গত ২০ মাসে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো থেকে বিপুল পরিমাণ পাওয়ার ক্যাবল, ব্যাটারি এবং গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছে। অপারেটরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৬ হাজার মিটার পাওয়ার ক্যাবল, ২ হাজারের বেশি ব্যাটারি এবং ৫০০টির বেশি রিমোট রেডিও ইউনিট বা আরআরইউ চুরি হয়েছে। এসব চুরির কারণে টেলিকম সেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অপারেটরদের অতিরিক্ত ব্যয়ও বাড়ছে।
চুরির ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে টেলিকম টাওয়ারের ব্যাকআপ ও নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম। ব্যাটারি চুরি হলে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময় টাওয়ার সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার আরআরইউ, বিটিএস কার্ডসহ সক্রিয় সরঞ্জাম চুরি হলে নির্দিষ্ট এলাকার মোবাইল কল, ইন্টারনেট ও অন্যান্য ডিজিটাল সেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে টেলিকম অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ বা অ্যামটব। সংগঠনটি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে চোরাই সরঞ্জাম কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে অপারেটররা।
টেলিকম টাওয়ারে চুরি বাড়ায় নেটওয়ার্ক সেবায় ঝুঁকি
২০ মাসে চুরি গেছে হাজার হাজার সরঞ্জাম
অ্যামটবের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত চারটি মোবাইল অপারেটরের মোট ৭ হাজার ৯৬৪ মিটার পাওয়ার ক্যাবল, ১৯৪টি আরআরইউ, ১৭০টি বিটিএস কার্ড এবং ৭৫৬টি ব্যাটারি চুরি হয়েছে।
গ্রামীণফোনের ৭৫টি বিটিএস কার্ড চুরি হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৬টি। একই সময়ে রবির ৪৮টি এবং বাংলালিংকের ২৯টি বিটিএস কার্ড চুরি হয়েছে। গত বছর এই দুই অপারেটরের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ছিল যথাক্রমে ১০টি ও ৯টি।
পাওয়ার ক্যাবল চুরির ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। আলোচ্য সময়ে গ্রামীণফোনের ৫০৭ মিটার, রবির ৪১৭ মিটার, বাংলালিংকের ২৯১ মিটার এবং টেলিটকের ৬ হাজার ৭৪৯ মিটার ক্যাবল চুরি হয়েছে।
সক্রিয় নেটওয়ার্ক সরঞ্জামও চোরদের লক্ষ্য
অপারেটরদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগে সাধারণত পাওয়ার ক্যাবল ও ব্যাকআপ ব্যাটারি চুরি করা হলেও এখন চোরেরা আরআরইউ, এসএফপি মডিউল এবং বিটিএস কার্ডের মতো সক্রিয় নেটওয়ার্ক সরঞ্জামও খুলে নিয়ে যাচ্ছে।
এসব যন্ত্রাংশ সাধারণ বাজারে খুব বেশি ব্যবহারযোগ্য না হলেও টেলিকম নেটওয়ার্কের জন্য এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সরঞ্জাম চুরি হওয়ার পর নতুন যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, পরিবহন, স্থাপন এবং কনফিগার করতে সময় লাগে। এ সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার নেটওয়ার্ক সেবা ব্যাহত হতে পারে।
একটি মোবাইল অপারেটরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চুরি ঠেকাতে বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হলেও এখন কিছু ক্ষেত্রে সেই ক্যামেরাগুলোও চুরি হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ বিকাশ নগদ রকেটসহ সব মোবাইল ফিন্যান্সিয়ালে বাংলা কিউআর পেমেন্টে নতুন নির্দেশনা
টেলিটকের সাইটে চুরির পরিমাণ বেশি
গত ২০ মাসের হিসাবে চুরি যাওয়া প্রায় ১৬ হাজার মিটার পাওয়ার ক্যাবলের মধ্যে টেলিটকেরই প্রায় ১৪ হাজার মিটার। একই সময়ে চুরি হওয়া ২ হাজারের বেশি ব্যাটারির মধ্যে টেলিটকের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ২৪৫টি।
টেলিটকের নিজস্ব টাওয়ারের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৪৯০টি। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, টেলিটকের বিভিন্ন সাইটে ভৌত নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি থাকায় এসব স্থানে চুরির ঘটনা বেশি ঘটছে।
আরও পড়ুনঃ প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি নয়, নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
চুরি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চায় অপারেটররা
অপারেটররা নিয়মিত চুরির ঘটনা পুলিশকে জানানো, সিসিটিভি ফুটেজ দেওয়া এবং তদন্তে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে। তবে তাদের মতে, শুধু চোরদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।
চুরি হওয়া টেলিকম সরঞ্জাম যারা কিনছে এবং যেসব চক্র এসব পণ্য সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত, তাদেরও শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে অপারেটররা।
অ্যামটব জানিয়েছে, ঢাকাসহ আশপাশের বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, লালবাগ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, সাভার ও গাজীপুর এলাকায় গত কয়েক মাসে চুরির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
এ বিষয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া চিঠির অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং ডিএমপি কমিশনারের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তর প্ল্যাটফর্ম চালু, সেবা হবে আরও সহজ ও দ্রুত
নিয়মিত টেক নিউজ আপডেট মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


