ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার মহিমান্বিত শিক্ষা নিয়ে আসে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কোরবানি। অনেকেই জানতে চান, কোরবানি কাদের উপর ফরজ বা ওয়াজিব হয় এবং কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে এই ইবাদত আদায় করা বাধ্যতামূলক হয়। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত, যা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সামর্থ্যবান মুসলিমদের ওপর ওয়াজিব করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।
এই নির্দেশনা থেকে কোরবানির গুরুত্ব স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। একইভাবে হাদিসেও কোরবানির গুরুত্বের কথা উল্লেখ আছে, যেখানে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
Content Summary
কতটুকু সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হবে
যে মুসলিম প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের এবং মুকিম, তার কাছে যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়।
এই সম্পদ কোরবানির নির্ধারিত দিনগুলোতে থাকা জরুরি। অর্থাৎ ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি এই সম্পদ থাকে, তাহলেই কোরবানি করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ রাজধানীর হকারদের জন্য ডিজিটাল আইডি চালু করলো ডিএনসিসি
কোরবানির জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ কতটুকু
নিসাব হলো নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ, যার মালিক হলে কোরবানি ওয়াজিব হয়।
স্বর্ণের ক্ষেত্রে প্রায় সাড়ে সাত ভরি এবং রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ভরি।
এছাড়া নগদ অর্থ, অতিরিক্ত জমি বা অলঙ্কার মিলিয়ে যদি রুপার নিসাবের সমপরিমাণ মূল্য হয়, তাহলেও কোরবানি ওয়াজিব হবে। এখানে যাকাতের মতো এক বছর পূর্ণ হওয়ার শর্ত নেই।
কার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়
যারা নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নন, তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়।
এছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক, অসুস্থ মস্তিষ্কের ব্যক্তি, মুসাফির অবস্থায় থাকা ব্যক্তি এবং যাদের কাছে প্রয়োজনীয় খরচের বাইরে অতিরিক্ত সম্পদ নেই, তাদের জন্য কোরবানি বাধ্যতামূলক নয়।
কত টাকা থাকলে কুরবানী ওয়াজিব ২০২৬
২০২৬ সালে কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট টাকার অঙ্ক নির্ধারিত নয়।
কারণ এটি স্বর্ণ ও রুপার বাজারমূল্যের ওপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে বলা যায়, সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার বর্তমান বাজারমূল্যের সমপরিমাণ সম্পদ থাকলেই কোরবানি ওয়াজিব হবে। তাই প্রতি বছর এই হিসাব কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ‘ড্র’ ফলাফল প্রকাশিত, কারা পেলেন পুরস্কার
কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার দলিল
কোরবানির ওয়াজিব হওয়ার দলিল কোরআন ও হাদিসে পাওয়া যায়।
কোরআনের আয়াতে কোরবানির নির্দেশনা রয়েছে এবং বিভিন্ন সহিহ হাদিসে এর গুরুত্ব ও বিধান ব্যাখ্যা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কোরবানি ফরজ না ওয়াজিব
ফিকহ অনুযায়ী কোরবানি ফরজ নয়, বরং ওয়াজিব।
তবে এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও এটি ত্যাগ করা অনুচিত বলে বিবেচিত হয়। তাই যারা সামর্থ্যবান, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আদায় করা উচিত।
আরও পড়ুনঃ কোরবানির ঈদ কত তারিখে 2026 । কোরবানির ঈদ কবে
কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার শর্ত কয়টি
কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হয়।
ব্যক্তিকে মুসলিম হতে হবে, প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে, সুস্থ মস্তিষ্কের হতে হবে এবং মুকিম অবস্থায় থাকতে হবে। পাশাপাশি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হবে।
কুরবানী সম্পর্কে ফতোয়া
বিশ্বস্ত ইসলামি স্কলারদের মতে, কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব ইবাদত।
ফতোয়া অনুযায়ী, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করা উচিত নয়। একই সঙ্গে শরিয়তের নিয়ম মেনে পশু নির্বাচন, জবাই এবং মাংস বণ্টন করা আবশ্যক।
আরও পড়ুনঃ আকিজের ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল, এক চার্জে চলবে ১৩০ কিমি
FAQs-
সামর্থ্যবান প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমদের ওপর ওয়াজিব।
সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্য।
গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ত্যাগ করার গুনাহ হতে পারে।
১০ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত।
দুটোই আলাদা ইবাদত, তবে নিসাবের হিসাব একই ধরনের।
উপসংহার
কোরবানি কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের প্রতীক।
যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব, তাদের উচিত এই ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করা। সঠিক জ্ঞান অর্জন করে শরিয়তের বিধান মেনে কোরবানি করলে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।
আরও পড়ুনঃ জনতা ব্যাংকের নতুন ভিসা ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড চালু, আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


