মোবাইল ডাটা দ্রুত শেষ হওয়ার ৭টি গোপন কারণ ও সমাধান জানুন

বর্তমানে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি সাধারণ অভিযোগ হলো, মোবাইল ডাটা খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। অনেকেই মনে করেন, তারা খুব কম ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তবুও ডাটা প্যাকের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ডাটা ফুরিয়ে যায়। সকালে কয়েক জিবি ডাটা কিনলেও দিনের শেষে দেখা যায় উল্লেখযোগ্য অংশ খরচ হয়ে গেছে।

আসলে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী সরাসরি ইন্টারনেট ব্যবহার না করলেও স্মার্টফোনের বিভিন্ন অ্যাপ এবং সিস্টেম সার্ভিস ব্যাকগ্রাউন্ডে ডাটা ব্যবহার করে থাকে। ফলে অজান্তেই ডাটা খরচ হতে থাকে। এই কারণগুলো সম্পর্কে জানা থাকলে সহজেই ডাটা ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব।

ব্যাকগ্রাউন্ডে ডাটা খরচের কারণ

স্মার্টফোনে থাকা অনেক জনপ্রিয় অ্যাপ সব সময় ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, জিমেইল এবং অন্যান্য অ্যাপ নতুন তথ্য সংগ্রহ, নোটিফিকেশন পাঠানো ও মেসেজ আপডেট করার জন্য নিয়মিত ডাটা ব্যবহার করে।

ব্যবহারকারী অ্যাপ না খুললেও এসব অ্যাপ সার্ভারের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যায়। এর ফলে ধীরে ধীরে ডাটা খরচ বাড়তে থাকে।

আরও পড়ুনঃ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ম্যাচ কবে কখন কোথায়

স্বয়ংক্রিয় অ্যাপ আপডেট কতটা ডাটা খরচ করে

অনেক অ্যান্ড্রয়েড ও স্মার্টফোনে অ্যাপ আপডেটের অপশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু থাকে। ফলে নতুন কোনো আপডেট আসলে ফোন নিজেই সেটি ডাউনলোড করতে শুরু করে।

কিছু জনপ্রিয় অ্যাপের আপডেটের আকার কয়েকশ মেগাবাইট পর্যন্ত হতে পারে। ব্যবহারকারী বুঝে ওঠার আগেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডাটা খরচ হয়ে যায়।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

ক্লাউড ব্যাকআপের কারণে ডাটা কমে যায় কেন

বর্তমানে অধিকাংশ স্মার্টফোন ছবি, ভিডিও, কনট্যাক্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লাউডে সংরক্ষণ করে। Google Photos, Google Drive, OneDrive কিংবা iCloud এর মতো সেবাগুলো অনেক সময় মোবাইল ডাটা ব্যবহার করেও ব্যাকআপ সম্পন্ন করে।

বিশেষ করে নতুন ছবি বা ভিডিও ধারণ করার পর ব্যাকআপ প্রক্রিয়া শুরু হলে অল্প সময়েই অনেক ডাটা ব্যবহৃত হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ আগের দামে ফিরল নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের বিদ্যুতের দর

সিস্টেম সার্ভিস ও সফটওয়্যার আপডেটের প্রভাব

শুধু অ্যাপ নয়, ফোনের অপারেটিং সিস্টেমও নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করে। নিরাপত্তা আপডেট, সিস্টেম সিঙ্ক, লোকেশন সার্ভিস এবং বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রমের জন্য ডাটা খরচ হতে থাকে।

ফলে ব্যবহারকারী সরাসরি ব্রাউজিং না করলেও ডাটা ব্যবহারের পরিমাণ বাড়তে পারে।

ম্যালওয়্যার ও হটস্পট থেকেও ডাটা খরচ হতে পারে

অনেক সময় ব্যবহারকারীরা হটস্পট চালু রেখে ভুলে যান। তখন অন্য কোনো ডিভাইস স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযুক্ত হয়ে ডাটা ব্যবহার করতে পারে।

এছাড়া ফোনে সন্দেহজনক অ্যাপ বা ম্যালওয়্যার থাকলে সেগুলো গোপনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে অস্বাভাবিক ডাটা খরচ ঘটাতে পারে। তাই নিরাপদ উৎস থেকে অ্যাপ ইনস্টল করা গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ হেলথ কার্ড নিয়ে সুখবর প্রথম ধাপে সুবিধা পাবেন যেসব জেলার মানুষ

মোবাইল ডাটা বাঁচানোর উপায়

ডাটা দ্রুত শেষ হওয়া রোধ করতে প্রথমে ফোনের Data Usage অপশন থেকে কোন অ্যাপ সবচেয়ে বেশি ডাটা ব্যবহার করছে তা পরীক্ষা করা উচিত।

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের Background Data বন্ধ রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি অ্যাপ আপডেটকে শুধুমাত্র Wi Fi ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করলে অপ্রয়োজনীয় ডাটা খরচ কমে যায়।

ক্লাউড ব্যাকআপ সেবাগুলোকেও Wi Fi Only মোডে সেট করা ভালো। এতে মোবাইল ডাটা ব্যবহার করে বড় ফাইল আপলোড হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

Data Saver Mode কেন কার্যকর

বর্তমান সময়ের অধিকাংশ স্মার্টফোনে Data Saver Mode নামে একটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে। এই ফিচার চালু করলে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অনেক অ্যাপের ডাটা ব্যবহার সীমিত হয়ে যায়।

যারা সীমিত ডাটা প্যাক ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এই সুবিধা ডাটা সাশ্রয়ের একটি কার্যকর উপায় হতে পারে।

ইন্টারনেট ব্যবহার না করলেও মোবাইল ডাটা দ্রুত শেষ হওয়ার পেছনে সাধারণত ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ, স্বয়ংক্রিয় আপডেট, ক্লাউড ব্যাকআপ এবং সিস্টেম সিঙ্কিং দায়ী থাকে।

তাই নিয়মিত ডাটা ব্যবহারের হিসাব পর্যবেক্ষণ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম বন্ধ রাখা জরুরি। সচেতনভাবে ফোনের সেটিংস ব্যবহার করলে ডাটা অপচয় অনেকটাই কমানো সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ জ্বালানি তেল সাশ্রয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা

এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

WhatsApp Group Join Now
WhatsApp Group 1 Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Comment