পদার্থ বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ কিভাবে ঘটেছে? বিজ্ঞানের গুরুত্ব

পদার্থ বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ কিভাবে ঘটেছে এ সম্পর্কে জানতে অনেকেই গুগল সার্চ করে থাকেন। মূলক তথ্য নিয়ে পদার্থ নিয়ে কাজ করতে গিয়েই বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞানের এই ক্রমবিকাশ। 

মানব সভ্যতার উন্নয়নে বিজ্ঞানের অবদান অস্বীকার করা যায় না। আধুনিক সভ্যতা বিজ্ঞানের ফসল বললেও ভুল হবে না। সেইসাথে বর্তমানে বিজ্ঞান যে গতিতে এগোচ্ছে বর্তমান সমাজের বেশকিছু মানুষ বিজ্ঞানকে তাল মিলিয়ে নিজেকে বিকশিত করতে পারছে না। 

তাহলে নিশ্চয়ই আপনি অনুমান করতে পারছেন বিজ্ঞান কী পরিমাণ বিকাশ ঘটেছে মানবজীবনে।

মূলত আমরা এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাকে পদার্থ বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ কিভাবে ঘটেছে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবো। 

পদার্থ বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ কিভাবে ঘটেছে? 

আপনাদের ইতিমধ্যেই বলেছি যে বর্তমান মানব সভ্যতা যে আধুনিক যুগে পদার্পণ করেছে তার জন্য পদার্থ বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ গুরুত্বকে অস্বীকার করা যাবে না কোনোভাবেই। 

এক কথায় বলে আধুনিক মানব সভ্যতায় ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে পদার্থ বিজ্ঞানের অবদান অনেক। 

আপনি যদি পদার্থ বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আপনাকে পদার্থ বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় কালকে ভাগ করে তবে এই বিষয়ে জানা সমীচীন হবে।

 পদার্থ বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় সমকালকে চারটি ভাগে ভাগ করা যায় 

  1. আদিপর্ব
  2. উত্থানপর্ব
  3. আধুনিক বিজ্ঞানের যুগ
  4. সাম্প্রতিক যুগ

পদার্থবিজ্ঞানের আদিপর্ব (মুসলিম স্বর্ণযুগ, গ্রিক, ভারতবর্ষ এবং চীন)

পদার্থ বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ কিভাবে ঘটেছে
পদার্থ বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ কিভাবে ঘটেছে

পৃথিবীতে প্রথম ধর্ম হচ্ছে মুসলিম ধর্ম। মহান আল্লাহ তা’আলা যুগে যুগে পৃথিবীতে পাঠানো পয়গম্বরদের উপর বিভিন্ন কিতাব নাযিল করেছেন মানুষকে পথ দেখানোর জন্য।

মানব জাতিকে সঠিক পথে অগ্রসর করার লক্ষ্যে আল্লাহর নাযিল করা কিতাব সমূহ বিজ্ঞান সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে। ধারণা করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ সময় পর্যন্ত বিজ্ঞানের আদি যুগ।  

তাশাহুদ বাংলা উচ্চারণ অর্থ সহ সম্পূর্ণ দোয়া

এই সময়কালে বেশ কিছু বিজ্ঞানী পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করেছেন তাদের কথা আলাদা করে বলতেই হয়।

তবে পদার্থ বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ কিভাবে ঘটেছে পৃথিবী শুরুর প্রথম লগ্ন থেকেই।

থেলিস: থেলিস একজন গ্রিক বিজ্ঞানী। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৬২৪ থেকে ৫৬৪ খ্রিস্টাব্দ সময়কাল পর্যন্ত তিনি পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন।

থেলিস নামক বিজ্ঞানী প্রথম সূর্যগ্রহন সম্পর্কিত ভবিষ্যৎবানী করেছিলেন এবং লোডস্টোনের চৌম্বক ধর্ম সম্পর্কেও তিনি অবগত ছিলেন এবং কিছু ধারণা পাওয়া যায় তার কাছ থেকে। 

পিথাগোরাস অবদান

গণিতবিদ এবং বিজ্ঞানীদের মধ্যে পিথাগোরাসের নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করার মত।

পিথাগোরাস জ্যামিতিতে বিশেষ অবদান রাখেন। জ্যামিতি ছাড়াও তিনি কম্পমান তারের ওপর তার মৌলিক কাজ করে পৃথিবী কে তারা জানান দিয়েছিলেন।

ডেমোক্রিটাস: মূলত ডেমোক্রিটাস একজন গ্রিক দার্শনিক। এই দার্শনিক প্রথম পদার্থের অবিভাজ্য একক বা এটমের ধারণা দেন বলে আমরা জানতে পারি। 

