তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস, জানালেন পানিসম্পদমন্ত্রী

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। কৃষি, সেচ, নদীভাঙন রোধ এবং পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প নিয়ে নতুন আশার বার্তা দিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

তিনি জানিয়েছেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প যেভাবে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে, একইভাবে খুব শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনাও একনেকে পাস করানো হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকার

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিস্তা ব্যারাজ গেস্টহাউস মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু উত্তরাঞ্চলের জন্য নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা নদী রক্ষা এবং উন্নয়ন নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

সরকার সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে সরকার তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার গুরুত্ব

তিস্তা নদী বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানির কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হন।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদীর পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন উন্নয়ন, নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুনঃ এবার ঢাকার ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা, বদলে যাবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

প্রকল্প বাস্তবায়নে কত টাকা প্রয়োজন

মতবিনিময় সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

তিনি মনে করেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিদেশি অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন বা জিওবি ফান্ড থেকেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি আরও বাড়তে পারে।

তিস্তা আন্দোলন ও জনসম্পৃক্ততা

উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী রক্ষা ও উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। বিশেষ করে “জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই” আন্দোলন তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে এবং দীর্ঘদিনের পানিসংকট ও নদীভাঙনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুনঃ প্রধান রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হচ্ছে,  প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর

উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শুধু কৃষিখাত নয়, সামগ্রিক আঞ্চলিক উন্নয়নেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা ও নদী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে তিস্তা অববাহিকার লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

উপসংহার

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পানিসম্পদমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

যদি দ্রুত একনেকের অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করা যায়, তাহলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

আরও পড়ুনঃ রেলের টিকিটে জালিয়াতি ঠেকাতে ৭,৮১০ অ্যাকাউন্ট বন্ধ, রেলমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

এছাড়াও টেক নিউজ আপডেট নিয়মিত আপনার মোবাইলে পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ

WhatsApp Group Join Now
WhatsApp Group 1 Join Now
Telegram Group Join Now
আপনি কি কমদামে মিনিট, ইন্টারনেট ও বান্ডেল অফার খুঁজছেন!

ভিজিট করুন 👉

━ ━ ━ ━ ━ ━ ━ ━

ডিজিটাল টাচ
ফেসবুক পেইজ লাইক করে সাথে থাকুনঃ এই পেজ ভিজিট করুন
ডিজিটাল টাচ সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুনঃ এই লিংকে
Sharing Is Caring:

আমি শেখ মোঃ আমিনুল ইসলাম (সুজন)। ডিজিটাল টাচ ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক। এইচএসসি (বিজ্ঞান); চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Comment