মামলা না করে ভূমি জরিপ রেকর্ড সংশোধন করার নিয়ম

বাংলাদেশে জমি সংক্রান্ত সমস্যার অন্যতম বড় কারণ হলো রেকর্ড বা খতিয়ানে ভুল তথ্য থাকা। অনেক সময় নামের বানান ভুল, দাগ নম্বর ভুল, খতিয়ান নম্বরের অসঙ্গতি কিংবা জমির পরিমাণে কমবেশি দেখা যায়। এসব সমস্যা ভবিষ্যতে জমি বিক্রি, নামজারি, উত্তরাধিকার বণ্টন কিংবা আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে।

অনেকে মনে করেন, এমন ভুল সংশোধন করতে হলে অবশ্যই আদালতে মামলা করতে হবে। বাস্তবে তা সবসময় প্রয়োজন হয় না। ছোটখাটো করণিক ভুল বা প্রশাসনিক ত্রুটি অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের মাধ্যমে সংশোধন করা সম্ভব।

এই কারণে মামলা না করে ভূমি জরিপ রেকর্ড সংশোধন করার নিয়ম জানা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে তুলনামূলক কম সময় ও কম খরচে সমাধান পাওয়া যায়।

কোন ধরনের ভুল প্রশাসনিকভাবে সংশোধন করা যায়

সব ধরনের ভুল একইভাবে সংশোধন হয় না। সাধারণত যেসব ভুল প্রশাসনিকভাবে ঠিক করা যায়, সেগুলো হলো নামের বানান ভুল, দাগ নম্বরের ছোটখাটো ভুল, খতিয়ান নম্বরের অসঙ্গতি এবং জমির অংশ বা পরিমাণে করণিক ত্রুটি।

এ ধরনের সমস্যা সাধারণত রেকর্ড প্রস্তুতের সময় লেখার ভুল বা তথ্য এন্ট্রির ত্রুটির কারণে হয়।

যদি ভুলটি মালিকানা বিরোধের মতো জটিল না হয়, তাহলে এসিল্যান্ড অফিসে আবেদন করে সমাধান পাওয়া সম্ভব।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

আরও পড়ুনঃ পাসপোর্ট আবেদন সহজ করতে নতুন নিয়ম | দালাল ছাড়াই কাজ করার উপায়

কোথায় আবেদন করতে হবে

মামলা না করে ভূমি জরিপ রেকর্ড সংশোধনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড অফিসে আবেদন করতে হয়।

অনেক ক্ষেত্রে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়া যায়।

বর্তমানে কিছু এলাকায় ই মিউটেশন পোর্টালের মাধ্যমেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

যদি জরিপের চূড়ান্ত প্রকাশের আগে ভুল ধরা পড়ে, তাহলে সেটেলমেন্ট অফিসারের মাধ্যমে দ্রুত সংশোধন সম্ভব।

কী কী কাগজপত্র লাগবে

আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে জমির মূল দলিলের অনুলিপি, ভায়া দলিল, ভুল খতিয়ানের কপি, হালনাগাদ ভূমি কর পরিশোধের রশিদ এবং প্রয়োজন হলে ওয়ারিশান সনদ।

সব নথি পরিষ্কার ও সঠিকভাবে সংযুক্ত করা জরুরি।

কারণ তদন্তের সময় এসব কাগজই মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

অসম্পূর্ণ কাগজপত্র জমা দিলে আবেদন বিলম্বিত হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ সিএস নকশা কিভাবে পাবেন: জমির পুরাতন রেকর্ড সংগ্রহের সহজ গাইড

তদন্ত ও যাচাই প্রক্রিয়া

আবেদন জমা হওয়ার পর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, কানুনগো বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্ত করেন।

তারা জমির বাস্তব অবস্থা এবং জমা দেওয়া কাগজপত্র যাচাই করে প্রতিবেদন তৈরি করেন।

এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসিল্যান্ড রেকর্ড সংশোধনের অনুমোদন দেন।

সব কিছু সঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধিত রেকর্ড বা খতিয়ান প্রদান করা হয়।

কখন আদালতে যেতে হতে পারে

যদি জরিপে ভুলভাবে অন্য কারো নাম রেকর্ড হয়ে যায় বা মালিকানা নিয়ে গুরুতর বিরোধ থাকে, তাহলে প্রশাসনিকভাবে সমাধান নাও হতে পারে।

এমন ক্ষেত্রে ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার প্রয়োজন হতে পারে।

অর্থাৎ ছোটখাটো করণিক ভুল প্রশাসনিকভাবে, আর জটিল মালিকানা বিরোধ আদালতের মাধ্যমে সমাধান হয়।

আরও পড়ুনঃ মোবাইলে খারাপ ভিডিও বা বিজ্ঞাপন বন্ধ করার উপায়

FAQs-

রেকর্ড সংশোধনে কত সময় লাগে?

সাধারণত তদন্তসহ ৪৫ দিনের মধ্যে সমাধান সম্ভব, তবে দপ্তরভেদে সময় ভিন্ন হতে পারে।

অনলাইনে আবেদন করা যায় কি?

হ্যাঁ, অনেক এলাকায় ই মিউটেশন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করা যায়।

সব ভুল কি প্রশাসনিকভাবে সংশোধন হয়?

না, গুরুতর মালিকানা বিরোধ হলে আদালতে যেতে হয়।

ওয়ারিশান সনদ কি বাধ্যতামূলক?

উত্তরাধিকারসূত্রে জমির ক্ষেত্রে এটি প্রয়োজন হতে পারে।

চূড়ান্ত প্রকাশের আগে ভুল ধরা পড়লে কী হবে?

সেটেলমেন্ট অফিসারের মাধ্যমে সহজে সংশোধন করা যায়।

উপসংহার

মামলা না করে ভূমি জরিপ রেকর্ড সংশোধন করার নিয়ম জানলে অনেকেই অপ্রয়োজনীয় আইনি জটিলতা এড়াতে পারেন।

সঠিক দপ্তরে আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং নিয়ম মেনে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে দ্রুত সমাধান পাওয়া সম্ভব।

তাই জমির রেকর্ডে ভুল দেখলে প্রথমেই প্রশাসনিক সমাধানের পথ অনুসরণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুনঃ কম দামে দ্রুতগতির ইন্টারনেট, গ্রাহকদের জন্য সুখবর

এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

WhatsApp Group Join Now
WhatsApp Group 1 Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।