইকিংয়ের কারণে শহরের পরিবেশ ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে।
ডিএনসিসির প্রশাসক জানিয়েছেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহারের পর এবার একই ধরনের সিস্টেম শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও প্রয়োগের সম্ভাবনা দেখা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি বাস্তবায়িত হলে শব্দের মাত্রা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার মতো জনবহুল শহরে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। বিশেষ করে যেখানে আইন প্রয়োগে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেখানে এআই ভিত্তিক মনিটরিং বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
Content Summary
এআই মনিটরিং সিস্টেম কিভাবে কাজ করতে পারে
এআই ভিত্তিক শব্দ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু হলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত সেন্সরের মাধ্যমে শব্দের মাত্রা নির্ধারণ করা হবে। এই সিস্টেম নিরবচ্ছিন্নভাবে ডাটা সংগ্রহ করবে এবং রিয়েল টাইমে বিশ্লেষণ করবে।
যদি কোনো এলাকায় শব্দ নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা পাঠানো হতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পাবে। এতে করে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা হচ্ছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই প্রযুক্তি সফল হলে নগর ব্যবস্থাপনায় একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ SIM রিপ্লেসমেন্ট কর বাতিল হতে পারে, আসছে নতুন সিদ্ধান্ত
শব্দদূষণের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নগর জীবনে প্রভাব
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত শব্দের সংস্পর্শে থাকলে মানুষের শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, মানসিক চাপ এবং শ্রবণশক্তি হ্রাস অন্যতম।
ঢাকা শহরের অনেক এলাকায় শব্দের মাত্রা প্রায়ই নিরাপদ সীমা অতিক্রম করে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়ক, বাজার এলাকা এবং নির্মাণাধীন এলাকায় এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শব্দদূষণ শুধু শারীরিক সমস্যা নয়, এটি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। দীর্ঘমেয়াদে এটি নগরবাসীর জীবনমান কমিয়ে দেয়।
এ কারণে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপসংহার
রাজধানীতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা নগর ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে শব্দ পর্যবেক্ষণ আরও আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় হবে।
ডিএনসিসির এই উদ্যোগ সফল হলে ঢাকার পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে।
প্রযুক্তি, সচেতনতা এবং আইন প্রয়োগ একসাথে কাজ করলে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি কার্যকর হওয়া সম্ভব।
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


