অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। নতুন নিয়মে এসব আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরির আওতায় বিবেচনা করা হবে। ফলে নির্ধারিত প্রমাণপত্র থাকা আবেদনকারীদের জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য ঢাকায় গিয়ে অপেক্ষা করার প্রয়োজন কমবে।
জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে আগে সব আবেদন ঢাকায় এনআইডি মহাপরিচালকের অধীনে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আবেদনকারীদের ঢাকায় আসতে হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার সীমিত পরিসরে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের হাতে কিছু আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে আবেদন অনুমোদন বা বাতিলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া, প্রমাণপত্র যাচাই এবং ইলেকট্রনিক নথিভুক্তির নিয়ম অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।
শিক্ষা সনদে জন্মতারিখ সংশোধন হবে ‘ক’ ক্যাটাগরিতে
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তি করা হবে। এ ধরনের আবেদন উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা, সিনিয়র জেলা বা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং এনআইডি উইংয়ের সহকারী পরিচালক, উপপরিচালক ও পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিষ্পত্তি করতে পারবেন।
তবে শিক্ষা সনদের পাশাপাশি আবেদনের সঙ্গে অন্য কোনো প্রমাণ বা দলিল প্রয়োজন হলে বিদ্যমান স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর অনুসরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর জারি করা সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন যাচাই ও নিষ্পত্তির কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধন সহজ করল ইসি, দ্রুত মিলবে সমাধান
আবেদন অনুমোদন বা বাতিলে দিতে হবে CMS নোট
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো আবেদন ইলেকট্রনিকভাবে অনুমোদন বা বাতিল করার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে CMS এ বাধ্যতামূলকভাবে নোট দিতে হবে। এতে আবেদন নিষ্পত্তির সিদ্ধান্তের কারণ ও প্রক্রিয়া নথিভুক্ত থাকবে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক অপারেশন্স মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন নির্ধারিত ‘ক’ ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশ বিমানবাহিনী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬, জিপিএ ৪.৫০ হলেই অফিসার ক্যাডেট পদে আবেদন
মাঠপর্যায়ের আবেদন নিষ্পত্তিতে থাকবে নজরদারি
আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কাজ নিয়মিত মনিটরিং করতে বলা হয়েছে।
প্রতি মাসে দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার অন্তত তিনটি আবেদন যাচাই করা হবে। এসব আবেদন সঠিকভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, তা যাচাই করে নির্ধারিত ছকে প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। পরে সেই প্রতিবেদন পরিচালকের অপারেশন্স ইন্টারনাল অ্যাকাউন্টে পাঠাতে হবে।
আরও পড়ুনঃ সরকারি অফিসে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাধ্যতামূলক, পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে বিশেষ নির্দেশ
যেসব আবেদন ডিজি পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে
সব ধরনের জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন মাঠপর্যায়ে নিষ্পত্তি করা যাবে না। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তি করতে হবে।
একইভাবে জন্মতারিখের পাশাপাশি নিজের নাম এবং বাবা ও মায়ের নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তনের আবেদনও মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে। এসব ক্ষেত্রে একই ফিল্ডে দ্বিতীয়বার সংশোধনের সুযোগ থাকবে না বলে নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নজরদারি বাড়ছে, এআই দিয়ে শনাক্ত হবে সন্দেহজনক লেনদেন
ঢাকাকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত থেকে মাঠপর্যায়ে ক্ষমতা
এর আগে সব ধরনের জন্মতারিখ সংশোধনের এখতিয়ার ঢাকায় এনআইডির মহাপরিচালকের অধীনে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক আবেদনকারী ঢাকায় এসে ভিড় করেন। এতে এনআইডি সংশোধন সেবায় ভোগান্তি তৈরি হয়।
পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করে। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে করা নির্দিষ্ট জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অধীনে সীমিত পরিসরে ন্যস্ত করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় যাচাইযোগ্য শিক্ষা সনদ থাকা আবেদনকারীরা নিজ নিজ এলাকার নির্বাচন অফিস থেকেই দ্রুত সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে জটিল ও বড় ধরনের তথ্য পরিবর্তনের আবেদনগুলো উচ্চতর পর্যায়ে রাখায় যাচাই প্রক্রিয়াতেও নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।
আরও পড়ুনঃ নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল, লাগবে না জামানত
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


