বাংলাদেশে বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ চালু হলে ইন্টারনেটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আমিনুল হাকিমের দাবি, নতুন অপারেটররা সেবা দেওয়া শুরু করলে আইএসপিগুলো বর্তমান দামের তুলনায় প্রায় অর্ধেক দামে ব্যান্ডউইথ কিনতে পারবে। এতে সাধারণ গ্রাহকের ইন্টারনেট ব্যয় কমার সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমানে দেশে প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে কিনছে আইএসপিগুলো। বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল বাজারে এলে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের উৎস বাড়বে এবং প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। ফলে দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে জানিয়েছেন আইএসপিএবি সভাপতি। একই সঙ্গে বাড়বে সরবরাহের সক্ষমতাও।
দেশে বর্তমানে ব্যান্ডউইথের চাহিদা প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার জিবিপিএস। ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৫০ হাজার থেকে ৫৪ হাজার জিবিপিএসে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই বাড়তি চাহিদা পূরণে একাধিক সাবমেরিন ক্যাবল, আন্তর্জাতিক সংযোগ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। এতে ভবিষ্যতের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের চাহিদা পূরণ এবং সেবার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এমন উদ্যোগে ডিজিটাল সেবার ব্যয়ও কমতে পারে।
বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবলে বদলে যেতে পারে ইন্টারনেট বাজার
৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমতে পারে ব্যান্ডউইথের দাম?
আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম জানিয়েছেন, বর্তমানে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররা প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে কিনছে। বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল অপারেটররা বাজারে এলে এই খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সুযোগ তৈরি হবে।
তার মতে, নতুন আন্তর্জাতিক সংযোগ চালু হলে ব্যান্ডউইথের সরবরাহ বাড়বে। পাশাপাশি একাধিক উৎস তৈরি হওয়ায় বাজারে প্রতিযোগিতাও বাড়তে পারে। এর ফলে ব্যান্ডউইথের দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পাসপোর্ট হারালে কড়াকড়ি, নতুন নিয়ম করে পরিপত্র জারি
২০৩০ সালে ব্যান্ডউইথের চাহিদা বাড়বে
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে দেশে ব্যান্ডউইথের চাহিদা প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার জিবিপিএস।
আইএসপিএবি সভাপতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এই চাহিদা ৫০ হাজার থেকে ৫৪ হাজার জিবিপিএসে পৌঁছাতে পারে। ভবিষ্যতের এই বাড়তি চাহিদা পূরণে একাধিক সাবমেরিন ক্যাবল ও আন্তর্জাতিক সংযোগের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ টেলিকম টাওয়ার থেকে ১৬ কিমি ক্যাবল, ২,০০০ ব্যাটারি চুরি
বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব
আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বর্তমানে ভারতের কাছ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সংযোগ নেয়। একই সঙ্গে গুগল, মেটা, আকামাই ও ক্লাউডফ্লেয়ারের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সেবা ও অবকাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সংযোগ ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
আলোচনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক সংযোগের সীমাবদ্ধতা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা এবং অনুকূল নীতির অভাবে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও হাইপারস্কেলারদের বিনিয়োগে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
সাবমেরিন ক্যাবল খাতে বর্তমান বিনিয়োগ ও সক্ষমতা
আলোচনা সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি দুটি সাবমেরিন ক্যাবল, সিমিউই ৪ ও সিমিউই ৫ এ মোট ৮১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। ২০০৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটির আয় ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি এবং একই সময়ে নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকার বেশি।
তবে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে এর আগে জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সরবরাহে বর্তমানে কোনো ঘাটতি নেই। ভবিষ্যতেও ব্যান্ডউইথ সংকটের আশঙ্কা নেই বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান চাহিদার তুলনায় বেশি ব্যান্ডউইথ সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বিকাশ নগদ রকেটসহ সব মোবাইল ফিন্যান্সিয়ালে বাংলা কিউআর পেমেন্টে নতুন নির্দেশনা
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


