সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে ছয়টি নতুন সুবিধা। এর মধ্যে অন্যতম হলো পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর বিশেষ পরিস্থিতিতে জমা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ এবং ৬০ বছরের বদলে ৫৫ বছর বয়স থেকেই পেনশন পাওয়ার সুবিধা। শুধু তাই নয়, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের চতুর্থ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পর্ষদ অনুমোদন দিলেই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
বর্তমানে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস নামে চারটি স্কিম চালু রয়েছে। ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর পর এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষ নিবন্ধিত হয়েছেন। তাঁদের জমা করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
আরও পড়ুনঃ টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার: টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী
সর্বজনীন পেনশনের নতুন ছয় সুবিধা কী কী
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ছয়টি সুবিধার মধ্যে প্রথমটিতে বলা হয়েছে, পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর গ্রাহক শারীরিক বা আর্থিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে বিশেষ বিবেচনায় জমা অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। বর্তমানে একবার স্কিমে যুক্ত হলে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
দ্বিতীয় সুবিধা হিসেবে পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে পেনশনভোগী ৭৫ বছরের আগে মারা গেলে নমিনি কেবল ৭৫ বছর পর্যন্ত অবশিষ্ট সময়ের জন্য পেনশন পান।
তৃতীয় প্রস্তাবে পেনশন শুরুর বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার কথা বলা হয়েছে। এর আগে ৬০ বছর বয়সে জমা অর্থের ৩০ শতাংশ এককালীন উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
চতুর্থত, সুদভিত্তিক ব্যবস্থায় আগ্রহী নন এমন গ্রাহকদের জন্য ইসলামি পেনশন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। পঞ্চমত, গ্রাহকদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ষষ্ঠত, গ্রাহক নিবন্ধনের জন্য ব্যাংক, ডাক বিভাগ ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কমিশন ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও মুনাফার হার পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় রিজার্ভ বা কনটিনজেন্সি তহবিল গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ টেলিটকের নতুন পেশাজীবী প্যাকেজ চালু, মাত্র ৪৫ পয়সায় কল, ডাটা ও বান্ডল সুবিধা
বর্তমানে কতজন নিবন্ধিত হয়েছেন
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিমে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহক নিবন্ধিত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মোট নিবন্ধনকারীর সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৩২৭ জন।
এর মধ্যে সমতা স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন, তাঁদের জমা ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। প্রবাস স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ১ হাজার ১৭১ জন, যাদের মধ্যে নারী ৯৭ জন। এই স্কিমে জমা হয়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
আরও পড়ুনঃ
কর্তৃপক্ষ কী বলছে
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবগুলো পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপন করা হবে। পর্ষদ যেসব প্রস্তাব অনুমোদন করবে, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে কার্যক্রম চালু করা হবে।
উল্লেখ্য, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর পর থেকে নিয়মিতভাবে নতুন সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বেশি সংখ্যক মানুষ এই কর্মসূচিতে যুক্ত হবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুনঃ বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, আবেদন করবেন যেভাবে
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


