প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। সংস্থাটির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেছেন, দেশের সব ফার্মেসিতে নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা স্পষ্ট করছি যে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা যাবে না। এই নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং ও প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আলমগীর হোসেন বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে ডিজিডিএ’র ফার্মাকোভিজিল্যান্স বিভাগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, দেশে দুই লাখেরও বেশি ফার্মেসি রয়েছে। এসব ফার্মেসি যথাযথ তদারকির আওতায় না আনলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।
যেসব নির্দেশনা জারি করা হয়েছে
এর আগে গত ২১ নভেম্বর ২০২৫ সালে ডিজিডিএ একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। ‘ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩’-এর ৪০(ঘ) ধারা অনুসারে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা প্রেসক্রিপশনভুক্ত ওষুধ বিক্রি বা বিতরণ করা যাবে না। শুধুমাত্র ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) শ্রেণির ওষুধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করা যাবে।
ফার্মেসিগুলোকে অ্যান্টিবায়োটিক-জাতীয় প্রতিটি ওষুধের ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য রেজিস্টারে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে। বিক্রির সময় স্বাক্ষর ও তারিখসহ স্পষ্ট ক্যাশমেমো দিতে হবে।
ফার্মাসিস্টদের রোগীকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সম্পূর্ণ কোর্স সেবনের বিষয়ে পরামর্শ দিতে হবে। নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তর প্ল্যাটফর্ম চালু, সেবা হবে আরও সহজ ও দ্রুত
ফার্মাসিস্ট না থাকা বড় সমস্যা
আলমগীর হোসেন বলেন, শুধু অভিযান চালিয়ে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করা যাবে না। ফার্মেসিতে পেশাদার ফার্মাসিস্ট নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জানান, ভারত, মালয়েশিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ফার্মাসিস্ট ছাড়া ফার্মেসি পরিচালনা করা যায় না। বাংলাদেশে পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব মেটাতে তিন মাসের কোর্সে ‘সি-গ্রেড ফার্মাসিস্ট’ তৈরি করা হচ্ছে।
তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘এই ফার্মাসিস্টদের অনেকেরই অ্যান্টিবায়োটিক সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই।’
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে ফার্মাসিস্ট নিয়োগ করা গেলে ওষুধ বিতরণ, রোগীকে পরামর্শ দেওয়া এবং প্রেসক্রিপশন বিশ্লেষণের কাজ অনেক ভালোভাবে করা যাবে। বিষয়টি তিনি বারবার নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিতে আনার কথা জানান।
আরও পড়ুনঃ এক এনআইডিতে সর্বোচ্চ পাঁচ অটোরিকশা, জিপিএস ও জিওফেন্সিংয়ের পরিকল্পনা
প্যাকেজিংয়ে লাল মার্কিং
প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে আরেকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সব অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের প্যাকেজিংয়ে লাল মার্কিং এবং সতর্কবার্তা যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোকে বলা হয়েছে, প্যাকেজিংয়ে লিখতে হবে ‘রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া সেবন করবেন না’। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ছয় মাসের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। সময়সীমা শেষে যেসব কোম্পানি এটি বাস্তবায়ন করবে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিজিডিএ’র হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার লাইসেন্সপ্রাপ্ত খুচরা ওষুধের দোকান রয়েছে। বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির অনুমান অনুযায়ী, প্রকৃত সংখ্যা এর দ্বিগুণেরও বেশি।
২০২২ সালের মে মাসে ডিজিডিএ’র এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ওষুধ বিক্রেতার অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। তারা প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করে।
আরও পড়ুনঃ ৫৯ লাখ সুবিধাভোগীকে টিসিবি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