গাড়িতে উঠার দোয়া | যানবাহনে উঠার সময় কোন দোয়া পড়তে হয়

এরিস্টটল অবদান

বর্তমান বিজ্ঞানে এই মহান ব্যক্তির অবদান অনেক। মূলত মানুষ ধারণা নির্ভর হয়েই পদার্থের উপর কাজ শুরু করে। 

এমন একজন ধারণা বিদ ছিলেন, যিনি ধারণা করেছিলেন মাটি-পানি-বাতাস এবং আগুন দিয়েই সকল কিছু তৈরি। তার এই মতবাদটি সেই সময় অনেক বেশি গ্রহনযোগ্যতা পায়।

আরিস্তারাকস: সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা দেন আরিস্তারাকস। 

আল-খোয়ারিজমি: গাণিতিক সূত্র গুলো কে ব্যবহার করে বর্তমানে বিজ্ঞান বেশ এগিয়ে।  আর গাণিতিক সূত্র বীজগণিত আবিষ্কার করেন আল-খোয়ারিজমি, যিনি ইসলামী স্বর্ণযুগের কাণ্ডারি। 

হাত ধরেই বীজগণিত নতুন দিগন্তে পৌঁছায়। আল-খোয়ারিজমি লেখা বই ‘আল জাবির’ থেকেই অ্যালজেবরা শব্দটির উৎপত্তি। বীজগণিতের জনক হিসাবে অনেকে আল-খোয়ারিজমি মনে করেন। 

ইবনে আল হাইয়াম: আলোকবিজ্ঞানের জনক বলা হয় হাসান ইবনে হাইয়ামকে।মূলত আমরা কিভাবে কোন বস্তুকে দেখতে চাই এই ধারণা প্রথম তিনি আবিষ্কার করেন।

তিনি বলেন বস্তু থেকে আমাদের চোখে আলো আসলেই কেবল আমরা তাকে দেখতে পাই।

ওমর খৈয়াম: আধুনিক বীজগণিত, ইউক্লিডীয় জ্যামিতি সহ আরও অনেক বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন ওমর খৈয়াম। 

শেন কুয়ো: চীনা বিজ্ঞানী শেন কুয়ো চুম্বক নিয়ে কাজ করেছেন। ভ্রমোণের সময় কম্পাস ব্যবহার করে দিক নির্ধারণ করার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন।

বিজ্ঞানের উত্থানপর্ব

পদার্থ বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ কিভাবে ঘটেছে যুগে যুগে, তবে ১৫৪৩ সালকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া যায়।

কোপার্নিকাস নামের বিজ্ঞানী ১৫৪৩ সালে তার একটি বইয়ে সূর্যকেন্দ্রিক একটি সৌরজগতের ব্যাখ্যা দেন।

ফ্রা কোন দেশের মুদ্রা নাম | ফ্রা মুদ্রার সম্পর্কে বিস্তারিত

তবে কোপার্নিকাসের সৌরজগতের ব্যাখ্যাকে সকলের সামনে আনেন গ্যালিলিও গ্যালিলি। গ্যালিলিওকে অনেক সময় আধুনিক বিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

নিউটন নামের বিজ্ঞানীকে আমরা মোটামুটি সকল পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র হে চিনি।

বল এবং গতিবিদ্যার ভিত্তি তৈরি তার দেয়ার পাশাপাশি নিউটন বলবিদ্যার তিনটি সূত্র এবং মহাকর্ষ সূত্র দেয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞানে বিশেষ অবদান রাখেন। বিজ্ঞানী লিবনিজের সাথে নিউটন মিলে ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেন।

কাউন্ট রামফোর্ড: তাপ যে এক প্রকারের শক্তি তা প্রথম প্রমাণ করেন তিনি। 

লর্ড কেলভিন: ১৮৫০ সালে লর্ড কেলভিন তাপ গতিবিজ্ঞানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছিলেন।

কুলম্ব: ১৭৭৮ সালে কুলম্ব বৈদ্যুতিক চার্জের ভেতরকার বলের জন্য সূত্র আবিষ্কার করেন। 

ভোল্টা: ১৮০০ সালে ভোল্টা বৈদ্যুতিক ব্যাটারি আবিষ্কার করেন। 

অরস্টেড: বিদ্যুৎ প্রবাহ দিয়ে চুম্বক তৈরি করা যায় এটি অরস্টেড দেখান। ফ্যারাডে এবং হেনরি ঠিক এর বিপরীত প্রক্রিয়াটি দেখান। 

ম্যাক্সওয়েল: ১৮৬৪ সালে ম্যাক্সওয়েল দেখান যে, আলো একটি বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ।

ইয়ং: ১৮০১ সালে ইয়োং আগেই আলোর তরঙ্গধর্মের প্রমাণ করে রেখেছিলেন।

বাংলাদেশ সম্পর্কে ১০ টি বাক্য বাংলায় কীভাবে লিখবেন?

