শবে বরাত কবে 2026 এই প্রশ্নটি জানুয়ারি মাস এলেই বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়। কারণ শবে বরাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ রজনী, যা ইবাদত, দোয়া ও আত্মশুদ্ধির রাত হিসেবে পরিচিত।
প্রতি বছর শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে এই পবিত্র রাত পালন করা হয়, তবে তারিখ নির্ধারণ পুরোপুরি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল।
২০২৬ সালের শবে বরাতের তারিখ নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি ছিল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সর্বশেষ ঘোষণার পর বিষয়টি এখন পরিষ্কার।
এই পোস্টে আমরা জানবো শবে বরাত কবে 2026, আজ চাঁদ দেখা যায়নি কি না, আগের বছরের তারিখ, শবে বরাতের গুরুত্ব এবং ২০২৬ সালে শবে বরাতের সরকারি ছুটি আছে কিনা।
Content Summary
আজ চাঁদ দেখা যায়নি (১৯ জানুয়ারি ২০২৬)
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ সোমবার ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে রজব মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হয়েছে।
বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জানানো হয়, দেশের কোথাও চাঁদের দৃশ্যমানতা পাওয়া যায়নি।
এর ভিত্তিতে আগামী দিন থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই শবে বরাত কবে 2026 তার নির্ভুল তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
শবে বরাত কবে 2026 বাংলাদেশ
চাঁদ দেখা না যাওয়ার কারণে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শাবান মাস শুরু হবে। সে অনুযায়ী শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (মঙ্গলবার) রাতে সারাদেশে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।
অর্থাৎ, যারা জানতে চাচ্ছেন শবে বরাত কবে 2026 বাংলাদেশে, তাদের জন্য নিশ্চিত তথ্য হলো ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতই শবে বরাতের রাত। এই তারিখ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ডান চোখ লাফালে কি হয় ইসলাম কি বলে?
২০২৫ সালে শবে বরাত কবে এবং কোন দিন
অনেকে তুলনামূলকভাবে জানতে চান ২০২৫ সালে শবে বরাত কবে পালিত হয়েছিল। ২০২৫ সালে শাবান মাসের চাঁদ দেখা অনুযায়ী শবে বরাত পালিত হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, শুক্রবার দিবাগত রাতে।
প্রতি বছর হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তারিখ পরিবর্তিত হওয়ায় শবে বরাত কখনো জানুয়ারি, কখনো ফেব্রুয়ারিতে পড়ে।
তাই সঠিক তথ্য জানতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঘোষণার ওপর নির্ভর করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
শবে বরাত এর গুরুত্ব
শবে বরাত এর গুরুত্ব ইসলামে অত্যন্ত বেশি।
হাদিস অনুযায়ী এই রাতে আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের গুনাহ ক্ষমা করেন, রিজিক ও হায়াতের ফয়সালা করেন এবং পরবর্তী বছরের তাকদির নির্ধারণ করা হয়।
এই রাতে মুসলমানরা সাধারণত,
- নফল নামাজ আদায় করেন
- কুরআন তিলাওয়াত করেন
- তওবা ও ইস্তেগফার করেন
- মৃত আত্মীয়দের জন্য দোয়া করেন
শবে বরাত আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত।
আরও পড়ুনঃ ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নিয়ে মারা গেলে গুনাহ হবে কি?
শবে বরাতের ছুটি ২০২৬
সর্বোপরি, শবে বরাতের ছুটি ২০২৬ সালে থাকবে কিনা এটি অনেক চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীর সাধারণ প্রশ্ন।
সাধারণত বাংলাদেশ সরকার শবে বরাত উপলক্ষে এক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করে থাকে।
২০২৬ সালেও শবে বরাত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে পালিত হওয়ায় সম্ভাব্যভাবে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বুধবার) সরকারি ছুটি হতে পারে।
তবে চূড়ান্ত ছুটি ঘোষণা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
FAQs
শবে বরাত ২০২৬ সালে বাংলাদেশে ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে পালিত হবে।
না, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।
এই রাতে আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের গুনাহ মাফ করেন এবং ভাগ্য নির্ধারণ করেন বলে হাদিসে বর্ণিত।
শবে বরাতের পরদিন অর্থাৎ ১৫ শাবান নফল রোজা রাখা অনেক আলেমের মতে মুস্তাহাব।
সম্ভাব্যভাবে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ছুটি হতে পারে, তবে চূড়ান্ত ঘোষণা সরকার দেবে।
উপসংহার
শবে বরাত কবে 2026 এই প্রশ্নের উত্তর এখন পরিষ্কার ও নিশ্চিত।
চাঁদ দেখা না যাওয়ার কারণে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঘোষণায় নির্ধারিত হয়েছে যে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।
এই পবিত্র রাতকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো আমাদের সবার দায়িত্ব।
ইবাদত, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য শবে বরাত একটি বিশেষ সুযোগ।
আরও পড়ুনঃ টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড সেবা গ্রাম এলাকায় কিভাবে পাবেন
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


