ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বড় একটি ক্রয় অনুমোদন দিয়েছে।
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি মোট প্রায় ৮১২ কোটি ৩১ লাখ টাকার মসুর ডাল ও ভোজ্যতেল কেনার চারটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ১ কোটি নিম্নআয়ের পরিবারের কাছে স্বল্পমূল্যে ডাল ও তেল পৌঁছে দেওয়া হবে। বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Content Summary
নিম্নআয়ের মানুষের কাছে বিক্রি করতে কেনা হচ্ছে ৮১২ কোটি টাকার তেল-ডাল
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চারটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবের আওতায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মসুর ডাল এবং ভোজ্যতেল কেনা হবে।
সরকারের লক্ষ্য হলো টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্যপণ্য সরবরাহ করে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।
ভর্তুকি মূল্যে তেল ডাল পাবেন ১ কোটি পরিবার
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী স্থানীয় বাজার থেকে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন মসুর ডাল আমদানি করা হবে।
এছাড়াও স্থানীয় দরপত্রের মাধ্যমে ২ কোটি লিটার পাম অলিন এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল সংগ্রহ করা হবে। এই চারটি ক্রয়ের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮১২ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
আরও পড়ুনঃ প্রবাসীদের জন্য এনআরসিটিএ হিসাব চালু, কী সুবিধা পাবেন বাংলাদেশিরা
মসুর ডাল ও ভোজ্যতেল কেনার বিস্তারিত তথ্য
স্থানীয় প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডালের জন্য ব্যয় হবে ৮১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক উৎস থেকে কেনা ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন মসুর ডালের জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৮৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
অন্যদিকে ২ কোটি লিটার পাম অলিন তেল কেনার জন্য ব্যয় হবে ৩৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল কেনার জন্য ব্যয় হবে প্রায় ২৭৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এসব পণ্য টিসিবির গুদামে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত মূল্যে কার্ডধারী পরিবারের কাছে বিক্রি করা হবে।
টিসিবির পণ্য সরবরাহে সরকারের পরিকল্পনা
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির মসুর ডাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডাল সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে।
একইভাবে ভোজ্যতেল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ কোটি লিটার। এর মধ্যে ১৪ কোটিরও বেশি লিটার তেল ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে আসন্ন মাসগুলোতে টিসিবির কার্যক্রম আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ টিসিবি ডিলার নিয়োগে নতুন নিয়ম, বাড়ল জামানত ও কড়াকড়ি
সাধারণ মানুষের জন্য এর প্রভাব কী হবে
বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দামের ওঠানামার কারণে দেশের বাজারেও প্রভাব পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির মাধ্যমে ডাল ও তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এই উদ্যোগ। একই সঙ্গে দরিদ্র পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তাও শক্তিশালী হবে।
উপসংহার
টিসিবির জন্য ৮১২ কোটি টাকার তেল-ডাল কেনার সিদ্ধান্ত দেশের নিম্নআয়ের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
সরকারের এই পদক্ষেপ বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি, মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ টিসিবি কার্ড চেক করার নিয়ম ২০২৬ | অনলাইনে টিসিবি কার্ড চেক করবেন যেভাবে
এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
ভিজিট করুন 👉
━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━
ডিজিটাল টাচ ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন ।ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে।