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের বর্তমান পর্যায় 

ডাল্টন, থমসন, রাদারফোর্ড, বোর: পরমানুর গঠন নিয়ে এরা যুগান্তকারী কাজ করেন।

ম্যাক্স প্লাংক: কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন ম্যাক্স প্লাংক।

সত্যেন্দ্রনাথ বসু: বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়ন তত্ত্বের সঠিক গাণিতিক ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি পদার্থবিজ্ঞানের জগতে অবদান রাখেন।

মাইকেলসন ও মোরলি: তারা দেখান যে ইথার বলতে কিছু নেই এবং আলোর বেগ স্থির এবং গতিশীল উভয় মাধ্যমেই সমান।

আইনস্টাইন: থিওরি অব রিলেটিভিটি প্রদান করেন তিনি। E = mc^2 সূত্রটির সাহায্যে তিনি দেখান যে বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

ডিরাক: এন্টি পার্টিকেলের অস্তিত্ব ঘোষণা করেন।

রন্টজেন: এক্স রে আবিষ্কার করেন।

বেকরেল: পরমানুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিক্রিয়া হচ্ছে এটা তিনি দেখান। 

পিয়ারে কুরি এবং মেরি কুরি: রেডিয়াম আবিষ্কারের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয়তার দুয়ার আরও বেশি উম্মোচিত করেন।

সাম্প্রতিক পদার্থবিজ্ঞান

হাজার হাজার বছরের বিজ্ঞান চর্চা অব্যাহত আছে এখনো। সাম্প্রতিক সময়ে এসে আবিষ্কৃত হয়েছে আরও অনেক কিছু, যা বর্তমান বিজ্ঞান, মানব জীবন যাপন ও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করেছে।

নতুন নতুন কণা, হিগজ-বোসনকে প্রমাণ করা হয়েছে এ সময়েই। ডার্ক ম্যাটার এবং দার্ক এনার্জির ধারণা নিয়ে কাজ চলছে এখনো।

এভাবেই ঘটেছে পদার্থবিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ।

আত্মকর্মসংস্থান এর ধারনা | আত্মকর্মসংস্থান তৈরির সঠিক নিয়ম

পদার্থ বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ কিভাবে ঘটেছে FAQS

পদার্থ বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ কিভাবে ঘটেছে?

প্রিয় পাঠক পদার্থ বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ ঘটেছে পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকে। তবে ১৫৪৩ শতাব্দীতে পদার্থ বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ বেশি ঘটেছে।

পদার্থ বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ কিভাবে ঘটেছে তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন?

পদার্থ বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ কিভাবে ঘটেছে তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে চাইলে আপনি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে নিজের মত করে লিখতে পারেন।

উপসংহার,

আশাকরি পদার্থ বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ কিভাবে ঘটেছে এই সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

একজন কিংবা দুইজন নয় 9000 হাজার বছরের সাধনার পর আজকের বর্তমান পদার্থ বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং যার সুফল ভোগ করছি আমরা।

যার সুফল বর্তমান বর্তমান জনগণ ভোগ করছে। বিজ্ঞানের এই ক্রমবিকাশ অব্যাহত থাকলে এখন যে কল্পনা করা হচ্ছে মানুষ চাঁদে বসবাস করে করবে তা একদিন সত্যিতে রূপান্তরিত হবে। 

মানুষ চাঁদে যাওয়া থেকে শুরু করে মঙ্গলে বসবাসের যে চিন্তাধারা করা হচ্ছে তা সকল কিছুই সম্ভব হয়েছে বিজ্ঞানের অবদানের কারণে।

ইন্টারনেট থেকে নিত্য নতুন তথ্য পেতে ও ঘরে বসে টাকা আয় করতে রেগুলার ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট।

এবং জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

আরও পড়ুনঃ

হানিফ বাস গেম ডাউনলোড কিভাবে করতে হয়?

কর্মী ব্যবস্থাপনার জনক কে?

কে প্রথম সিভিল সোসাইটির ধারনা দেন?

শাটডাউন মানে কি?

ল.সা.গু এর পূর্ণরূপ কি?

Leave a Comment

14 + 12 =