বিআরটিসির বহরে যুক্ত হচ্ছে ২০০ ইলেকট্রিক বাস, থাকছে চার্জিং স্টেশন

বিআরটিসির ইলেকট্রিক বাস বহর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের জন্য ২০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব বাস পরিচালনার জন্য চার্জিং স্টেশন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়। সরকারি অর্থায়নে এসব বাস কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিআরটিসির ইলেকট্রিক বাস প্রকল্পের মাধ্যমে জ্বালানি ব্যয় কমানো, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে। এর পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে আধুনিক ও টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাসও এই উদ্যোগের আওতায় রাখার কথা জানানো হয়েছে।

বিআরটিসির ইলেকট্রিক বাস কেনার উদ্যোগ

২০০ বাস ও চার্জিং স্টেশন নির্মাণ

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিআরটিসির জন্য আনুমানিক ২০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনা হবে। এসব বাসের মধ্যে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষভাবে ব্যবহারের উপযোগী বাসও থাকবে। বাস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণও একই প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হবে।

সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব কাজ বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর ফলে প্রচলিত দরপত্র প্রক্রিয়ার বাইরে নির্ধারিত সরকারি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

আরও পড়ুনঃ ১৬ আগস্ট উদ্বোধন হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, চার বছরে সুবিধা পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

১০০ বাসের জন্য ৪০০ কোটি টাকার প্রস্তাব

এর আগে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালুর অংশ হিসেবে বিআরটিসির জন্য ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনা, ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি হিসেবে বরাদ্দ চেয়েছিল সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

প্রস্তাব অনুযায়ী ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কিনতে ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে। ২৫টি চার্জিং স্টেশনের জন্য ৫০ কোটি টাকা, আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও স্পেয়ার পার্টসের জন্য ৩৫ কোটি টাকা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তায় ২০ কোটি টাকা, পরিবহন ও রেজিস্ট্রেশনসহ অন্যান্য ব্যয়ে ২৫ কোটি টাকা এবং ডিপো ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা উন্নয়ন ও মেরামতে ২০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য ব্যয় ৪০০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশি কর্মীদের আকামা নিয়ে বড় সুখবর দিল সৌদি সরকার

কেন ইলেকট্রিক বাসে গুরুত্ব

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ জানিয়েছে, ইলেকট্রিক বাস চালু হলে জ্বালানি ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বায়ুদূষণ কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে গণপরিবহন পরিচালনার ব্যয়ও কমে আসতে পারে।

এই বাসগুলো ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ রুটের পাশাপাশি দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর আন্তঃনগর রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে এবং আধুনিক যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সমন্বিত, দক্ষ ও সবুজ পরিবহন করিডোর গড়ে তোলা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিআরটিসির বহরে ইলেকট্রিক বাস যুক্ত করাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

আরও পড়ুনঃ জুলাই জাদুঘরের অনলাইন টিকিট কাটবেন যেভাবে

বিআরটিসির অর্থায়ন নিয়ে যে সিদ্ধান্ত

এর আগে একই উদ্যোগের জন্য অর্থ বিভাগে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান চাওয়া হয়েছিল। তবে অর্থ বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে অর্থায়নের পরামর্শ দেয়।

বিআরটিসি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা ও নিজস্ব তহবিলের সীমাবদ্ধতার কারণে পুরো ব্যয় নিজস্ব অর্থায়নে বহন করা সম্ভব নয়। আবার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঋণ নিয়ে অর্থায়ন করলে প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত ঋণ ও সুদের চাপ তৈরি হতে পারে। জনসেবামূলক গণপরিবহনের জন্য দীর্ঘমেয়াদে এমন ব্যবস্থা টেকসই হবে না বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এ কারণে ২০২৬ থেকে ২০২৭ অর্থবছরের পরিচালন বাজেট থেকে বিআরটিসির জন্য ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি হিসেবে বরাদ্দ দিতে অর্থ বিভাগের কাছে পুনরায় আবেদন করা হয়েছিল।

বিআরটিসি জানিয়েছে, বরাদ্দ পাওয়া অর্থ নির্ধারিত খাতেই ব্যয় করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি আর্থিক বিধিবিধান এবং সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে।

পরিবহন খাতে সম্ভাব্য প্রভাব

ইলেকট্রিক বাস চালু হলে গণপরিবহনে জ্বালানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎচালিত পরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ দেশের জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীদের জন্য আরও আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই গণপরিবহন সেবা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে সবুজ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সরকারি পরিকল্পনাও এগিয়ে যাবে।

আরও পড়ুনঃ টেলিটকের বিশেষ অফার, মাত্র ৩৬ টাকায় সিম ও বিশেষ অফার

নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

WhatsApp Group Join Now
ALL SIM Offer Update Group Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Comment