আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে আবারও বিয়ে করার রাস্তা বন্ধ হতে যাচ্ছে। হাইকোর্ট কাবিননামায় বর-কনের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান এবং সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করার নির্দেশনা চেয়ে রুল জারি করেছেন।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান।
কাবিননামায় কী কী তথ্য যুক্ত করতে বলা হয়েছে
রিটে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যবহৃত বাংলাদেশ ফরম নম্বর-১৬০১ বা ‘ফরম ঘ’ অনুযায়ী কাবিননামায় বর ও কনের আগের বা বিদ্যমান বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রী, বিয়ে ও তালাকের ইতিহাস, সন্তান এবং সেসব সম্পর্ক থেকে উদ্ভূত ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব বা অন্যান্য আইনগত দায়দায়িত্বের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখ ও যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা নেই।
আবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমান ফরমে বরের বিদ্যমান স্ত্রী ও সালিশি পরিষদের অনুমতি-সংক্রান্ত কিছু তথ্য চাওয়া হলেও আগের সব বিয়ে, তালাক, সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে কনের পূর্ববর্তী বৈবাহিক ইতিহাস যাচাইয়েরও সমতাভিত্তিক কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
আরও পড়ুনঃ দেশের ক্ষতির অন্যতম কারণ ইউটিউব-ফেসবুক, রাশ টানবে সরকার
তথ্য গোপনের ফলে কী হচ্ছে
রিটে উল্লেখ করা হয়, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে নতুন বিয়েতে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে প্রতারণা, পারিবারিক বিরোধ ও আইনি জটিলতার জন্ম দিচ্ছে।
একই সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিদ্যমান স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের আইনগত অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কী শাস্তি রয়েছে
দণ্ডবিধির ৪৯৫ ধারা অনুযায়ী, আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই ধারায় সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই ধরনের একটি মামলায় এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।
আরও পড়ুনঃ অভিজ্ঞতা ছাড়াই ১০০ জনকে চাকরি দেবে আড়ং, বয়স ১৮ হলেই আবেদন
ডিজিটাল ব্যবস্থায় যাচ্ছে বিবাহ নিবন্ধন
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা ডিজিটাল আনা হচ্ছে। বিবাহ নিবন্ধনের অনলাইন তথ্য পর্যায়ক্রমে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য সংরক্ষিত থাকলে একজন ব্যক্তি আগে কোথাও বিয়ে করেছেন কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হবে। কোনো ব্যক্তি এক জায়গায় বিয়ে করার পর তথ্য গোপন করে অন্য জায়গায় আবার বিয়ে করতে গেলে অনলাইনে তার আগের বিবাহের তথ্য দেখা যাবে।’
তিনি আরও জানান, এর ফলে পূর্ববর্তী স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া ওই ব্যক্তির আরেকটি বিয়ে নিবন্ধনের বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রতিরোধেও সহায়তা পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুনঃ দেশের ক্ষতির অন্যতম কারণ ইউটিউব-ফেসবুক, রাশ টানবে সরকার
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


