পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন হাজার হাজার ঘরমুখো মানুষ। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সড়কপথে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে পরিবহন মালিক, চালক ও যাত্রীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
ডিএমপির নতুন নির্দেশনায় চালকদের জন্য কঠোর নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, একটানা দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
Content Summary
ঈদযাত্রায় চালকদের জন্য ডিএমপির নির্দেশনা
ডিএমপি জানিয়েছে, কোনো চালককে একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করা যাবে না। একইসঙ্গে দিনে আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে ক্লান্তিজনিত দুর্ঘটনা কমবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
চালকদের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির হালনাগাদ কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বা অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়াও মোবাইল ফোন ব্যবহার, ইয়ারফোনে কথা বলা কিংবা উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বয়স বের করার সফটওয়্যার দিয়ে সহজে বয়স হিসাব করার নিয়ম
অতিরিক্ত যাত্রী ও ছাদে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ
ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এবার ডিএমপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সিটের অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা যাবে না এবং বাসের ছাদে যাত্রী বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
একই আসন একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করা যাবে না। নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা আদায় করলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষ করে পণ্যবাহী ও পশুবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফেরার সময়ও এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।
যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
যাত্রীদের নির্দিষ্ট টার্মিনাল বা কাউন্টার থেকে বাসে ওঠার পরামর্শ দিয়েছে ডিএমপি। যত্রতত্র রাস্তা থেকে বাসে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।
অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিজের মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখার পাশাপাশি যাত্রার নির্ধারিত সময়ের আগেই কাউন্টারে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা না করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহনে ভ্রমণ না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ঈদযাত্রায় বাড়ছে বিশেষ ট্রেন, স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা
পথচারীদের জন্যও বিশেষ নির্দেশনা
ঈদযাত্রার সময়ে রাজধানীতে যানবাহনের চাপ বাড়ে। তাই পথচারীদের জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার করে রাস্তা পারাপারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পারাপার না করা এবং ফুটপাত ব্যবহার করার জন্যও সচেতনতা বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি। বিভিন্ন টার্মিনালে কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চালক, যাত্রী এবং পথচারীরা সচেতন থাকলে এবারের ঈদযাত্রা আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে।
আরও পড়ুনঃ অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কিনেছেন? আসল না নকল চেক করার সহজ নিয়ম
FAQS
ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো চালককে একটানা পাঁচ ঘণ্টা এবং দিনে আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো যাবে না।
না। বাসের ছাদে যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যাবে।
না। পণ্যবাহী ও পশুবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উপসংহার
ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে ডিএমপির নির্দেশনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চালক, যাত্রী এবং পরিবহন মালিক সবাই যদি নিয়ম মেনে চলেন তাহলে দুর্ঘটনা ও ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
নিরাপদ যাত্রাই হতে পারে আনন্দময় ঈদ উদযাপনের প্রথম ধাপ। তাই সচেতন থাকুন এবং নিরাপদে পরিবারের কাছে পৌঁছে যান।
আরও পড়ুনঃ ট্রেন কোথায় আছে? স্টেশনে অপেক্ষা নয় লাইভ ট্রেন লোকেশন মিলবে মোবাইলে
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
তথ্যসুত্রঃ tbsnews.net
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


