ঢাকার সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি সমন্বিত ব্যবস্থার প্রস্তাব সামনে এসেছে। এর অংশ হিসেবে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি অটোরিকশা রাখার সীমা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি অটোরিকশায় জিপিএস ও জিওফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের প্রধান মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, শুধু অভিযান চালিয়ে বা অটোরিকশা ডাম্পিং করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নিবন্ধন, চার্জিং ব্যবস্থা, ব্যাটারি সোয়াপিং, জিপিএস এবং জোনভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে বাস্তবায়নের প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। রাজধানীকে আটটি জোনে ভাগ করে ভিন্ন রঙের মাধ্যমে অটোরিকশা শনাক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে পাঁচটি অটোরিকশার মালিকানা সীমা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। একই সঙ্গে অবৈধ চার্জিং বন্ধে ডিপিডিসি, ডেসকো ও ম্যাজিস্ট্রেটদের সম্পৃক্ত করে অভিযান চালানো হচ্ছে। অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে যাত্রীদের চলাচল ও নিরাপত্তার পাশাপাশি চালক ও মালিকদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সঙ্গে রেখে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথাই বলা হয়েছে।
এক এনআইডিতে সর্বোচ্চ পাঁচ অটোরিকশা রাখার প্রস্তাব
ঢাকার অটোরিকশার মালিকানা নিয়ন্ত্রণে একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাব অনুযায়ী, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে পাঁচটির বেশি অটোরিকশা নেওয়া বা গ্যারেজে রাখার সুযোগ থাকবে না।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের প্রধান মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, একজন ব্যক্তি একটি অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট সংখ্যক অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন। তবে পাঁচটির বেশি অটোরিকশার মালিকানা সীমিত করার প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অটোরিকশার মালিকানা ও গ্যারেজ ব্যবস্থাপনাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে এক ব্যক্তির কাছে বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা জমা হওয়ার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হবে।
আরও পড়ুনঃ বাংলালিংককে ইন্টারনেটের দাম আরও কমানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
জিপিএস ও জিওফেন্সিংয়ে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা
অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে শুধু সড়কে অভিযান চালানোর পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে জিপিএস ও জিওফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব রয়েছে। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে অটোরিকশার অবস্থান ও নির্ধারিত এলাকায় চলাচল পর্যবেক্ষণ করা সহজ হতে পারে।
রাজধানীকে আটটি জোনে ভাগ করে প্রতিটি এলাকার অটোরিকশাকে আলাদা রঙে শনাক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে। একই সঙ্গে অটোরিকশার চলাচল নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
চার্জিং ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। গ্যারেজে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট ব্যাটারি সোয়াপিং স্টেশন চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে অটোরিকশা ও ব্যাটারি ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুনঃ ৫৯ লাখ সুবিধাভোগীকে টিসিবি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী
অবৈধ চার্জিং বন্ধে অভিযান ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ
অটোরিকশার অবৈধ চার্জিং বন্ধে বিভিন্ন গ্যারেজে অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে ডিপিডিসি, ডেসকো এবং ম্যাজিস্ট্রেটদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অটোরিকশার চার্জিং ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা চলছে।
ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু অটোরিকশা জব্দ বা ডাম্পিং করার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তাই নিবন্ধন, মালিকানা, চার্জিং, ব্যাটারি সোয়াপিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি একসঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মানুষ মূল সড়কে যাতায়াতের জন্য অটোরিকশার ওপর নির্ভর করেন। ফলে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নগরবাসীর চলাচল ও নিরাপত্তার পাশাপাশি চালক ও সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছে। রাতারাতি বন্ধ না করে ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
আরও পড়ুনঃ সর্বজনীন পেনশনে আসছে ৬ নতুন সুবিধা, ৫৫ বছরেই পাওয়া যাবে পেনশন
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


