বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেট ও কল সেবার মান নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। কল ড্রপ, ধীরগতির ইন্টারনেট এবং দুর্বল নেটওয়ার্ক সমস্যায় প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন লাখো ব্যবহারকারী। এই পরিস্থিতিতে মোবাইল অপারেটরদের সেবার মান যাচাই করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির একটি সিস্টেম চালু করলেও চার বছর পার হলেও এখনো প্রকাশ হয়নি কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন।
প্রায় ২১ কোটি টাকার এই প্রকল্প নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও সাধারণ গ্রাহকরা। কারণ এত বড় বিনিয়োগের পরও দেশের মানুষ এখনো কাঙ্ক্ষিত মানের মোবাইল সেবা পাচ্ছেন না।
বিশেষ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ফোরজি নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকা, ঘন ঘন কল ড্রপ এবং ইন্টারনেট ধীরগতির অভিযোগ বাড়ছেই।
Content Summary
বিটিআরসির ড্রাইভ টেস্ট প্রকল্প কী
মোবাইল নেটওয়ার্কের মান যাচাই করতে বিটিআরসি জার্মান প্রযুক্তির বিশেষ ড্রাইভ টেস্ট সিস্টেম চালু করে। এই সিস্টেমের মাধ্যমে কল ড্রপ, ভয়েস কোয়ালিটি, ইন্টারনেট স্পিড ও নেটওয়ার্ক কভারেজ পরিমাপ করা হয়।
২০২২ সালে উদ্বোধনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার পরীক্ষা চালানো হলেও এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। এতে মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে বিটিআরসির তথ্যের অমিল দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অনলাইনে নাগরিকত্ব সনদ ডাউনলোড ও আবেদন করার সম্পূর্ণ গাইড
কোথায় বেশি সমস্যা পাওয়া গেছে
বিটিআরসির পরীক্ষায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফোরজি সিগন্যাল দুর্বল পাওয়া গেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল, প্রত্যন্ত এলাকা এবং অনেক ভবনের ভেতরে নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকার তথ্য উঠে এসেছে।
টাঙ্গাইল, বগুড়া, সিলেট, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় পরীক্ষার সময় ঘন ঘন কল ড্রপ এবং দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়।
গ্রাহকদের অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক সময় কল সংযোগ পেলেও অপর প্রান্তের কথা স্পষ্ট শোনা যায় না। আবার মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারেও ধীরগতির সমস্যা দেখা দেয়।
মোবাইল অপারেটরদের অবস্থান
গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক দাবি করেছে যে বিটিআরসির পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে তাদের নিজস্ব পরীক্ষার ফলাফলের পার্থক্য রয়েছে। তাই তারা একটি সমন্বিত পরিমাপ পদ্ধতির দাবি জানিয়েছে।
অপারেটরদের মতে, নেটওয়ার্ক পরিমাপের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও প্রযুক্তিগত কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এজন্য এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুনঃ ঈদযাত্রায় বাড়ছে বিশেষ ট্রেন, স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা
গ্রাহকদের প্রত্যাশা কী
দেশে বর্তমানে ১৮ কোটির বেশি মোবাইল গ্রাহক রয়েছে। তাই গ্রাহকরা চান দ্রুত নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করা হোক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র প্রযুক্তি কিনলেই হবে না, সঠিক ব্যবহার ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে অপারেটরদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
উপসংহার
মোবাইল সেবার মান যাচাইয়ে ২১ কোটি টাকা ব্যয়ের পরও চার বছরে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
গ্রাহকরা এখন বাস্তব উন্নতি দেখতে চান। দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং নেটওয়ার্ক মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই হতে পারে এই সমস্যার সমাধান।
আরও পড়ুনঃ জমি কেনার আগে কি কি কাগজ দেখতে হয়
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
তথ্যসুত্রঃ bangla.thedailystar.net/বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


